৩। একটি কোডন কখনো একাধিক অ্যামিনো অ্যাসিডকে কোড করে না।
৪। কোডন তৈরিতে নিউক্লিওটাইড (এখানে letter বা অক্ষর) কখনো ওভারলেপ করে না (non-overlapping) বরং ক্রমসজ্জা (sequence) অনুসরণ করে।
৫। কোডনসমূহ সার্বজনীন (universal) অর্থাৎ বিশ্বের সকল প্রজাতির জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং সেই আদিকাল থেকে শত বিবর্তন ধারা অতিক্রম করে এখনও একই রকম আছে।
৬। জেনেটিক কোড বা কোডন সর্বদা তিন অক্ষরবিশিষ্ট বা ট্রিপলেট হয়।
৭। শুরু ও সমাপ্তি কোডন সুনির্দিষ্ট। কোডন AUG দিয়ে পলিপেপ্টাইড-এর শুরু এবং কোডন UAA, UAG বা UGA দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।
৮। দুটি কোডনের মধ্যে অতিরিক্ত নিউক্লিওটাইড থাকে না। আবার সমাপ্তি কোডন না আসা পর্যন্ত অব্যাহতভাবে অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তি চলতে থাকে।
সামান্য ব্যতিক্রম
মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে (এদের DNA আদিকোষ থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়) এবং আদিকোষের কোডনের সাজানো পদ্ধতিতে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।
কতক প্রোটিস্ট-এ UAA এবং UAG ট্রান্সলেশন বন্ধ করার নির্দেশ না দিয়ে বরং গুটামিন কোড করে।
এর ব্যাখ্যা এখনো জানা যায়নি, একে সার্বজনীন-এর সামান্য ব্যতিক্রমই ধরা হয়।
বংশগতি নির্ণয়ে DNA-এর ভূমিকা

চিত্র ১.৪৪: জেনেটিক কোড।
আমরা জেনেছি মাতা-পিতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে তাদের সন্তান-সন্তুতিতে স্থানান্তরিত হওয়াকে বলে বংশগতি।
বংশগতির ভিত্তি হলো বংশগতি বস্তু অর্থাৎ ক্রোমোসোম, DNA, RNA ইত্যাদি। কাজেই বংশগতি নির্ণয়ে এদের ভূমিকা সরাসরি।
DNA-এর ভূমিকা: এখন সর্বজন স্বীকৃত যে ক্রোমোসোমে অবস্থিত জিনই জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে DNA-এর অংশবিশেষই জিন হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ DNA-ই জিন।
ক্রোমোসোমের একমাত্র স্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ DNA। কাজেই কেবলমাত্র DNA-ই বংশগতির বস্তু এবং বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি (chemical basis of heridity)।
DNA-ই সরাসরি মাতা-পিতা হতে বৈশিষ্ট্য তার সন্তান-সন্তুতিতে বহন করে নিয়ে আসে।
সার-সংক্ষেপ
কোষ: জীবদেহ গঠনকারী একক হলো কোষ। জীবদেহের সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দুও কোষ। কাজেই জীবদেহের গঠন ও কাজের এককই কোষ হিসেবে পরিচিত।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ সালে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে তাতে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকার প্রকোষ্ঠ দেখতে পান এবং ঐ প্রকোষ্ঠকেই নাম দেন Cell, যার বাংলা করা হয়েছে কোষ।
যে কোষ জীবের দেহ গঠন করে তাকে বলা হয় দেহকোষ, আবার জননকাজের জন্য সৃষ্ট শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কোষকে বলা হয় জননকোষ।
ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবের কোষকে বলা হয় আদিকোষ, কারণ এদের কোষ আদি প্রকৃতির, সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন।
পুষ্পক উদ্ভিদ, মানুষ ইত্যাদি জীবের কোষ হলো প্রকৃত কোষ, কারণ এদের কোষ উন্নত প্রকৃতির, সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।
ক্রোমোসোম : ক্রোমোসোম হলো কোষস্থ সূত্রাকার অঙ্গাণু যা সাধারণত নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত।
ক্রোমোসোমের মূল উপাদান হলো DNA, কাজেই ক্রোমোসোমই বংশগতির ধারক ও বাহক।
ক্রোমোসোম আবিষ্কৃত হয় ১৮৭৫ সালে কোষ আবিষ্কার হওয়ার অনেক পরে) এবং নামকরণ করা হয় ১৮৮৮ সালে।
ক্রোমোসোম অর্থ হলো 'রঞ্জিত দেহ' কারণ এরা কতগুলো বেসিক রং ধারণ করতে পারে।
প্রতিটি জীবপ্রজাতি একটি সুনির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম বহন করে, যার ১৬০০ পর্যন্ত জানা গেছে।
২ থেকে 2n সংখ্যা প্রজাতিভেদে 2n = = । প্রতিটি ক্রোমোসোমে কমপক্ষে একটি সেন্ট্রোমিয়ার