তাজরী ও তাসফিয়া দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন জীবাণু দ্বারা জ্বরে আক্রান্ত। তাজরীর অণুজীবটি অকোষীয় এবং অণুচক্রিকাকে ধ্বংস
করলেও তাসফিয়ার অণুজীবটি কোষীয় এবং লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে।
(গ) উদ্দীপকের তাসফিয়ার অণুজীবটি লোহিত কণিকায় আক্রমণের চক্রটি বর্ণনা কর।(ঘ) উদ্দীপকের তাজরীর জ্বরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ কর।
Explanation: গ) উদ্দীপকের তাসফিয়ার অণুজীবটি হলো ম্যালেরিয়া পরজীবী (plasmodium)। মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় অণুজীবটি যে চক্র সম্পন্ন করে তার নাম এরিথ্রোসাইটক সাইজোগনি।
হেপাটিক বা যকৃতে ঘটিত সাইজোপনিতে সৃষ্ট মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট রক্তের লোহিত কণিকাকে আক্রমণ করার পর এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রের শুরু হয়। এতে পর্যায়ক্রমে নিম্নবর্ণিত ধাপগুলো লক্ষ্য করা যায়:
(1) ট্রোফোজয়েট: মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্ত কণিকার অভ্যন্তরে হিমোগ্লোবিন ভক্ষণ করে আকারে বড়ো ও গোলাকার হয়। এক নিউক্লিয়াসযুক্ত পরজীবী এ দশাকে ট্রোফোজয়েট বলে।
(ii) সিগনেট রিং: লোহিত কণিকার অভ্যন্তরে খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি লাভের সাথে সাথে ট্রোফোজয়েট- এর কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কোষগহ্বরটি ধীরে ধীরে বড়ো হয়। ফলে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একপাশে সরে যায়। এ অবস্থাকে সিগনেট রিং বলে।
(iii) অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট: পরজীবীটি ক্ষণপদবিশিষ্ট অ্যামিবার আকৃতি ধারণ করে। তাই একে অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট বলে। ট্রোফোজয়েট হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন উপাদানকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং হিমাটিন বিষাক্ত হিমোজয়েন- এ পরিণত হয়। এ সময় লোহিত কণিকাটি আকারে বড়ো হয় এবং এদের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা দেখা যায়। এ দানাগুলোকে সাফনার্স দানা বলে। রক্তকণিকায় সাফনার্স দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়।
(iv) সাইজন্ট: অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট-এর ক্ষণপদ ক্রমে বিলীন হয়ে যায় ১২-১৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট পরজীবীকে সাইজন্ট বলে।
(v) মেরোজয়েট: সাইজন্ট বিভক্ত হয়ে ১২-১৮টি গোলাকার কোষে পরিণত হয়। এদেরকে মেরোজয়েট বলে। মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয়। পরজীবী এ অবস্থাকে রোজেট (rosset) বলে। লোহিত কণিকার আবরণ ভেঙ্গে প্লাজমায় মুক্ত হয় এবং নতুন লোহিত কণিকা আক্রমণ করার মাধ্যমে একইভাবে চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
ঘ) তাজরীর জ্বরটির নাম 'ডেঙ্গু জ্বর' যা ডেঙ্গি ভাইরাসের আক্রমণে হয়। ভাইরাসটির বাহক হলো Aedes aegypti & Aedes albopictus এডিস মশকী। রোগটির প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিম্নরূপ:
প্রতিকার/চিকিৎসা:
(i) ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দিলে মারাত্মক পরিণতি দেখা দিতে পারে, তাই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না। ব্যথা ও জ্বর বিকানোর কমানোর জন্য জন্য প্যারাসিটামল প্যারাসিটামল জাতীয় জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। রক্তের সাম্যতা রক্ষার জন্য প্লেটিলেট ট্রান্সফিউশন এর প্রয়োজন পড়ে।
(ii) রোগীকে প্রচুর পানি, ফলের রস ও তরল খাবার দিতে হবে।
(iii) মাথায় পানি ঢালা, গায়ের ঘাম মুছে দেয়া, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দেয়া রোগীর জন্য ফলদায়ক হয়।
(iv) দুগ্ধ পোষ্য শিশুদের অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
(v) এছাড়া গর্ভবর্তী মায়েদের ডেঙ্গু হলে অন্যান্য রোগীর মতোই যত্ন নিতে হবে।
প্রতিরোধ: ডেঙ্গু মশা নিধন করাই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, কাজেই দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে। রোগ প্রতিরোধে দিনের বেলায় মশারী টানিয়ে ঘুমানো, মশার কয়েল অথবা ইলেকট্রিক ভ্যাপার ম্যাট ব্যবহার করতে হবে, যাতে মশা কামড়াতে না পারে। এই মশা ময়লা পানিতে জন্মায় না, বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন কনটেইনারে (ফুলের টব, ভাঙ্গা হাঁড়ি পাতিল, ডাবের খোসা, ড্রাম ইত্যাদি) রক্ষিত বা সঞ্চিত পরিষ্কার পানিতে জন্মায়, তাই পানির এসব উৎস ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ পানি জমতে না দেয়া। এডিস মশা গড়ে ২১ দিন বাঁচে। তাই একই সাথে লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনের জন্য নিয়মিত পতঙ্গনাশক স্প্রে করে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। সম্প্রতি আমেরিকার ফ্লোরিডাতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিতে পতঙ্গনাশক ছাড়াই রোগীর অবস্থা জটিল হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে। ডেঙ্গু মশা নিধনের ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে।
হেপাটিক বা যকৃতে ঘটিত সাইজোপনিতে সৃষ্ট মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট রক্তের লোহিত কণিকাকে আক্রমণ করার পর এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রের শুরু হয়। এতে পর্যায়ক্রমে নিম্নবর্ণিত ধাপগুলো লক্ষ্য করা যায়:
(1) ট্রোফোজয়েট: মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্ত কণিকার অভ্যন্তরে হিমোগ্লোবিন ভক্ষণ করে আকারে বড়ো ও গোলাকার হয়। এক নিউক্লিয়াসযুক্ত পরজীবী এ দশাকে ট্রোফোজয়েট বলে।
(ii) সিগনেট রিং: লোহিত কণিকার অভ্যন্তরে খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি লাভের সাথে সাথে ট্রোফোজয়েট- এর কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কোষগহ্বরটি ধীরে ধীরে বড়ো হয়। ফলে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একপাশে সরে যায়। এ অবস্থাকে সিগনেট রিং বলে।
(iii) অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট: পরজীবীটি ক্ষণপদবিশিষ্ট অ্যামিবার আকৃতি ধারণ করে। তাই একে অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট বলে। ট্রোফোজয়েট হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন উপাদানকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং হিমাটিন বিষাক্ত হিমোজয়েন- এ পরিণত হয়। এ সময় লোহিত কণিকাটি আকারে বড়ো হয় এবং এদের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা দেখা যায়। এ দানাগুলোকে সাফনার্স দানা বলে। রক্তকণিকায় সাফনার্স দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়।
(iv) সাইজন্ট: অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট-এর ক্ষণপদ ক্রমে বিলীন হয়ে যায় ১২-১৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট পরজীবীকে সাইজন্ট বলে।
(v) মেরোজয়েট: সাইজন্ট বিভক্ত হয়ে ১২-১৮টি গোলাকার কোষে পরিণত হয়। এদেরকে মেরোজয়েট বলে। মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয়। পরজীবী এ অবস্থাকে রোজেট (rosset) বলে। লোহিত কণিকার আবরণ ভেঙ্গে প্লাজমায় মুক্ত হয় এবং নতুন লোহিত কণিকা আক্রমণ করার মাধ্যমে একইভাবে চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
ঘ) তাজরীর জ্বরটির নাম 'ডেঙ্গু জ্বর' যা ডেঙ্গি ভাইরাসের আক্রমণে হয়। ভাইরাসটির বাহক হলো Aedes aegypti & Aedes albopictus এডিস মশকী। রোগটির প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিম্নরূপ:প্রতিকার/চিকিৎসা:
(i) ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দিলে মারাত্মক পরিণতি দেখা দিতে পারে, তাই এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না। ব্যথা ও জ্বর বিকানোর কমানোর জন্য জন্য প্যারাসিটামল প্যারাসিটামল জাতীয় জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। রক্তের সাম্যতা রক্ষার জন্য প্লেটিলেট ট্রান্সফিউশন এর প্রয়োজন পড়ে।
(ii) রোগীকে প্রচুর পানি, ফলের রস ও তরল খাবার দিতে হবে।
(iii) মাথায় পানি ঢালা, গায়ের ঘাম মুছে দেয়া, ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দেয়া রোগীর জন্য ফলদায়ক হয়।
(iv) দুগ্ধ পোষ্য শিশুদের অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
(v) এছাড়া গর্ভবর্তী মায়েদের ডেঙ্গু হলে অন্যান্য রোগীর মতোই যত্ন নিতে হবে।
প্রতিরোধ: ডেঙ্গু মশা নিধন করাই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, কাজেই দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে। রোগ প্রতিরোধে দিনের বেলায় মশারী টানিয়ে ঘুমানো, মশার কয়েল অথবা ইলেকট্রিক ভ্যাপার ম্যাট ব্যবহার করতে হবে, যাতে মশা কামড়াতে না পারে। এই মশা ময়লা পানিতে জন্মায় না, বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন কনটেইনারে (ফুলের টব, ভাঙ্গা হাঁড়ি পাতিল, ডাবের খোসা, ড্রাম ইত্যাদি) রক্ষিত বা সঞ্চিত পরিষ্কার পানিতে জন্মায়, তাই পানির এসব উৎস ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ পানি জমতে না দেয়া। এডিস মশা গড়ে ২১ দিন বাঁচে। তাই একই সাথে লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনের জন্য নিয়মিত পতঙ্গনাশক স্প্রে করে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। সম্প্রতি আমেরিকার ফ্লোরিডাতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিতে পতঙ্গনাশক ছাড়াই রোগীর অবস্থা জটিল হলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে। ডেঙ্গু মশা নিধনের ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে।