নিচের কোনটি ডায়াম্যাগনেটিক ?

ডায়ামনেটিক পদার্থ: দস্তা (Zn) এর ব্যাখ্যা
ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ হলো সেই সকল পদার্থ যা চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে সামান্য বিকর্ষিত হয়। এদের মধ্যে কোনো স্থায়ী চৌম্বকীয় মোমেন্ট থাকে না। যখন এদেরকে চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করা হয়, তখন এদের পরমাণুগুলোর ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে সজ্জিত হয় যে তারা প্রযুক্ত চৌম্বক ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে একটি দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
দস্তা (Zn) কেন ডায়াম্যাগনেটিক?
- পরমাণু গঠন: দস্তার ইলেকট্রন বিন্যাস হলো [Ar] 3d10 4s2।
- পূর্ণ অরবিটাল: দস্তার d এবং s অরবিটালগুলো সম্পূর্ণরূপে ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে। অর্থাৎ, এখানে কোনো বিজোড় ইলেকট্রন নেই। 😃
- চৌম্বক মোমেন্টের অনুপস্থিতি: বিজোড় ইলেকট্রন না থাকার কারণে, দস্তার পরমাণুতে কোনো স্থায়ী চৌম্বকীয় মোমেন্ট থাকে না।
- বহিঃস্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব: যখন দস্তাকে একটি বহিঃস্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করা হয়, তখন এর ইলেকট্রনগুলো সামান্য এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যে তারা প্রযুক্ত ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে একটি দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে এটি বিকর্ষিত হয়। 🤩
ডায়াম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্য
ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থের কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
- চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা সামান্য বিকর্ষিত। 😥
- এদের চৌম্বকীয় ভেদ্যতা (magnetic permeability) ১ এর চেয়ে কম।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে এদের চুম্বকত্বের উপর তেমন কোনো প্রভাব পরে না।
অন্যান্য ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ
দস্তা ছাড়াও আরও কিছু পরিচিত ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ রয়েছে:
- তামা (Cu)
- রূপা (Ag)
- সোনা (Au)
- পানি (H2O) 💧
- নাইট্রোজেন গ্যাস (N2)
ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থের ব্যবহার
ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থের কিছু ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
| ব্যবহার | কারণ |
|---|---|
| সুপার কন্ডাক্টর তৈরি করতে | এরা মেসনার প্রভাবের (Meissner effect) কারণে চৌম্বক ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করতে পারে। 🤓 |
| এমআরআই (MRI) যন্ত্রে | কিছু কন্ট্রাস্ট এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। |
| চৌম্বকীয় শিল্ডিং তৈরিতে | সংবেদনশীল যন্ত্রকে চৌম্বকীয় প্রভাব থেকে রক্ষা করে। 😎 |
সুতরাং, দস্তা (Zn) এর ইলেকট্রন গঠন এবং বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে এটি একটি ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ। 🎉
আরও জানতে ভিজিট করুন: উইকিপিডিয়া