কোষ ও এর গঠন
১৯
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম, প্লাজমামেমব্রেন বা কোষের বাইরে ব্যবহার্য প্রোটিন
যুক্ত-রাইবোসোমে উৎপন্ন হয়।
মুক্ত-রাইবোসোমে তৈরি হয় সাইটোপ্লাজম, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে ব্যবহার্য প্রোটিন।
২। গলগি বডি (Golgi body)
নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থিত এবং দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ ছোটো নালিকা, ফোস্কা, চৌবাচ্চা বা ল্যামেলির
ন্যায় সাইটোপ্লাজমিক অঙ্গাণুর নাম গলগি বডি (গলগি যন্ত্র বা গলগি ক্ষেত্র)।
গলগি বডি চেপ্টা, গোলাকার বা লম্বা হতে
পারে। এরা সাধারণত নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি একত্রিত হয়ে অবস্থান করে।
ইতালীয় স্নায়ুতত্ত্ববিদ ক্যামিলো গলগি
(Camillo Golgi, 1843-1926) ১৮৯৮ সালে প্রথম পেঁচা ও বিড়ালের স্নায়ুকোষে এটি দেখতে পান এবং তাঁর নামানুসারে
পরবর্তীকালে এ অঙ্গাণুর নাম রাখা হয়েছে গলগি বডি।
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনের বিষয়ে গবেষণার জন্য ক্যামিলো গলগিকে ১৯০৬
সালে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ডাল্টন ও ফেলিক্স (Dalton & Felix) ১৯৫৪ সালে গলগি বস্তুর ইলেকট্রন
আণুবীক্ষণিক গঠন সম্পর্কে ধারণা দেন।
মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে গলডি বডি সৃষ্টি হয়। এদেরকে
ডিকটায়োসোম (dictaosome), ইডিওসোম (Idiosome) বা লাইপোকন্ড্রিয়া (lypochondria) নামেও অভিহিত করা হয়।
প্রায় সব প্রাণী কোষেই এরা বিদ্যমান। গলগি বডিতে
ফ্যাটিঅ্যাসিড, ভিটামিন-কে, বিভিন্ন প্রকার এনজাইম (ATPase,
ADPase, ট্রান্সফারেজ ইত্যাদি) থাকে। কখনো ক্যারটিনয়েডও
থাকে।
গলগি বডিকে 'কোষের ট্রাফিক পুলিশ' (Traffic Police of
Cell)-ও বলা হয়।
কারণ গলগি বডি কোষের কেন্দ্রীয় অংশ থেকে
ঝিল্লিবদ্ধ বস্তু (ভেসিকল) কোষের পরিধির দিকে প্লাজমামেমব্রেন
পর্যন্ত নিয়ে যায়।
ভৌত গঠন: আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হলেও এদের নির্দিষ্ট গঠন
কাঠামো থাকে।
সাধারণত এরা একক পর্দা দ্বারা আবৃত নালিকা বা
গহ্বরের মতো। গলগি বডিতে তিন ধরনের গঠনগত উপাদান
লক্ষ্য করা যায়।
গলগি যন্ত্রের কতগুলো চ্যাপ্টা থলে বা চৌবাচ্চা
আকৃতির গঠনসমূহকে সিস্টার্নি (এক বচনে-সিস্টার্না) বলে এবং
কিছুটা অনিয়মিত নালিকা ও ভেসিকলসমূহকে ট্রান্স-গলগি
নেটওয়ার্ক (Trans-Golgi Network-TGN) বলে।
সিস্টার্নি
একসাথে গাদা করে (stack) থাকে। প্রতিটি স্বতন্ত্র গাদাকে
(stack) বলা হয় গলগি বডি বা ডিকটায়োসোম (dictyosome) ।
গলগি যন্ত্রের প্লাজমামেমব্রেনের কাছাকাছি অংশকে বলা হয় ট্রান্স-
সিজ সিস্টার্না
RAD
অমসৃণ ER
মসৃণ ER
ট্রানজিশন ভেসিকল
মেডিয়্যাল
সিস্টার্নি
ট্রান্স সিস্টার্না
সিক্রেটরি
ভেসিকল
প্লাজমামেমব্রেন
চিত্র ১.৮: গলগি বডি ও এর কার্যক্রম।
ফেইস (trans-face)। আর কোষের কেন্দ্রের দিকের অংশকে বলা হয় সিজ-ফেইস (cis-face)।
ট্রান্সফেইস-এর শেষ
সিস্টার্নাকে বলা হয় ট্রান্স সিস্টার্না (trans cisterna) এবং সিজ-ফেইসের শেষ সিস্টার্নাকে বলা হয় সিজ-সিস্টার্না (cis-
cisterna), মধ্যভাগের গুলোকে বলা হয় মেডিয়্যাল সিস্টার্নি (medial cisternae)।
সিস্টার্নির পার্শ্বদেশে অবস্থিত গোলাকার
থালার মতো গঠনগুলোকে ভ্যাকুণ্ডল বলে। ট্রান্স সিস্টার্নার নিচের দিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র থলির মতো বস্তুগুলোকে
ভেসিকল বলা হয়।
সবগুলো সংগঠন ইন্টারসিস্টার্নাল বস্তু দিয়ে একসাথে সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকে। তিন অংশে তিন ধরনের
এনজাইম থাকে এবং এদের কাজও তিন ধরনের।
প্রাণিকোষে সাধারণত গলগি যন্ত্র কোষের এক জায়গায় একসাথে অবস্থান করে কিন্তু উদ্ভিদকোষে দৃশ্যত পৃথক পৃথক্
শতাধিক গলগি বডি সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে।
উদ্ভিদকোষে গলগি বডির প্রধান কাজ হলো গ্লাইকোপ্রোটিনের অলিগোস্যাকারাইড-এ পার্শ্ব শৃঙ্খল সংযুক্ত করা এবং
জটিল পলিস্যাকারাইড সংশ্লেষ ও নিঃসরণ করা।
উদ্ভিদকোষে গলগি বডির আর একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো কোষ প্রাচীর
গঠন করা।
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে উৎপাদিত দ্রব্যাদির ঝিল্লিবদ্ধ ভেসিকল (ট্রানজিশন ভেসিকল) সিজ-সিস্টার্না গ্রহণ করে এবং
পর্যায়ক্রমিকভাবে মেডিয়্যাল সিস্টার্নির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ট্রান্স সিস্টার্না হয়ে কোষে অন্যত্র বা প্লাজমামেমব্রেনে চলে যায়।