সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

প্রকৃতকোষে জিন প্রকাশ

B_1st_hasan_biology_haters_4_7.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_4_7.jpg
৭০
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র

চিত্র ১.৪৩: অপেরন।
প্রকৃতকোষে জিন প্রকাশ: জীবদেহের সকল তথ্য জিন তথা DNA-তে সংরক্ষিত থাকে। প্রোটিন সংশ্লেষণের মাধ্যমে এসব তথ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
যে প্রক্রিয়ায় জিন প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে তাকে জিনের ক্রিয়া (action of gene) বলে।
প্রকৃতকোষে জিন প্রকাশ ঘটে যথাক্রমে (i) ট্রান্সক্রিপশন, (ii) mRNA প্রসেসিং, (iii) ট্রান্সলেশন, (iv) ট্রান্সলেশন পরবর্তী প্রসেসিং এবং (v) ফিড ব্যাক (feed back) ইনহিবিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমোসোমে 'অপেরন' এর জিন ক্রিয়া-কৌশল চিত্রে দেখানো হয়েছে। সুকেন্দ্রিক কোষের ক্রোমোসোমহ জিনের ক্রিয়া-কৌশল অপেক্ষাকৃত জটিল।
ক্রোমোসোমের ইউক্রোমাটিন অংশের জিন ক্রিয়াশীল হয়, হেটারোক্রোমাটিন অংশের জিন ক্রিয়াশীল হয় না।
জিনের কাজ
(i) জিন জীবদেহে যাবতীয় বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের (ফিনোটাইপ) প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ii) জিন জীবের সাংগঠনিক ও বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যকে প্রোটিন, এনজাইম অথবা হরমোন সংশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
(iii) জিন তার অন্তর্নিহিত তথ্য ট্রান্সক্রিপশন পদ্ধতির মাধ্যমে mRNA-তে প্রেরণ করে।
mRNA এ তথ্য ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে পলিপেপটাইড ও প্রোটিন গঠন করে।
(iv) কোষের সব ধরনের RNA ও প্রোটিন উৎপাদনে জিন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
(iv) জিন প্রজাতির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সংরক্ষণকে নিশ্চিত করে।
আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের জিনগত কিছু পার্থক্য নিম্নরূপ:
(i) আদিকোষে 'অপেরনের' মাধ্যমে নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক জিন ট্রান্সক্রাইব হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতকোষে জিনসমূহ সাধারণত পৃথক পৃথকভাবে অবস্থিত থাকে।
কাজেই প্রতিটি জিন-এ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকে। হরমোন-এ সাড়া দেয়া বিভিন্ন জিন-এ (পৃথক পৃথকভাবে দূরে দূরে অবস্থিত) তাদের প্রোমোটারের কাছে বিশেষ সিকোয়েন্স-এর হরমোন রেস্পন্স এলিমেন্ট (Hormone response element) থাকে।
(ii) ব্যাকটেরিয়া তথা আদিকোষে এক প্রকার RNA পলিমারেজ এনজাইম থাকে কিন্তু প্রকৃতকোষে ভিন্ন তিন প্রকার RNA পলিমারেজ এনজাইম থাকে।
বিভিন্ন ধরনের পলিমারেজ বিশেষ ধরনের বিশেষ বিশেষ জিনকে ট্রান্সক্রাইব করে।
(iii) আদিকোষে একটি পেপটাইড সাবইউনিটের সহায়তায় RNA পলিমারেজ প্রোমোটারকে পুনঃক্রিয়াশীল করে থাকে, কিন্তু প্রকৃতকোষে ট্রান্সক্রিপশনের সূচনা-পর্বে বহু প্রোটিন সম্পৃক্ত হয়।
জেনেটিক কোড (Genetic code)
আমরা এখন জানি যে, জীবের সকল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে DNA অণুর বিশেষ বিশেষ অংশ যা জিন (gene) হিসেবে পরিচিত।
জিন থেকে একটি নির্দেশনা (গোপন বার্তা) নিয়ে তৈরি হয় mRNA.
mRNA তখন কোষীয় রাইবোসোমকে মঞ্চ বানিয়ে tRNA এর মাধ্যমে জিনের সেই বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড এনে একটির পর একটি সাজিয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রোটিন তৈরি করে।
কোষে তৈরিকৃত সেই প্রোটিনসমূহই জীবের সকল বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে এবং কোষীয় সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।