১০. চুরি-ডাকাতি: একটি জাতি যখন অসতর্ক ও বিশৃঙ্খল থাকে, সে সুযোগে বহিঃশত্রু কীভাবে অনধিকার প্রবেশ
ঘটিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় তাও মৌমাছি-কলোনির অবস্থা দেখে অনুমান করা যায়।
যে কোনো তুচ্ছ ব্যাঘাতের কারণে
কলোনি-জীবনের ঐকতান ছিন্ন হয়ে যায়, চাকে ও মাঠে কাজের ছন্দপতন ঘটে।
তখন খোলা চাক থেকে মধুর কড়া গন্ধ
ছড়াতে থাকে। মৌমাছিরা শত শত মিটার দূর থেকে এ গন্ধ পায়।
খোলা চাকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মধুর গন্ধে
বিমোহিত হয়ে অন্য চাকের মৌমাছিরা দ্রুত যাত্রাপথের পরিবর্তন ঘটিয়ে রক্ষীবিহীন, অরক্ষিত প্রবেশ পথের ভেতর দিয়ে
চাকে প্রবেশ করে, এবং আকুন্ঠ মধু পান করে লুণ্ঠিত দ্রব্যসহ চাকে ফিরে যায়।
ফেরার আগে অঞ্চলটি চিনে রাখার জন্য
বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে।
এখানে একটি খোলা চাক আছে এমন সংকেতও দিয়ে যায় যাতে অন্যরা মধু লুট করতে
পারে।
মৌমাছির সামাজিক জীবনযাত্রা এমনই চিত্তকর্ষক, তাদের আচরণ ও কাজের বৈচিত্র্য এমন বিস্ময়কর যা দেখলে
মনে হবে মানুষের মতো মৌমাছিরও হয়তো আবেগ, আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা আছে, আছে আত্মত্যাগের মনোভাব।
মৌমাছির সামাজিক জীবন এভাবে মানুষকে লক্ষ বছর ধরে ভাবিত করে রেখেছে, এখনও অনুপ্রাণিত করে চলেছে।