সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

ব্যাঙের অপত্য যত্ন (Continuation) (Parental Care of Toad Continuation)

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 12_3_2.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 12_3_2.jpg
কাদা-মাটির নীড় (mud-nest) নির্মাণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার উদ্দেশে বসতির আশেপাশে পুকুর, ডোবা বা
এ ধরনের স্থায়ী জলার পাড়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে।
জননকালে পুরুষ ব্যাঙ এমন এক জায়গা বেছে নেয় যাতে
গর্তখোঁড়া সহজ হয়, নির্মাণ কাজ রাতারাতি সম্পন্ন হয়।
বাসা নির্মাণ, সে বাসা স্ত্রী ব্যাঙের পছন্দ হওয়া এবং নিরাপত্তা
বিধান সবকিছু মাথায় রেখে স্ত্রী ব্যাঙ ডিম পাড়ে।
অতএব বাসা নির্মাণকে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়
পুরুষ ব্যাঙকে।
এ ক্ষেত্রে পুরুষ ব্যাঙ তিন উপায়ে বাসা নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রথমত সে নিজেই বাসা বানায়;
দ্বিতীয়ত পানি ভর্তি অগভীর গর্তকে সামান্য মেরামত করে বাসায় পরিণত করে;
এবং তৃতীয়ত অন্য এক পুরুষ ব্যাঙের
নির্মিত বাসা দখল করে নেয়।
এখানে আলোচ্য গ্লেডিয়েটর পুরুষ ব্যাঙ সাধারণত বেলে বা কাদামাটিতে আগে থেকে
কোনো কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্তকে দ্রুত বাসা বানিয়ে ফেলে।
আগের জনন ঋতুতে ব্যবহৃত বাসাকে ডিম পাড়ার উপযোগী
করেও কাজে লাগাতে পারে।
গবাদি পশু হেঁটে গেলে জলার কিনারে যে গর্ত হয় সেটাকেও একটু বড়সড় ও মসৃণ করে
ডিম পাড়ার উপযোগী করে নিতে পারে।
পুরুষ ব্যাঙ গর্ত খুঁড়তে গিয়ে এমনভাবে মাটি সরায় যাতে মাটি স্তূপাকারে পড়ে গেলে উঁচু কিনারার রূপ নেয়।
গর্তের
ব্যাস প্রায় ১২-৩৭২ সেন্টিমিটার, আর ৫-৭ সেন্টিমিটার গভীর। তিরিশ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে বাসা নির্মাণ
সমাপ্ত হয়।
বাসা নির্মাণ সম্পন্ন হলে পুরুষ ব্যাঙের ডাকে স্ত্রী ব্যাঙ সাড়া দিলেও বাসা ঘুরে-ফিরে দেখে পছন্দ হলে তবেই
ডিম ছাড়তে উদ্যত হয়।
ডিম ফুটে লার্ভা নির্গত হলে ওদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, নিরাপত্তা বজায় থাকে সবদিক
বিবেচনা করে স্ত্রী ব্যাঙ সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিম ছাড়ার পর এলাকাভেদে পুরুষ ব্যাঙ তার বংশ রক্ষায় তৎপর থাকে।
যেখানে
বাসা তৈরির জায়গা কম কিন্তু পুরুষ ব্যাঙের সংখ্যা বেশি থাকে সে সব জায়গায় আগ্রাসী বা সন্ত্রাসী পুরুষ ব্যাঙ অন্য
ব্যাঙের বাসা দখল করে স্ত্রী ব্যাঙকে ডিম ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
অবস্থা বুঝে পুরুষ ব্যাঙ শক্ত হাতে বাসা রক্ষা করে। লার্ভা
তরুণ ব্যাঙে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত গর্তের পাশে থেকে পাহারা দেয়।
গ্রেডিয়েটর ব্যাঙে মার্চ-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জননকাল হিসেবে পরিচিত। স্ত্রী ব্যাঙ উপযুক্ত বাসায় ১০ মিনিটের মধ্যে প্রায়
তিন হাজার ডিম ছাড়ে।
দুই তিন দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা নির্গত হয়। চল্লিশ দিনের মধ্যে এদের রূপান্তর ঘটে।
**পাখির অপত্য যত্ন**
পাখিমাত্রই অপত্য যত্নে সমৃদ্ধ প্রাণী। সুস্পষ্ট ও সৃশৃঙ্খল অপত্য যত্নে পাখি একটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত প্রাণিগোষ্ঠী হিসেবে
স্বীকৃত।
কোনো প্রাণীর জনন সাফল্য নির্ভর করে সুস্থ-সবল সন্তানকে প্রকৃতির বুকে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে প্রত্যেকটি প্রাণী সম্বন্ধে তার বাস্তুগত ও প্রজননিক যাবতীয়
খুঁটিনাটি বিষয় সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা রাখা।
এখানে ছোট পানকৌড়ি সংক্ষেপে পানকৌড়ি (Little cormorant,
Phalacrocorax niger) পাখির অপত্য যত্নের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।
বাংলাদেশে পানকৌড়ির জননকাল মে-অক্টোবর। তবে জুলাই-আগস্ট মাসে নীড় বাঁধার হার সবচেয়ে বেশি হয়।
জননকালে এদের গায়ের ও মুখমন্ডলের পালকের রংয়ে পার্থক্য দেখা দেয়।
পান কৌড়িরা যেখানে বাসা বাঁধে সেখানে
ছোট বক (Egretta garzetta) ও কানি বক (Ardeola grayii)-ও বাসা বাঁধে।
প্রধানত আম ও বট গাছ, সঙ্গে কড়ই,
শেওড়া গাছেও বাসা বাঁধে।
পানির ধারে ও সহজে মানুষের হাতের নাগালে পাওয়া যায় না এমন উচ্চতায় (৬-১০ মিটার)
বিভিন্ন গাছের খড়কুটা দিয়ে অর্থাৎ বাসা বাঁধার জায়গার আশেপাশে যে সব খড়কুটা পাওয়া যায় তা দিয়ে জোড়ের উভয়
সদস্য বাসা বাঁধে।
বাসার গড় ব্যাস প্রায় ১৫ সে.মি., গভীরতা প্রায় ৫.৫ সে.মি.।
দলবেঁধে বাসা বানানোয় অন্য কোনো
ক্ষতিকর প্রাণী সহজে কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। কাছে গেলেও সমবেত চিৎকারে পালিয়ে যায়।
পাঁচ থেকে এগারো
দিনের মধ্যে বাসা বাঁধা শেষ হলে পানকৌড়ি একদিন পর পর ২-৬ টি সাদা বা নীলচে-সাদা ডিম পাড়ে।
তবে প্রথম
ডিম পাড়ার পর পরই ডিমে তা দিতে শুরু করে। স্ত্রী-পুরুষ উভয় সদস্যই তা দেওয়ার কাজ ভাগাভাগি করে নেয়।
দু'তিন
সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে শাবক বেরিয়ে আসে।
পান কৌড়ি শান্তশিষ্ট পাখি। দলবদ্ধ থাকায় শিকারী পাখির হামলা প্রতিরোধ সহজ হয়। কিন্তু দুরন্ত কিশোরদের
মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
ডিম ও শাবক নষ্ট হওয়ার প্রধানতম কারণ হচ্ছে খেলাচ্ছলে বা ঘরে পোষার জন্য শাবক
চুরি, আর খাওয়ার জন্যে ডিম চুরি।
প্রচন্ড ঝড়-তুফানেও ডিম ও শাবকের ক্ষতি হয়। এ প্রতিকূল পরিবেশেও শাবকদের
যত্ন নেওয়ার কাজে স্ত্রী-পুরুষ উভয় পাখি যথাসাধ্য সচেষ্ট থাকে।
শুধু তাই নয়, শাবকের শরীর প্রথম সাত দিন একেবারে