\(F_{1}\) জনুর সন্তানদের অনুরূপ জিনোটাইপধারী (কারণ মানুষে ভাই-বোনের বিয়ে হয় না) স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন
পুরুষের সাথে বর্ণান্ধবাহক মহিলার বিয়ে হলে ঐ মহিলার চার সন্তানের মধ্যে দুজন স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন কন্যা (এদের
মধ্যে এক কন্যা বর্ণান্ধতার বাহক), একজন স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন পুত্র এবং একজন বর্ণান্ধ পুত্র জন্ম লাভ করবে।
বর্ণান্ধতা রোগের প্রচ্ছন্ন জিনটি বংশপরম্পরায় পিতা থেকে কন্যার মাধ্যমে পৌত্রকে আক্রান্ত করে। একে ক্রিসক্রস
ইনহেরিট্যান্স (criss cross inheritance) বলে।
মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা বেশি বর্ণান্ধ হওয়ার কারণ-
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮% পুরুষ এবং ০.৫% মহিলা বর্ণান্ধ। কারণ-
১. বর্ণান্ধতার জিন X ক্রোমোজোমে অবস্থিত ও প্রচ্ছন্ন প্রকৃতির হওয়ায় মহিলাদের ক্ষেত্রে কেবল হোমোজাইগাস
অবস্থায় (\(X^{c}X^{c}\)) বর্ণান্ধতা প্রকাশ পায় কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে X ক্রোমোজোমে বর্ণান্ধের জিন থাকলেই (\(X^{c}Y\)) বর্ণান্ধতা
প্রকাশ পায়।
২. মহিলাদের ক্ষেত্রে দুটি ক্রোমোজোমের একটিতে বর্ণান্ধের জিন থাকলে (\(X^{C}X^{c}\)) তা বর্ণান্ধ প্রকাশ ঘটাতে
পারে না ফলে মহিলা স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হয় কিন্তু বর্ণান্ধতার জিন বহন করে।
এ কারণে মহিলাদের তুলনায় পুরুষ
বেশি বর্ণান্ধ হয়। বর্ণান্ধতার কোনো চিকিৎসা নেই এবং বর্ণান্ধ রোগী কখনই সুস্থ হয় না।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইশিহারা
কালার টেস্ট (Ishihara Color Test) দ্বারা লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা রোগটি শনাক্ত করা যায়।