সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

ল্যামার্কিজমের সমালোচনা বা ত্রুটিসমূহ

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_6_3.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_6_3.jpg
জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন
৪৯১
ল্যামার্কিজমের সমালোচনা বা ত্রুটিসমূহ
ল্যামার্কবাদের/ল্যামার্কিজমের ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ১ম ও ৪র্থ নং প্রতিপাদ্য বিষয় বা সূত্র অর্থাৎ অন্তঃজীবনী শক্তি জীবের আকার বৃদ্ধি করতে চায় ও অর্জিত গুণাবলীর উত্তরাধিকার অধিক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। ডডসন, পলক্যামারার, ম্যাকডোগাল প্রমূখ বিজ্ঞানী ল্যামার্কের মতবাদকে সমর্থন করে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেন। তাঁরা নিও-ল্যামার্কিয়ান (neo-lamarckian) বা নব্য-ল্যামার্কবাদী নামে পরিচিত। তাঁদের ধারণাকে নিও ল্যামার্কীজম (neo-lamarckism) বলে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীকালে ল্যামার্ক এর মতবাদের বিপক্ষে যে তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নরূপ-
১. ক্রমাগত ব্যবহারে সুগঠিত পেশির অধিকারী কোনো ব্যায়ামবিদের সন্তান শক্তিশালী পেশির অধিকারী হবে এর কোনো কারণ নেই।
২. অগাস্ট ভাইজম্যান (August Weismann, 1834-1914) নামক একজন জার্মান বিজ্ঞানী ইঁদুর নিয়ে গবেষণাকালে কিছু পুরুষ ও স্ত্রী ইঁদুরের লেজ কেটে বাক্সে ছেড়ে দেন। এদের মিলনে যেসব ইঁদুর জন্মে তাদের সবগুলোর লেজ ছিল স্বাভাবিক। এরূপে ২২ প্রজন্ম (generation) পর্যন্ত ইঁদুরের লেজ কেটে পরীক্ষা চালানো শেষে তিনি দেখেন যে, কাটা লেজবিশিষ্ট কোন ইঁদুরই জন্মায়না। এভাবে তিনি ল্যামার্কের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেন।
৩. পেইন (Payne) ড্রসোফিলা (Drosophila) মাছি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, ৭৫টি প্রজন্ম ধরে চারদিকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে লালন পালন করার পরেও তাদের বাচ্চাগুলো অন্ধ হয়ে জন্মায় না।
৪. ভারতীয় উপমহাদেশে মহিলাগণ দীর্ঘ দিন থেকে কান ও নাক ছিদ্র করে আসছেন। কিন্তু তাদের কোনো সন্তানই ছিদ্রযুক্ত কান ও নাক নিয়ে জন্মায় না।
৫. মুসলমান ও ইহুদী বালকদের লিঙ্গের অগ্রভাগের প্রিপিউস (prepuce) নামক চামড়া কেটে ফেলা হলেও পরবর্তী বংশধরদের মধ্যেও এর আবির্ভাব ঘটে।
৬. ব্যবহারের ফলে জীব ও তার অঙ্গ আকারে বৃদ্ধির পরিবর্তে অনেক সময় ছোট হতেও দেখা যায়।
৭. অভাববোধ ও প্রয়োজনের তাগিদে অঙ্গ সৃষ্টির ধারণা সমর্থনযোগ্য নয়। আকাশে উড়বার আকাঙ্ক্ষায় কোন মানুষের মনে পাখির মতো ডানার জন্য অভাব বোধ জাগলেও মানুষের দেহে কখনো ডানা গজাবে না।
জিনতত্ত্বের দ্রুত অগ্রগতির ফলে কিভাবে বৈশিষ্ট্যগুলো পিতামাতা থেকে সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয় এবং কিভাবে জীবদেহে পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবের উদ্ভব হয় সে সম্বন্ধে বর্তমানে ধারণা স্পষ্ট। ল্যামার্কের মতবাদ অনুসারে ব্যবহার ও অব্যবহারের ফলে অর্জিত বৈশিষ্ট্যসমূহ দেহকোষের পরিবর্তনের ফলে উদ্ভব ঘটে। বিবর্তনতত্ত্বে প্রথম পথপ্রদর্শক হলেও ল্যামার্কের এ ধারণা সত্য নয়। বর্তমানে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, বংশগতির ধারায় দেহকোষের কোনো ভূমিকা নেই। কেবল যেসব পরিবর্তন জননকোষের পরিবর্তনের জন্য সৃষ্টি হয় সেসব পরিবর্তনজনিত অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়।
উপসংহার: ল্যামার্কের মতবাদ অবৈজ্ঞানিক এবং গ্রহণযোগ্য না হলেও ল্যামার্কই প্রথম নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতে পরিবেশ ও বিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবন করেন এবং তিনিই বিবর্তনবাদের প্রথম পথপ্রদর্শক।