সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

বিবর্তন বা অভিব্যক্তি (Evolution)

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_5_7.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_5_7.jpg
বিবর্তনতত্ত্বের ধারণা (The Concept of Evolution)
বিশাল পৃথিবীর বুকে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যেসব উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমারোহ দেখা যায় সেগুলো ইতোপূর্বে
বিদ্যমান সরল প্রকৃতির জীব থেকে ক্রমপরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে, এ ধারণাকে জৈব বিবর্তন বাদ (the theory
of organic evolution) বলে।
আধুনিক বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে সূর্যের বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে পৃথিবীর উদ্ভব
ঘটেছে।
উৎপত্তির প্রথম অবস্থায় এটি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডবিশেষ ছিল, বিকিরণের ফলে ধীরে ধীরে শীতল হয়েছে এবং
জলীয় বাষ্প থেকে ঘন মেঘের সৃষ্টি হয়েছে।
মেঘ থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে কালক্রমে জলভাগগুলোর সৃষ্টি হয়। মেঘাচ্ছন্ন
এ পরিবেশে হঠাৎ সূর্যের আলো পেয়ে পানিতে অবস্থিত অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক উপাদান সংমিশ্রিত হয়ে
আকস্মিকভাবে অজানা প্রক্রিয়ায় প্রোটোপ্লাজম এর উদ্ভব ঘটে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের পরবর্তী বহু বছরে পরিবেশ
আরও পরিবর্তিত হয়ে কালক্রমে প্রোটোপ্লাজম থেকে প্রথমে এককোষী উদ্ভিদ ও পরে কতকগুলো উদ্ভিদের দেহ থেকে
মিউটেশন (mutation)-এর ফলে ক্লোরোফিল বিনষ্ট হয়ে প্রাণীর উদ্ভব ঘটে।
ক্রমান্বয়ে এককোষী উদ্ভিদ ও প্রাণী
বহুকোষী উদ্ভিদ ও প্রাণীতে পরিণত হয় এবং এদের ক্রমবিকাশের ফলে বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদ্ভব হয়।
পূর্ব থেকে বিদ্যমান এমন সরল জীব পরিবেশের সাথে অনুকূলতা রক্ষাকল্পে ধীরগতিতে সার্বক্ষণিকভাবে
দৈহিক পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে নতুন জীবে রূপান্তরিত হওয়াকে জৈব বিবর্তন বা অভিব্যক্তি (organic
evolution) বলে।
বিবর্তনের ইংরেজী Evolution শব্দটি প্রকৃত পক্ষে ল্যাটিন শব্দ \evolvere” অর্থ বিকশিত হওয়া বা
ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হওয়া শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
জীবজগতে যে বিবর্তন ঘটছে এ প্রত্যয় জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে জন্মেছে বহু আগেই।
কিন্তু ঠিক কীভাবে বিবর্তন হচ্ছে
এ ব্যাপারে কেউ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
এ মতানৈক্যের মূল কারণ হলো বিবর্তন অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া যা সহজে
অনুধাবন ও অবলোকন করা যায় না এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করাও সম্ভব নয়।
কয়েকজন প্রাচীন গ্রিক
দার্শনিক তাঁদের লেখায় বিবর্তন সম্বন্ধে কিছু কাল্পনিক ধারণা রেখে গেছেন।
আধুনিক বিজ্ঞানীরা সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে বিবর্তনের ফলেই নতুন নতুন জীবের
সৃষ্টি হয়েছে।
বিবর্তনের ধারণা আধুনিককালের হলেও দেখা যায় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা বিবর্তন সম্বন্ধে অনেক আগেই
চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন।
এম্পেডোক্লিস (Empedocles 495-435 B.C)-কে বিবর্তনের জনক বলে অভিহিত করা
হয়।
যোগ্যতমের আকস্মিক সৃষ্টি এবং অযোগ্যের বিলুপ্তি সম্বন্ধে তিনি জোরালো ধারণা পোষণ করতেন।
ডেমোক্রিটাস
(Democritus 460-357 B.C.) এ ধারণা পোষণ করতেন যে শরীরের যে কোন অঙ্গ পরিবেশের সাথে অভিযোজিত
হয়।
বিখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle 384-322 B.C)-এর মনেও এ ধারণা জন্মেছিল যে নিম্নস্তরের জীব
কতকগুলো ধারাবাহিক নিয়মের মধ্য দিয়ে উন্নতির পথে অগ্রসর হয়েছে।
অ্যারিস্টটলের পরে ফরাসি বিজ্ঞানী বুফোন
(Buffon 1707-1788) মত প্রকাশ করেন যে পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবেরও পরিবর্তন হচ্ছে।
বিবর্তনের ধাপসমূহ
বিবর্তনে নিচে বর্ণিত তিনটি ধাপ পরিলক্ষিত হয়-
১. মাইক্রো-বিবর্তন (Micro-evolution): পরিব্যক্তি বা মিউটেশন (mutation) প্রকরণ (variation) ইত্যাদির
ফলে জিন (gene)-এ সংঘটিত পরিবর্তনগুলো এ ধরনের বিবর্তন সৃষ্টি করে।
এর ফলে বিভিন্ন জাত (race) ভ্যারাইটি
বা উপপ্রজাতির সৃষ্টি হয়।
২. ম্যাক্রো-বিবর্তন (Macro-evolution) : উপপ্রজাতির ধাপ অতিক্রম করে প্রজাতি সৃষ্টির বিবর্তনকে বলা হয়
ম্যাক্রো-বিবর্তন।
৩. মেগা-বিবর্তন (Mega-evolution): পরিব্যক্তির ফলে অনেক সময় ধরে বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত পরিবর্তন
যার ফলে মেজর ট্যাক্সাগুলো (গোত্র বর্গ শ্রেণি ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়।"