বিদ্যুৎ পরিবাহিতার একক কোনটি?
বিদ্যুৎ পরিবাহিতার একক: সিমেন্স (Siemens)
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা (Electrical Conductance) হলো কোনো বস্তুর বিদ্যুৎ পরিবহন করার সক্ষমতা। এর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একক হলো সিমেন্স (Siemens), যাকে S প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পূর্বে একে মো (Mho) বলা হতো, যা ওহমের (Ohm) উল্টো।
সিমেন্স: বিস্তারিত
- সংজ্ঞা: কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের মধ্যে বিভব পার্থক্য ১ ভোল্ট (Volt) হলে যদি তার মধ্য দিয়ে ১ অ্যাম্পিয়ার (Ampere) বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ পরিবাহীর পরিবাহিতা হলো ১ সিমেন্স।
- গাণিতিক সম্পর্ক: পরিবাহিতা (G) = 1 / রোধ (R)। অর্থাৎ, G = 1/R
- এককের বিশ্লেষণ: ১ সিমেন্স = ১ অ্যাম্পিয়ার / ১ ভোল্ট (1 S = 1 A/V)
- গুরুত্ব: বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সার্কিট ও ডিভাইসের কর্মক্ষমতা বুঝতে এবং ডিজাইন করতে সহায়ক।
বিভিন্ন পদার্থের পরিবাহিতা
| পদার্থ | পরিবাহিতা (S/m) |
|---|---|
| রূপা (Ag) 🥈 | ৬.৩ x ১০৭ |
| তামা (Cu) 🥉 | ৫.৯৬ x ১০৭ |
| স্বর্ণ (Au) 🥇 | ৪.৫ x ১০৭ |
| অ্যালুমিনিয়াম (Al) | ৩.৭৭ x ১০৭ |
| লোহা (Fe) | ১.০ x ১০৭ |
পরিবাহিতা এবং রোধের মধ্যে সম্পর্ক
পরিবাহিতা এবং রোধ একে অপরের বিপরীত। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর রোধ যত বেশি, তার পরিবাহিতা তত কম। 🤔 বিষয়টিকে এভাবেও বলা যায় -
- উচ্চ পরিবাহিতা = নিম্ন রোধ (High Conductance = Low Resistance)
- নিম্ন পরিবাহিতা = উচ্চ রোধ (Low Conductance = High Resistance)
ব্যবহারিক উদাহরণ
বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট বোর্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট তৈরিতে পরিবাহিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো পরিবাহী পদার্থ (যেমন তামা, রূপা) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব। 💡
পরিশেষে, সিমেন্স হলো বিদ্যুৎ পরিবাহিতার একক এবং এটি বৈদ্যুতিক প্রকৌশল এবং পদার্থবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত। 👍
আরও জানতে ভিজিট করুন: উইকিপিডিয়া 🌐
ধন্যবাদ! 🙏