Explanation:

Another Explanation (5):
সালোকসংশ্লেষ: আলোক নির্ভর ও আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় 🌿☀️
সালোকসংশ্লেষ একটি জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ, কিছু ব্যাকটেরিয়া এবং শৈবাল সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং পানি (H2O) থেকে শর্করা (গ্লুকোজ) তৈরি করে।
সালোকসংশ্লেষের পর্যায় ⚛️
বিজ্ঞানী ব্ল্যাকম্যান ১৯০৫ সালে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে দুটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করেন:
- আলোক নির্ভর পর্যায় (Light-dependent Phase): 🔆 এই পর্যায়ে সূর্যালোকের প্রয়োজন হয়।
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় (Light-independent Phase) বা অন্ধকার পর্যায় (Dark Phase): 🌑 এই পর্যায়ে আলোর প্রয়োজন হয় না, তবে এটি আলোক নির্ভর পর্যায়ের উপর নির্ভরশীল।
পর্যায়গুলোর বিস্তারিত 🔎
১. আলোক নির্ভর পর্যায় 🔆
- এই পর্যায়ে ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ সূর্যালোক শোষণ করে।
- শোষিত আলোকের শক্তি ব্যবহার করে পানি (H2O) ভেঙে অক্সিজেন (O2), ইলেক্ট্রন ও প্রোটন উৎপন্ন হয়। অক্সিজেন গ্যাস উপজাত হিসেবে নির্গত হয়।
- ATP (এডেনোসিন ট্রাইফসফেট) এবং NADPH (নিকোটিনামাইড এডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড ফসফেট) নামক দুটি শক্তি-সমৃদ্ধ যৌগ তৈরি হয়, যা অন্ধকার পর্যায়ে ব্যবহৃত হয়।
২. আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় / অন্ধকার পর্যায় 🌑
- এই পর্যায়ে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করায় (গ্লুকোজ) রূপান্তরিত হয়।
- ATP এবং NADPH আলোক নির্ভর পর্যায় থেকে এই পর্যায়ে শক্তি সরবরাহ করে।
- এই প্রক্রিয়াটি ক্যালভিন চক্র (Calvin Cycle) নামেও পরিচিত।
দুটি পর্যায়ের মধ্যে পার্থক্য 📊
| বৈশিষ্ট্য |
আলোক নির্ভর পর্যায় |
আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় |
| আলোর প্রয়োজন |
আছে 🔆 |
নেই 🌑 |
| স্থান |
থাইলাকয়েড মেমব্রেন (Chloroplast) |
স্ট্রোমা (Chloroplast) |
| উপাদান |
পানি, সূর্যালোক, ক্লোরোফিল |
কার্বন ডাই অক্সাইড, ATP, NADPH |
| উৎপাদন |
অক্সিজেন, ATP, NADPH |
গ্লুকোজ, ADP, NADP+ |
গুরুত্ব 🌱
সালোকসংশ্লেষ পৃথিবীর সকল জীবের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে:
- অক্সিজেন তৈরি হয়, যা প্রাণী শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করে। 🌬️
- খাদ্য তৈরি হয়, যা উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জীবের শক্তির উৎস। 🍎
- বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষিত হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। 🌍
আশা করি, সালোকসংশ্লেষের আলোক নির্ভর ও আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। 😊
Option A Explanation:
- নাম: আরনন (Arnold)
- সাল: 1957 সালে
- অধ্যায়: আলোক নির্ভর অধ্যায় (Light-dependent reactions) ও আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায় (Light-independent reactions বা Calvin cycle)
- ব্যাখ্যা:
- আরনন সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে দুইটি মূল পর্যায়ে বিভক্ত করেন:
- প্রথম পর্যায়টি হচ্ছে আলোক নির্ভর অধ্যায়, যেখানে সূর্যালোকের শক্তিকে ব্যবহার করে পানির বিভাজন ঘটে এবং আডেনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) ও নেডিএচএলএ (NADPH) তৈরি হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়টি হচ্ছে আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়, যেখানে এই শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাধ্যমে গ্লুকোজের মতো শর্করা উৎপাদিত হয়।
- তিনি এই দুই পর্যায়ের প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে সম্পর্ক ও কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করেন, যা সালোকসংশ্লেষের মূল ভিত্তি।
Option B Explanation:
- ব্ল্যাকম্যান 1905 সালে: তিনি সালোকসংশ্লেষের প্রক্রিয়াকে আলোক নির্ভর অধ্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ভাগ করেন।
Option C Explanation:
- ক্যালভিন 1949 সালে: ক্যালভিন সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে আলোক নির্ভর অধ্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায় হিসেবে দুইটি ধাপে বিভক্ত করেন।
- আলোক নির্ভর অধ্যায় (Photo-dependent phase): এই পর্যায়ে, সূর্যের আলো প্রভাবিত করে ক্লোরোফিলের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকে জৈব যৌগ সৃষ্টি হয়।
- আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায় (Light-independent phase বা Calvin cycle): এই ধাপে, আলোকের সাহায্য ছাড়াই, কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়।
Option D Explanation:
- নাম: বার্নেস
- বছর: 1898 সালে
- অধ্যায়: সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াকে আলোক নির্ভর অধ্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায় হিসেবে বিভক্ত করে ব্যাখ্যা করেন।
- ব্যাখ্যা: বার্নেস প্রথমে প্রস্তাব করেন যে, সালোকসংশ্লেষের মধ্যে আলোক নির্ভর অধ্যায় (লাইট ডিপেন্ডেন্ট রিএকশন) এবং আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায় (লাইট ইনডেপেন্ডেন্ট রিএকশন বা ক্যালভিন চক্র) পৃথকভাবে ঘটে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রক্রিয়াটির দুটি পর্যায় স্পষ্ট করেন, যা পরবর্তী গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।