৩ বেস-এর একটি অ্যান্টিকোডন থাকে। mRNA-এর কোডন এবং 1RNA-এর অ্যান্টিকোডনের নিউক্লিওটাইড সম্পূরক; যেমন- AUG-এর সম্পূরক UAC I
(iii) সূচনা কোডন সুনির্দিষ্ট, AUG যা মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিড নির্দেশক। সকল পলিপেন্টাইড সংশ্লেষণের প্রথমে মেথিওনিন বসে।
যে IRNA প্রথমে মেথিওনিন নিয়ে রাইবোসোমে আসে তাকে বলা হয় ইনিশিয়েটর tRNA।
(iv) অ্যামিনো অ্যাসিড সাধারণত বিশ প্রকার।
বিশ প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিডের জন্য ৬১ প্রকার কোডন থাকে।
(v) রাইবোসোম হলো mRNA ও tRNA বসার মঞ্চ।
প্রতিটি রাইবোসোমে tRNA বসার জন্য ৩টি সাইট থাকে,
যথা- A-সাইট (= অ্যাটাচমেন্ট সাইট, অ্যারাইভাল সাইট বা অ্যামিনো-অ্যাসাইল সাইট); P-সাইট (= পেন্টিডাইল সাইট; পলিপেপ্টাইড তৈরি সাইট);
E-সাইট (= Exit সাইট অর্থাৎ রাইবোসোম থেকে tRNA বের হয়ে যাওয়ার স্থান)।
একটি রাইবোসোম যেকোনো mRNA-র সাথে এবং সকল RNA-র সাথে সংযুক্ত হতে পারে।
(vi) অ্যাকটিভেটিং এনজাইম: এদেরকে সাধারণত অ্যামিনো-অ্যাসিল tRNA সিছেটেজেজ (Aminoacyl-tRNA Synthetases) বলে।
প্রতিটি অ্যাকটিভেটিং এনজাইম একটি অ্যামিনো অ্যাসিড ও একটি tRNA-এর জন্য নির্দিষ্ট।
ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া
ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করা হয়ে থাকে; যথা- ১। ট্রান্সলেশনের সূচনা (initiation), ২। পলিপেপ্টাইড চেইন-এর বৃদ্ধিকরণ (elongation) এবং ৩। সমাপ্তিকরণ (termination)।
১। সূচনা পর্ব: (i) ইনিশিয়েটর tRNA, মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্ত করে রাইবোসোমের ছোটো খণ্ডের সাথে একটি যৌগ গঠন করে।
(ii) এ যৌগ (কমপ্লেক্স) mRNA এর ৫' প্রান্তের ক্যাপ অংশের সাথে আবদ্ধ হলে রাইবোসোম mRNA ধরে ৩' প্রান্তের দিকে চলতে থাকে (যাকে বলা হয় স্ক্যানিং) যতক্ষণ না স্টার্ট কোডন AUG পেয়ে যায়।
AUG কোডনের সাথে tRNA-এর UAC অ্যান্টিকোডন হাইড্রোজেন বন্ড দ্বারা আবদ্ধ হয়।
(iii) এরপর রাইবোসোমের বড়ো খণ্ডটি এসে ছোটো খণ্ডের সাথে যুক্ত হয়।
বড়ো খণ্ডে tRNA বসার জন্য তিনটি (A, P ও E সাইট) হালকা গর্ত থাকে।
বড়ো খণ্ডটি ছোটো খণ্ডের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সাথে সাথে ট্রান্সলেশনের সূচনা-পর্ব সমাপ্ত হলো।
এ অবস্থায় মেথিওনিন-tRNA P-সাইট-এ থাকে, A এবং E সাইট খালি থাকে।
২। বৃদ্ধিকরণ পর্ব : বর্ধিতকরণ হলো প্রথমে আনা মেথিওনিন অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে কোডের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর একটি অ্যামিনো অ্যাসিড এনে যুক্ত করা।
সঠিক ইনিশিয়েটর tRNA-ই পরবর্তী কোডনগুলো সঠিকভাবে শনাক্তের পথ সৃষ্টি করে থাকে। বর্ধিতকরণে রাইবোসোমের A, P এবং E সাইট কার্যকরী হয়।
(i) পূর্ণাঙ্গ রাইবোসোম mRNA স্ক্যান করে ৩'-প্রান্তের দিকে অগ্রসর হয় এবং দ্বিতীয় tRNA সঠিক অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে A-সাইটে উপস্থিত হয়।
এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি GTP হাইড্রোলাইসিস-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
(ii) P-সাইটে মেথিওনিন tRNA থেকে পৃথক হয়ে গিয়ে A-সাইটস্থ tRNA এর অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে পেপটাইড বন্ড তৈরি করে।
পেপ্টাইড বন্ড তৈরিতে রাইবোসোমাল এনজাইম পেপ্টিডাইল ট্রান্সফারেজ সহযোগিতা করে।
(iii) রাইবোসোম ক্রমান্বয়ে একটির পর একটি mRNA কোডন স্ক্যান করে ৩'-প্রান্তের স্টপ কোডনের দিকে অগ্রসর হয়।
এর ফলে কোডন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে একটি tRNA রাইবোসোমের A-সাইটে আসে, পূর্বের A- সাইটের tRNA চলে যায় P-সাইটে এবং P-সাইটের tRNA চলে যায় E-সাইটে।
স্টপ কোডন না আসা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলমান থাকে এবং পলিপেপ্টাইড চেইন লম্বা হতে থাকে।
E-সাইটের RNA-তে কখনও কোনো অ্যামিনো অ্যাসিড স্থায়ী থাকে না।
(iv) E-সাইট থেকে খালি tRNA সাইটোপ্লাজমে চলে আসে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, রাইবোসোমের A, POE তিনটি সাইট কখনও একই সময়ে tRNA দ্বারা পূর্ণ থাকে না, একই সময়ে যেকোনো দুটি সাইট (PA অথবা PE) পূর্ণ থাকে।