১. চলন আচরণ বা ট্যাক্সিস (Taxis)
উপযুক্ত পরিবেশে জীবন যাপনের জন্য প্রাণীরা সংবেদী অঙ্গ ও স্নায়ুতন্ত্রের যৌথ প্রক্রিয়ায় দেহের বিভিন্ন অঙ্গের
সঞ্চালনের মাধ্যমে চলন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
এটি প্রাণিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং একটি সরল অভিযোজিত আচরণ।
কিন্তু যখন বাইরের উদ্দীপকের প্রভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সক্রিয় সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাণিদের অবস্থানের পরিবর্তন
ঘটে অর্থাৎ প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় তখন তাকে ট্যাক্সিস (taxis, গ্রিক taeksi = arrangement বা বিন্যাস; বহুবচনে,
taxes) বলে।
এতে সংবেদী অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রাণীর দিক পরিবর্তন নির্দিষ্ট উদ্দীপকের উপর
নির্ভরশীল।
ট্যাক্সিসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: ( ) চলন শিক্ষালব্ধ আচরণ নয়। (ii) বাহ্যিক উদ্দীপক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত।
(iii)
উদ্দীপকের উৎসের সাথে সম্পর্ক রেখে প্রাণীর দেহের অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটে। (iv) চলনে সংবেদী অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে।
(v) উদ্দীপকের প্রতি প্রতিক্রিয়া পজেটিভ অথবা নেগেটিভ হতে পারে। (vi) যেহেতু শিক্ষালব্ধ
আচরণ নয় সেহেতু এটি জীবের আচরণে রূপান্তরিত হতে পারে না, আবার একে জীব নিজেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
(vii) এ চলন ক্রিয়ার গতি দ্রুত। (viii) কেবল সচল প্রাণীতে এরূপ চলন দেখা যায়।
ট্যাক্সিসের প্রকারভেদ: বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সাড়াদানের ভিত্তিতে ট্যাক্সিসের প্রকারভেদ করা হয়ে থাকে, যেমন-
উদ্দীপনার উৎস, উদ্দীপনার বিষয়, সংবেদী অঙ্গের উপস্থিতি ইত্যাদি।
প্রাণীর অবস্থান পরিবর্তন সব সময় উদ্দীপকের
উৎসের সাথে নির্দিষ্ট কোণে সম্পাদিত হয় বা সরাসরি উৎসের দিকে কিংবা উৎস থেকে দূরে সরে যায়।
দেহের দিকমুখিতার ভিত্তিতে ট্যাক্সিস নিম্নোক্ত দুরকম-
১. পজিটিভ বা ধনাত্মক ট্যাক্সিস (Positive taxis): প্রাণী উদ্দীপকের উৎসের দিকে ঘুরে যায় বা গমন করে।
২.
নেগেটিভ বা ঋণাত্মক ট্যাক্সিস (Negetive taxis): প্রাণী উদ্দীপকের উৎস থেকে দূরে সরে যায়।