কতক প্রজাতির প্রাণী সামাজিক আচরণের এক পর্যায়ে স্বজাতীয় অন্যান্য সদস্যদের কল্যাণে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ
এমনকি জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে থাকে।
একই প্রজাতির অন্য সদস্যদের প্রতি প্রাণীর এরূপ আচরণকে অ্যাল্ট্রইজম
বা পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা বলে।
ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কমটি (August Comte) ১৮৫১ সালে সর্বপ্রথম
Altruism শব্দটি প্রণয়ন করেন।
রক্তের সাথে সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়দের (kin) ঘিরে এ আচরণ বিকশিত হলেও ভিন্ন
দুটি গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যেও এরূপ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
প্রাণিজগতে অনেক প্রজাতিতে অ্যাল্ট্রইজম দেখা
যায়। যেমন-
**১. সামাজিক পতঙ্গ যেমন- মৌমাছি**, এরা দলবদ্ধভাবে মৌচাকে বাস করে। প্রত্যক মৌচাকে রাণী, পুরুষ ও কর্মী
এ তিনজাতের মৌমাছি থাকে।
এদের মধ্যে কর্মী মৌমাছিরা প্রজননে অক্ষম। এরা স্ত্রী মৌমাছির যত্ন, কলোনির
জন্য পরিশ্রম করে যায় এমনকি তারা বহিরাগতের আক্রমণ থেকে কলোনির সদস্যদের বাঁচাতে নিজে জীবন
পর্যন্ত বিসর্জন দেয়।
**২. বেবুন** ৬ বছর পর্যন্ত তার সন্তানকে লালন পালন ও রক্ষণাবেক্ষণে কাটিয়ে দেয়।
**৩. জাপানি ফলিয়েজ মাকড়সার (Chiracanthium japonicum) মা** বড় আকারের ডিমের পিণ্ডটি বুকে নিয়ে
আগলে রাখে।
ডিম ফুটে শত শত বাচ্চা মায়ের দেহকে খাবার হিসেবে ভক্ষণ করে। এভাবে মা তার বাচ্চাদের
জন্য জীবন উৎসর্গ করে।