এ অধ্যায়ের প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ (Recapitulation)
১. বাহ্যিক কিংবা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার কারণে প্রাণিদেহে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তার বহিঃপ্রকাশকে আচরণ বলে।
২.
প্রাণিবিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাণিদের আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় তাকে ইথোলজি বা আচরণ-
বিদ্যা বলে।
৩. প্রাণিদেহে যার কারণে উদ্দীপনা ঘটে তাকে বলে উদ্দীপক। দেহে যে পরিবর্তনের কারণে ইন্দ্রিয়-সংলগ্ন অন্তর্মুখী
স্নায়ু উদ্দীপিত হয় তাই উদ্দীপক।
৪. পারিপার্শ্বিক উদ্দীপনার প্রতি উপযুক্ত সাড়া প্রদর্শনের জন্য জীবদেহের অবস্থানের পরিবর্তনজনিত উপযোজনকে
ওরিয়েন্টশন বলে।
ওরিয়েন্টেশন জীবের অভিযোজিত আচরণের এক সরল অবস্থা। অন্যকথায়, ওরিয়েন্টেশন
হচ্ছে কোনো উদ্দীপকের প্রভাবের ফলে দেহকে সরিয়ে বা ঘুরিয়ে মানানসই অবস্থায় নেওয়া।
৫. উদ্দীপকের প্রভাবে অবিরত এবং সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত ওরিয়েন্টেশনকে ট্যাক্সিস বলে।
অর্থাৎ উদ্দীপকের উৎসের
সঙ্গে সম্পর্ক রেখে দেহ অক্ষের অবস্থানগত পরিবর্তনের নাম ট্যাক্সিস।
এক্ষেত্রে চলনের সঙ্গে ট্যাক্সিসের যৌথ
কার্যকারিতায় উদ্দীপকের উৎসের প্রতি, উৎস থেকে দূরে বা নির্ধারিত কোণে প্রাণীর দৈহিক অবস্থানের পরবর্তন ঘটে।
৬. কোন উদ্দীপকের প্রভাবে মস্তিষ্কের নির্দেশ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পেশি বা কোন অঙ্গে যে অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি
হয় তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন বলে।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া সুষুমাকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে প্রতিবর্ত চক্র নামক
এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত স্নায়ুপথ দিয়ে ঘটে থাকে।
৭. যেসব প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত, স্থির এবং কোনো শর্তাধীন নয় তাদের সহজাত বা অনপেক্ষ প্রতবর্ত ক্রিয়া বলে।
৮.
যেসব প্রতিবর্তী ক্রিয়া জন্মগত নয়, বার বার অনুশীলনের ফলে অর্জিত হয় এবং শর্তসাপেক্ষ, তাদের অর্জিত বা
সাপেক্ষ প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।
৯. জন্মগত যে শক্তির সাহায্যে একটি প্রজাতির সকল সদস্য কোনো শিক্ষণ ছাড়া এবং উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্বন্ধে
অবহিত না থেকে আত্মরক্ষা ও প্রজাতি রক্ষায় বংশপরম্পরায় একইভাবে কাজ করে থাকে সেটি সহজাত আচরণ
বা ইনসটিংক্ট।
১০. স্থায়ী বাসভূমি থেকে নতুন কোনো অনুকূল পরিবেশে যাত্রা এবং যেখানে সাময়িক বসবাসের পর পুনরায় স্থায়ী
বসতিতে প্রত্যাগমনকে পরিযান বা মাইগ্রেশন বলে।
১১. যে প্রক্রিয়া একেক সদস্যের আচরণের অভিজ্ঞতার আলোকে অভিযোজনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় সে
প্রক্রিয়া শিখন নামে পরিচিত।
১২. যে আচরণে প্রাণী শুধু নতুন উদ্দীপনায় অভ্যস্তই হয়না, বরং কম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপনা বর্জনেও উদ্যোগী হয় তাকে
অভ্যাসগত আচরণ বলে।
১৩. শৈশবে প্রত্যেক প্রাণীর মগজে যা কিছু মুদ্রিত (imprint) হয় পরবর্তীতে তার আলোকেই সে বিভিন্ন উদ্দীপনায় সাড়া
দিয়ে থাকে।
তাকে অনুকরণ বলে।
১৪. সংহতি, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবদ্ধতার ভিত্তিতে বসবাসের জন্য যে আচরণ প্রকাশিত হয় সেটি সামাজিক আচরণ।
১৫.
প্রাণীর জিন নির্ধারিত যেসব আচরণধারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদর্শিত হয় এবং প্রজাতির অপর কোনো সদস্যকে না দেখেই বা
অন্যের কাছ থেকে না শিখেই প্রকাশিত হয় তাকে নির্ধারিত ক্রিয়া ধারা বা ফিক্সড অ্যাকশন প্যাটার্ন (FAP) বলে।
১৬. প্রতিকূল পরিবেশ ও শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য পিতা-মাতা কর্তৃক ডিম ও অপত্য (শিশু) সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ
ও লালন-পালন করাকে অপত্য যত্ন বা বাৎসল্য আচরণ বলে।
১৭. রাজকীয় জেলি হচ্ছে কর্মী মৌমাছির হাইপোফ্যারিঞ্জিয়াল ও ম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত ভিটামিন, প্রোটিন ও
স্টেরয়েড সমৃদ্ধ এক ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য যা রাণী মৌমাছিকে লার্ভা দশায় ও পূর্ণাঙ্গ দশায় খাওয়ানো হয়।
১৮. কতক প্রজাতির প্রাণী সামাজিক আচরণের এক পর্যায়ে স্বজাতীয় অন্যান্য সদস্যদের কল্যাণার্থে নিজেদের
সুখ-স্বাচ্ছন্দ এমনকি জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে থাকে।
একই প্রজাতির অন্য সদস্যদের প্রতি প্রাণীর এরূপ
আচরণকে অ্যান্ড্রুইজম বলে।