কোষ ও এর গঠন
৫
(খ) জননকোষ বা গ্যামিট (Reproductive Cell or Gamete): যৌন প্রজননের জন্য ডিপ্লয়েড জীবের জননাঙ্গে
মায়োসিস প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক কোষকে গ্যামিট বা জননকোষ বলে।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জননকোষের উদাহরণ।
জননকোষ বা গ্যামিট সর্বদাই হ্যাপ্লয়েড।
(২) নিউক্লিয়াসের গঠনের ওপর ভিত্তি করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-
(ক) আদিকেন্দ্রিক বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ বা আদিকোষ (Prokaryotic Cell): যে কোষে কোনো আবরণীবেষ্টিত
নিউক্লিয়াস, এমনকি আবরণীবেষ্টিত (membrane-bound) অন্যকোনো অঙ্গাণুও (organelles) থাকে না তা হলো
আদিকোষ।
আদিকোষে নন-হিস্টোন প্রোটিনযুক্ত একটি মাত্র বৃত্তাকার কুণ্ডলিত DNA থাকে যা সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে
অবস্থান করে।
সাইটোপ্লাজমে মুক্তভাবে অবস্থানকারী বৃত্তাকার DNA অঞ্চলকে নিউক্লিঅয়েড (Nucleoid) বলে।
আদিকোষের রাইবোসোম 70S। আদিকোষ দ্বি-ভাজন বা অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
আদিকোষ দ্বারা গঠিত
জীব হলো আদিকোষী জীব (Prokaryotes)। উদাহরণ- মাইকোপ্লাজমা, ব্যাকটেরিয়া (Escherichia coli) ও
সায়ানোব্যাকটেরিয়া (BGA = Blue Green Algae)।
মনেরা রাজ্যের সব জীবই আদিকোষী। [গ্রিক Pro = before, এবং
karyon = nut, nucleus অর্থাৎ নিউক্লিয়াস সংগঠনের আগের অবস্থা] আদিকোষে অবাত শ্বসন ঘটে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে
শোষণ পদ্ধতিতে পুষ্টি ঘটে। কতক ক্ষোত্রে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
কাজ: উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের পোস্টার তৈরি।
উপকরণ: পোস্টার পেপার, পেন্সিল, রং পেন্সিল, ইরেজার, উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের চিত্র।
কার্যপদ্ধতি: বড়ো পোস্টার পেপার নিতে হবে।
পেপারে লম্বভাবে পাশাপাশি দু'টি কোষের জন্য স্থান নির্ধারণ ক???তে
হবে।
প্রথমে পেন্সিল দিয়ে হালকাভাবে চিত্র দুটি এঁকে নিতে হবে, প্রয়োজনে ইরেজার দিয়ে মুছে আবার আঁকতে হবে।
আঁকা চূড়ান্ত হলে রং পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি অংশ চিহ্নিত করে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করতে হবে।
চূড়ান্তকরণের আগে অবশ্যই শিক্ষককে দেখিয়ে নিতে হবে।
(খ) প্রকৃতকেন্দ্রিক বা সুকেন্দ্রিক কোষ বা প্রকৃতকোষ (Eukaryotic Cell): যে কোষে আবরণীবেষ্টিত নিউক্লিয়াস
থাকে তা হলো প্রকৃতকোষ।
প্রকৃতকোষে নিউক্লিয়াস ছাড়াও আবরণীবেষ্টিত অন্যান্য অঙ্গাণু (যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া,
ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগিবস্তু, লাইসোসোম প্রভৃতি) থাকে।
দুই স্তরবিশিষ্ট একটি আবরণী (নিউক্লিয়ার এনভেলপ) দ্বারা পরিবেষ্টিত
অবস্থায় নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস এবং একাধিক ক্রোমোসোম নিয়ে নিউক্লিয়াস গঠিত।
প্রকৃতকোষের ক্রোমোসোম লম্বা
(বৃত্তাকার নয়), দুই প্রান্তবিশিষ্ট এবং DNA ও হিস্টোন-প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত।
এদের রাইবোসোম 80S, DNA সূত্রাকার
এবং একাধিক ক্রোমোসোমে অবস্থিত; কোষ বিভাজন মাইটোসিস ও মায়োসিস প্রকৃতির।
Eukaryotic শব্দটি গ্রিক শব্দ
থেকে নেয়া হয়েছে, যার অর্থ গ্রিক eu = good;
এবং karyon = nucleus অর্থাৎ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ। জড়
কোষপ্রাচীরবিশিষ্ট প্রকৃতকোষই প্রকৃত উদ্ভিদকোষ।
শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইট্স, জিমনোস্পার্মস এবং
অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি সব উদ্ভিদই প্রকৃতকোষ দিয়ে গঠিত এবং সকল প্রাণিকোষ প্রকৃতকোষ।
প্রকৃতকোষ দ্বারা গঠিত
জীব হলো প্রকৃতকোষী জীব (Eukaryotes). প্রকৃতকোষে সবাত শ্বসন ঘটে। শোষণ, আত্তিকরণ ও সালোকসংশ্লেষণ
পদ্ধতিতে পুষ্টি ঘটে।
সম্ভবত প্রথম প্রকৃতকোষী এবং বহুকোষী জীব হলো Bongiomorpha pubescens নামক লোহিত শৈবাল যার ফসিল
১২০০ মিলিয়ন বছরের পূর্বের শিলা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে।
বড়ো স্ত্রীগ্যামিট এবং ছোটো পুংগ্যামিট দ্বারা এর যৌন জনন
হতো।