8
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
প্রতিটি জীবদেহ এক (এককোষী জীব) বা একাধিক (বহুকোষী জীব) কোষ দিয়ে গঠিত হয় অর্থাৎ কোষই জীবদেহের
গঠন একক।
আবার কোষের ভেতরই জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ কোষ
হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক।
কোষীয় অঙ্গাণু (Cell organelles): কোষের সাইটোপ্লাজমে বিদ্যমান জীবন্ত, কার্যসম্পাদনকারী ও কোষের
জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য ক্ষুদ্রাঙ্গসমূহকে কোষীয় অঙ্গাণু বলে;
যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম,
রাইবোসোম ইত্যাদি। অঙ্গাণু অর্থ ক্ষুদ্র অঙ্গ (organelles)।
পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় ইলেক্ট্রন অণুবীক্ষণে দৃষ্ট একটি প্রাণিকোষের লম্বচ্ছেদের চিত্র দেওয়া হয়েছে।
চিত্রটি ভালোভাবে
লক্ষ্য করো এবং পূর্বে আহরিত জ্ঞানের আলোকে পুনরায় এর গঠন ও বিভিন্ন অঙ্গাণুর অবস্থান ও বাহ্যিক গঠন মিলিয়ে
নাও।
৮নং পৃষ্ঠায় দেওয়া উদ্ভিদকোষের চিত্রটির সাথে মিলিয়ে এদের মধ্যকার পার্থক্য লিপিবদ্ধ করো।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীববিদ্যার যে শাখায় কোষ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় অর্থাৎ কোষের প্রকার, অঙ্গাণুর
ভৌত ও রাসায়নিক গঠন, কোষের বিভাজন, বিকাশ, জৈবিক কার্যাবলি, বৃদ্ধি ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে
কোষবিদ্যা বা সাইটোলজি (Cytology) বলে।
সাইটোলজি শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দের Kytos (= cell, ফাঁপা) এবং
logos (= discourse, আলোচনা) সমন্বয়ে গঠিত।
Robert Hooke (1635-1703) কে কোষবিদ্যার জনক বলা হয়। তবে
আধুনিক কোষবিদ্যার জনক হলো Carl P. Swanson (1911-1996)।
কোষতত্ত্ব (Cell Theory): কোষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার পর ১৮৩৮-১৮৩৯ সালে জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী জ্যাকব
প্লেইডেন (Mathias Jacob Schleiden) ও প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ান (Theodor Schwann) এবং পরে ১৮৫৫ সালে
জার্মান চিকিৎসক ও জীববিজ্ঞানী ভারচু (Rudolf Virchow) 'কোষতত্ত্ব' প্রদান করেন।
কোষতত্ত্বের মূল কথা
*১. জীব (Living organisms) কোষ দ্বারা গঠিত।
২. কোষ জীব বা জীবনের (life) গাঠনিক ও কার্যকরী ক্ষুদ্রতম মৌলিক একক।
৩. সকল কোষ পূর্বস্থিত কোষ থেকে সৃষ্ট।
ইতোপূর্বে আমরা জেনেছি যে, জীবদেহ এক বা অসংখ্য কোষ দ্বারা গঠিত এবং দেহের সকল কোষের কার্যাবলির
সমন্বিত রূপই হলো জীবের কাজ।
এজন্য জীবকোষকে জীবদেহের গঠন ও কার্যাবলির একক বলা হয়। জীবকোষের মৌলিক
উপাদান ও গঠন অভিন্ন হলেও উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের মধ্যে যেমনি গঠনগত পার্থক্য রয়েছে তেমনি একই দেহের বিভিন্ন
অঙ্গের কোষের মধ্যেও আকার, আকৃতি, গঠন ও কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
কোষ জীবদেহের গাঠনিক একক। এটি
এমন একটি একক যা প্রোটোপ্লাজম নামক জীবন্ত বস্তু দিয়ে গঠিত।
অনুকূল পরিবেশে স্বাধীনভাবে টিকে থাকে ও বংশবৃদ্ধি
করে।
লোয়ি ও সিকেডিজ (১৯৬৯)-এর মতে কোষ একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি দ্বারা সীমাবদ্ধ জীব কার্যকলাপের একক, যা
অন্য কোনো সজীব মাধ্যম ছাড়াই আত্ম-প্রজননে সক্ষম।
কোনো সজীব মাধ্যম ছাড়া আত্মপ্রজননে সক্ষম নয় বলে ভাইরাস
কোষের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কোষের ভেতরে প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার বিক্রিয়া ঘটে যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহকে কর্মক্ষম রাখে।
এ ধরনের বিক্রিয়াকে সম্মিলিতভাবে জীবের বিপাক (metabolism) বলে।
কোষের প্রকারভেদ (Kinds of Cell)
(১) শারীরবৃত্তীয় কাজের ভিত্তিতে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-
(ক) দেহকোষ (Somatic Cell): যে কোষ জননকোষ নয় তাই দেহকোষ। জীবদেহের অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠনকারী
কোষকে দেহকোষ বলে।
উচ্চশ্রেণির জীবের দেহকোষে সাধারণত ডিপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। মূল, কাণ্ড ও
পাতার কোষ, স্নায়ু কোষ, রক্তকণিকা ইত্যাদি দেহকোষের উদাহরণ।