সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

সেন্ট্রিওল (Centriole)

B_1st_hasan_biology_haters_4_13.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_4_13.jpg
৩৮
মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে সাদৃশ্য (Similarities between Mitochondria and Chloroplasty
মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে নিম্নলিখিত কয়েকটি সাদৃশ্য দেখা যায়, যেমন-
(ⅰ) উভয় মাইটোকন্ড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্ট দুটি একক পর্দাবেষ্টিত কোষীয় অঙ্গাণু। (ii) দুটি অঙ্গাণুই নিজস্ব প্রতিরক অঙ্গাণুতেই রাইবোজোম এবং হিস্টোন থাকে। (v) দুটি অঙ্গাণুতে ইলেকট্রন পরিবহনতন্ত্র বর্তমান এবং ATP এর উৎপাত সৃষ্টি করতে পারে। (iii) দুটি অঙ্গাণুই আংশিকভাবে স্বনিয়ন্ত্রিত অঙ্গাণু (semiautonomous organelle) (iv) ঘটে। (vi) দুটি অঙ্গাণুই একপ্রকার শক্তিকে অন্য প্রকার শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
ও প্লাস্টিডের মধ্যে পার্থক্য
বৈশিষ্ট্য
১. অবস্থান
২. প্রকারভেদ
৩. রঞ্জক পদার্থ
৪. অন্তঃপর্দার প্রকৃতি
৫. রাসায়নিক উপাদান
মাইটোকন্ড্রিয়া
মাইটোকন্ড্রিয়া
১. উদ্ভিদকোষ ও প্রাণীকোষ উভয় কোষে পাওয়া যায় ।
২. মাইটোকন্ড্রিয়ার কোনো প্রকারভেদ থাকে না ।
৩. কোন প্রকার রঞ্জক পদার্থ থাকে না
৪. মাতৃকায় চাকতির মতো বা থলির মতো বস্তু থাকে না। অন্তঃপর্দা ধাত্রের ভিতর ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে যার ফলে ধাত্র অনেকগুলি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত হয়।
৫. প্রধান রাসায়নিক উপাদান প্রোটিন, লিপিড ও নিউক্লিক এসিড।
প্লাস্টিড
১. শুধুমাত্র উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়
২. উদ্ভিদকোষে তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে।
৩. ক্লোরোপ্লাস্ট ও ক্রোমোপ্লাস্ট রঞ্জক পদার্থযুক্ত কিন্তু লিউকোপ্লাস্ট রঞ্জক পদার্থহীন।
৪. অন্???ঃপর্দা ক্রিস্টি গঠন করে না এবং ধাত্রে চাকতির মতো থাইলাকয়েড স্তরীভূত হয়ে গ্রানা গঠন করে।
৫. প্রধান রাসায়নিক উপাদান প্রোটিন, লিপিড, ক্লোরোফিল ও এনজাইম।
৬. প্রকোষ্ঠ
৭. কাজ
৮. খাদ্য সঞ্চয়
৬. এটি অসম্পূর্ণ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত
৭. শক্তি উৎপন্ন করা এর প্রধান কাজ
৮. কোনো খাদ্য সঞ্চয় করে না
৬. এতে তিন ধরনের প্রকোষ্ঠ শনাক্তযোগ্য।
৭. খাদ্য তৈরি করা এর প্রধান কাজ।
৮. লিউকোপ্লাস্ট খাদ্য সঞ্চয় করে।

। । । । ।
সেন্ট্রিওল (Centriole)
প্রাণিকোষ ও কিছু উদ্ভিদকোষে যে অঙ্গাণু স্বপ্রজননক্ষম, নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত এবং একটি গহ্বরকে ঘিয়ের ৯টি গুচ্ছ প্রান্তীয় অণুনালিকা নির্মিত খাটো নলে গঠিত তাকে সেন্ট্রিওল বলে।
বিজ্ঞানী ভ্যান বেনডেন (Van Benden ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম সেন্ট্রিওল শনাক্ত করেন এবং ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান জীববিজ্ঞানী থিওডোর বোভেরী (Theodor Bovery) এর বিশদ বিবরণ দেন।
অবস্থান: শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইট, টেরিডোফাইট, জিমনোস্পার্ম প্রভৃতি উদ্ভিদে এবং সব প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থান করে।
প্রোক্যারিওটিক কোষ, ডায়াটম, ঈস্ট, আবৃতবীজী উদ্ভিদ ও স্তন্যপায়ীর R.B.C তে এটি অনুপস্থিত।

চিত্র ১.২১: সেন্ট্রোজোম ও সেন্ট্রিওল
গঠন: সেন্ট্রিওল নলাকার, প্রায় ০.২৫ µm ব্যাসসম্পন্ন ও ৩.৭ µm লম্বা। এরা দেখতে বেলনাকার, দুমুখ খোলা পিপার মতো।
প্রত্যেক সেন্ট্রিওল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত, হথা প্রাচীর বা সিলিন্ডার ওয়াল (cylinder wall), ত্রয়ী অণুনালিকা (microtubule) বা ট্রিপলেটস (triplets) এবং যোজকর লিংকার (linkers)।
সেন্ট্রিওলপ্রাচীর ৯টি ত্রয়ী অণুনালিকা দিয়ে গঠিত। প্রত্যেক অণুনালিকা সমান দূরত্বে অবস্থিত এবং তিন চিহ্নিত করা হয়।
ভিতরেরটি A, মাঝেরটি B এবং বাইরেরটি C। উপনালিকাগুলো পার্শ্ববর্তী অণুনালিকার সঙ্গে একধরনো করে উপনালিকা (sub microtubules) নিয়ে গঠিত।
পরস্পর সংলগ্ন তিনটি উপনালিকাকে যথাক্রমে A B এবং C নার ঘন তত্ত্বর সাহায্যে যুক্ত থাকে।
সেন্ট্রিওলের চারপাশে অবস্থিত গাঢ় তরলকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার (centrosphere) সেন্ট্রোস্ফিয়ারসহ সেন্ট্রিওলকে সেন্ট্রোজোম (centrosome) বলে। সেন্ট্রিওল প্রধানত প্রোটিন, লিপিড ও ATP নিয়ে গঠিত