৫৪
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
DNA অণুর রেপ্লিকেশন (Replication of DNA) বা প্রতিলিপন *
পরে। প্রাথমিকভাবে DNA অণুর রেপ্লিকেশন তথা প্রতিলিপনের জন্য বিজ্ঞানী লেভিয়েন্থাল ও ক্রেন তিনটি অনুকল্প প্রস্তাব
DNA-এর প্রতিলিপন হয় তা অনেক আগে থেকেই জানা ছিল কিন্তু সঠিক প্রতিলিপন পদ্ধতি সম্বন্ধে জানা যায় অনেক
করেন (১৯৫৬);
এগুলো হলো-
(১) সংরক্ষণশীল অনুকল্প, (২) অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্প এবং (৩) বিচ্ছুরণশীল অনুকল্প।
নিম্নে প্রক্রিয়াগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো-
(১) সংরক্ষণশীল অনুকল্প (Conservative hypothesis): এ প্রক্রিয়ায় মাতৃ DNA থেকে যে
দুটি নতুন DNA সূত্র সৃষ্টি হয় তার একটিতে ২টি অণু সূত্রই আসে মাতৃ DNA থেকে এবং
অপরটিতে ২টি অণুসূত্রই থাকে নতুনভাবে সৃষ্ট।
অনুকল্পটি সঠিক বিবেচিত হয়নি।
(২) অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্প (Semiconservative hypothesis): এ প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ
DNA অণু থেকে দুটি নতুন DNA অণু সৃষ্টি হয়।
নতুন সৃষ্ট DNA অণু দুটোর প্রত্যেকটিতে একটি
মাতৃসূত্র এবং অন্যটি নতুন সূত্র থাকে। এজন্য একে অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্প বা পদ্ধতি বলে।
অনুকল্পটি পরে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
(৩) বিচ্ছুরণশীল অনুকল্প (Dispersive hypothesis): এ প্রক্রিয়ায় মাতৃ DNA অণুর সূত্রদ্বয়
বিশ্লিষ্ট বা খণ্ডিত হয়ে প্রতিলিপি সৃষ্টি করে।
এরপর বিভিন্ন পরিমাণের নতুন ও পুরাতন (মাতৃ) খণ্ডকের
সংযুক্তির মাধ্যমে দুটো DNA অণু গঠিত হয়। অনুকল্পটি সঠিক বিবেচিত হয়নি।
১৯৫৭-১৯৫৮ সালে প্রমাণিত হয় যে, DNA রেপ্লিকেশন হয় অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতিতে।
স্টেন্ট (১৯৫৭) 'অর্ধ-সংরক্ষণশীল' শব্দটি প্রথম প্রয়োগ করেন।
মেসেলসন-স্টা (Messelson-
Stahl, 1958) পরীক্ষার মাধ্যমে E. coli ব্যাকটেরিয়াতে অর্ধ-সংরক্ষণশীল অনুকল্পটি প্রমাণ করেন।
১৯৬০ সালে সুয়েকা মানব হেলা কোষে এবং সাইমন ১৯৬১ সালে Chlamydomonas শৈবালে
অর্ধ-সংরক্ষণশীল পদ্ধতি প্রমাণ করেন।