সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

কোষচক্রের নিয়ন্ত্রক

B_1st_hasan_biology_haters_4_17.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_4_17.jpg
৮২
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় ইন্টারফেজ অবস্থায়। কোষ চক্রের মোট সময়ের ৯০-৯৫ ভাগ সময়-ব্যয় হয় ইন্টারফেজ অবস্থায়।
ইন্টারফেজ-কে সাধারণত ৩টি উপ-পর্যায়ে ভাগ করা হয়; যথা- G₁, S এবং G₂ দশা টার্গেট কোষের (যে কোষ বিভাজিত হবে) সার্ফেসে বিশেষ রিসেপ্টর প্রোটিনের সাথে গ্রোথ ফ্যাক্টর সংযুক্ত হয়ে কোষ চক্র শুরু করার নির্দেশ দান করে।
i. G₁ দশা (Gap phase): একটি কোষ পরবর্তীতে বিভাজন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে কিনা, তার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় G₁ উপপর্যায়ে।
G₁-এর প্রথমেই সাইক্লিন নামক এক প্রকার প্রোটিন তৈরি হয় যা CDK (Cyclin dependent kinase) এর সাথে যুক্ত হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
CDK ফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রোটিন, RNA এবং DNA রেপ্লিকেশনের সকল উপাদান তৈরি হয়।
যে কোষটি আর বিভাজিত হবে না তা এক সপ্তাহ বা এক বছর অর্থাৎ আমৃত্যু G₁ উপপর্যায়েই আবদ্ধ হয়ে যায়।
মোট কোষ চক্রের ৩০-৪০% সময় এ উপপর্যায়ে ব্যয় হয়।
Chart
100%
ইন্টারফেজ
কোষ বিভাজিত হয় না কিন্তু বিভাজনের পূর্বপ্রস্তুতি নেয়।

G₁ দশা
S দশা
G₂ দশা
কোষচক্র
M-phase (মাইটোটিক ফেজ)
[বিভাজন পর্যায় অর্থাৎ মাতৃকোষ থেকে অপত্যকোষ সৃষ্টি হওয়া]
ক্যারিওকাইনেসিস
সাইটোকাইনেসিস (নিউক্লিয়াসের বিভাজন) (সাইটোপ্লাজমের বিভাজন)
প্রোফেজ
প্রো-মেটাফেজ
মেটাফেজ অ্যানাফেজ
টেলোফেজ
ii. S দশা (S Synthesis): এ উপপর্যায়ের প্রধান কাজ হলো নিউক্লিয়াসে ক্রোমোসোমন্থ DNA সূত্রের রেপ্লিকেশন।
পরবর্তী উপ-পর্যায়ে প্রবেশের আগেই DNA রেপ্লিকেশন সম্পন্ন হয়। একটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণু দৈর্ঘ্য বরাবর দুটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণুতে পরিণত হয়।
প্রতিটি ডিপ্লয়েড কোষে DNA-এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়। এ সময় হিস্টোন-প্রোটিন সংশ্লেষ হয়।
এ উপপর্যায়ে সময় ব্যয় হয় মোট সময়ের ৩০-৫০ ভাগ। DNA সংশ্লেষণ ঘটে দশায়।
Concentration

চিত্র: Cyclin graph
iii. G₂ দশা (Gap phase): এটি হলো M. Phase-এ (মাইটোসিস দশা) প্রবেশ করার প্রস্তুতি পর্যায়।
এ উপপর্যায়ের প্রধান কাজ হলো মাইক্রোটিউবিউল গঠনকারী পদার্থ সংশ্লেষণ যা দিয়ে মাইটোসিস পর্যায়ে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হবে।
একটি সেন্ট্রোসোম থেকে দুটি সেন্ট্রোসোম-এ পরিণত হয়। সেন্ট্রোসোম মাইক্রোটিউবিউল তৈরি সূচনা করে। বিভাজন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) তৈরি হয়।
G₂ থেকে মাইটোসিস-এ প্রবেশ করতে হলে ম্যাচুরেশন প্রোমোটিং ফ্যাক্টর (MPF) নামক প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে।
কিছু সংখ্যক কোষ G₂ উপপর্যায়ে এসেও আটকা পড়ে যায়, আর কখনো বিভাজন পর্যায়ে প্রবেশ করে না।
মোট সময়ের ১০-২০ ভাগ সময় এ উপপর্যায়ে ব্যয় হয়।
কোষচক্রের নিয়ন্ত্রক
কোষচক্রের নিয়ন্ত্রক হলো সাইক্লিন প্রোটিন এবং CDK। মানুষের কোষে চার প্রকার সাইক্লিন থাকে।
সাইক্লিন-D: কোষকে G₁ থেকে S এবং S পর্যায় থেকে G₂ পর্যায়ে নিয়ে যায়।
100% সাইক্লিন-E: S-পর্যায়ে DNA রেপ্লিকেশনের জন্য কোষকে প্রস্তুত করে।
সাইক্লিন-B: মাইটোটিক স্পিন্ডল তৈরিসহ মাইটোসিসের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সম্প???্ন করে।
CS CamScanner