ত্বা-সীন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা তাঁর শৈশব থেকেই সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা তাঁকে দেশের ও বিশ্বের নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সচেতন করে তোলে। সেই সচেতনতা থেকেই তিনি নবম শ্রেণিতে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে কলেজ জীবনে একই দাবিতে আবারও রাস্তায় নামেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষের শাস্তির মুখোমুখি হলেও প্রিফেক্ট এবং গণিত ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর সুনামের কারণে সেই সংকট থেকে তিনি রক্ষা পান।
শৈশবের স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবা করা। আইএসএসবি উত্তীর্ণ হলেও ব্যক্তিগত কারণে বিএমএ-তে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দেশপ্রেম ও ন্যায়ের দায়বদ্ধতা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৫ ও ১৭ জুলাই ক্যাম্পাসে হামলার অভিজ্ঞতার পর ভ্যাকেন্ট দেওয়া হলে তিনি মিরপুর থেকে আন্দোলনে যুক্ত থাকেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঁচু রাখেন।
৫ আগস্টের পরও তিনি আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন। ক্যাম্পাসে হামলাকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিচার, অটোমেশন, পোষ্যকোটা এবং জাকসুর তফসিল নিয়ে প্রশাসনের গড়িমসি বিরোধী আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।
এতদিন তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। তবে তাঁর বিশ্বাস—শুধু সিস্টেমের বাইরে থেকে প্রতিবাদ করাই যথেষ্ট নয়, সিস্টেমের ভেতর থেকেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাই তিনি জাকসুতে যুক্ত হতে চান, যেন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকারকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। নৈতিকতা, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এজন্য তিনি আসন্ন জাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন।