যে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে জীবের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়, তাকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
এ
ক্রোমোজোমগুলোকে সাধারনত X ও Y বা ক্রোমোজোম নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
মানুষের প্রতিকোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২২ জোড়া উভয় লিঙ্গে একই রকম এবং
সেগুলোকে অটোজোম (autosome) বলে।
কিন্তু ২৩তম জোড়ার ক্রোমোজোম নারী ও পুরুষ সদস্যে ভিন্নতর এবং
এগুলোকে হেটারোজোম (heterosome) বা সেক্স ক্রোমোজোম (sex chromosome) বলে।
নারী সদস্যে যেসব গ্যামেট সৃষ্টি হয় তাতে শুধু X ক্রোমোজোম থাকে।
এ কারণে নারীকে হোমোগ্যামেটিক সেক্স
এবং এসব গ্যামেটকে হোমোগ্যামেট বলে। অন্যদিকে, পুরুষ সদস্যে দুধরনের গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
এক ধরনের গ্যামেটে
থাকে X ক্রোমোজোম, অন্য ধরনের গ্যামেটে থাকে Y ক্রোমোজোম।
পুরুষকে তাই হেটারোগ্যামেটিক সেক্স এবং
এসব গ্যামেটকে হেটারোগ্যামেট বলে।
পুরুষ হেটারোগ্যামেসিস প্রক্রিয়া নিচে বর্ণিত দুরকম।
১. XX-XY পদ্ধতি
(মানুষ, ড্রসোফিলাসহ বিভিন্ন ধরনের পতঙ্গ এবং গাঁজা, তেলাকুচা প্রভৃতি উদ্ভিদের লিঙ্গ নির্ধারণ)
এ পদ্ধতি অনুযায়ী স্ত্রী হোমোগ্যামেটিক বা XX এবং পুরুষ হেটারোগ্যামেটিক বা XY। স্ত্রী মাত্র এক ধরনের
ডিম্বাণু (X) উৎপন্ন করে।
কিন্তু পুরুষ দুরকমের শুক্রাণু (X এবং Y) সৃষ্টি করে। X-বাহী ডিম্বাণুর সাথে X-বাহী শুক্রাণুর
মিলন হলে কন্যা (XX) সন্তান এবং X-বাহী ডিম্বাণুর সাথে Y-বাহী শুক্রাণুর মিলন হলে পুরুষ (XY) সন্তানের জন্ম
হবে।
২. XX-XO পদ্ধতি
(ঘাস ফড়িং, ছারপোকা প্রভৃতি পতঙ্গ ও Dioscorea শ্রেণির উদ্ভিদের লিঙ্গ নির্ধারণ)
ফড়িং, ছারপোকা প্রভৃতি পতঙ্গে XX-XO
পদ্ধতির লিঙ্গ নির্ধারণ হয়। এখানে স্ত্রী
হোমোগ্যামেটিক অর্থাৎ XX সেক্সক্রামোজোম-
বিশিষ্ট।
কিন্তু পুরুষে Y ক্রোমোজোম অনুপস্থিত। স্ত্রীর
ক্রোমোজোম \(2A+XX\) এবং পুরুষের ক্রোমোজোম
\(2A+XO\) (Y না থাকায় 'O' শূন্য লেখা হয়)।
স্ত্রী
হোমোগ্যামেটিক, কাজেই সমস্ত ডিম্বাণু একই ধরনের
\((A+X)\)। কিন্তু পুরুষে দুধরনের গ্যামেট \([(A+X)\)
এবং \((A+O)]\) উৎপন্ন হয়।
প্রথম প্রকারের শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলনে স্ত্রী
সন্তান \((2A+XX)\), কিন্তু দ্বিতীয় প্রকার শুক্রাণুর সাথে
ডিম্বাণুর মিলনে পুরুষ সন্তানের \((2A+XO)\) জন্ম হয়।
উদ্ভিদে সচরাচর এ ধরনের লিঙ্গ নির্ধারণ দেখা
যায় না। তবে Dioscorea sinuata উদ্ভিদে এ ধরনের
লিঙ্গ নির্ধারণ দেখা যায়।