
২০
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
রাসায়নিক গঠন: গলগি বডি আবরণীতে ৬০ ভাগ প্রোটিন এবং ৪০ ভাগ ফসফোলিপিড থাকে।
এছাড়া এতে ফ্যাটি
অ্যাসিড, ভিটামিন-K ও ক্যারোটিনয়েড থাকে। বিভিন্ন ধরনের এনজাইম দ্বারা এদের থলিগুলো পূর্ণ থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ
এনজাইমগুলো হলো- ADPasc, ATPase, CTPase, TTPase, NADH সাইটোক্রোম ও গ্লুকোজ-৬-ফসফেটেজ।
উৎপত্তি: সম্ভবত মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম হতে উৎপত্তি হয়।
প্রকারভেদ : তিন প্রকার; যথা-(১) সিস্টার্নি বা চ্যাপ্টা থলি, (২) ভেসিকল বা ছোটো গহ্বর, (৩) ভ্যাকুণ্ডল বা বড়ো গহ্বর।
গলগি বডির কাজ (Function of Golgi Apparatus): (ⅰ) লাইসোসোম ও ভিটামিন তৈরি করা।
(ii) অ-প্রোটিন
জাতীয় পদার্থের (যেমন- লিপিড) সংশ্লেষণ করা, (iii) কিছু এনজাইম ও প্রাণরস নির্গমন করা, (iv) কোষ বিভাজনকালে
3X কোষপ্লেট তৈরি করা, (v) প্রোটিন, হেমিসেলুলোজ, মাইক্রোফাইব্রিল তৈরি করা, (vi) কোষস্থ পানি বের করা, (vii)
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামে প্রস্তুতকৃত দ্রব্যাদি ঝিল্লিবদ্ধ করা, (viii) বিভিন্ন পলিস্যাকারাইড সংশ্লেষণ ও পরিবহণে অংশগ্রহণ
করা।
তাই উদ্ভিদকোষে গলগি বডিকে কার্বোহাইড্রেট ফ্যাক্টরি বলা হয়। (ix) মাইটোকন্ড্রিয়াকে ATP উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ
করা, (x) প্রোটিন ও Vit-C সঞ্চয় করা, (xi) কোষ প্রাচীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদার্থ ক্ষরণ করা, (xii) শুক্রাণুর
অ্যাক্রোজোম তৈরিতে সহায়তা করা এবং (xiii) লিপিড সংশ্লেষণ ও প্রোটিন ক্ষরণের সাথে জড়িত থাকা।
*
৩। লাইসোসোম (Lysosome)
সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত যে অঙ্গাণু হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের আধার হিসেবে কাজ করে তাকে লাইসোসোম বলে
(Gk. Lyso = হজমকারী এবং soma = বস্তু)।
বহু সংখ্যক নানাবিধ হাইড্রোলাইটিক এনজাইম একটি একস্তরী ঝিল্লি দ্বারা
আবদ্ধ হয়ে একটি লাইসোসোম তৈরি করে।
১৯৫৫ সালে ক্রিশ্চিয়ান দ্য দু'বে (Christain de Duve, 1917–2013) এ
ধরনের অঙ্গাণুর নামকরণ করেন লাইসোসোম।
উৎপত্তি: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম হতে এদের উৎপত্তি এবং
গলগি বডি কর্তৃক প্যাকেজকৃত।
বিস্তৃতি: প্রাণিদেহের শ্বেত রক্তকণিকা কোষে অধিক সংখ্যায়
লাইসোসোম দেখা যায়।
প্রায় সব প্রাণিকোষে, বিশেষ করে বৃক্ক
কোষ, অন্ত্রের আবরণী কোষেও লাইসোসোম আছে। RBC-তে
লাইসোসোম থাকে না।
সম্প্রতি উদ্ভিদকোষেও লাইসোসোমের ন্যায়
স্ফেরোসোম (spherosome) আবিষ্কৃত হয়েছে। এদেরকে
ওলিওসোম (oleosome)-ও বলা হয়। এরা আকারে ছোটো।
তৈল
জাতীয় পদার্থ ঝিল্লিবদ্ধ করা এদের প্রধান কাজ।। Oleosome-এর
ঝিল্লি একস্তরবিশিষ্ট বলে জানা যায়।
অপাচিত চর্বির
ওমায়েলিন তত্ত্ব
দানা
ভ্যাকুওল
পরিপাক এনজাইম
চিত্র ১.৯: লাইসোসোমের গঠন।
ভৌত গঠন : লাইসোসোম সাধারণত বৃত্তাকার (গোলাকার), এদের ব্যাস সাধারণত ০.২-০.৮ µm। বৃক্ক কোষের
লাইসোসোম অপেক্ষাকৃত বড়ো হয়ে থাকে।
প্রতিটি লাইসোসোম একটি একস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এদের.
ভ্যাকুওল ঘন তরলে পূর্ণ থাকে।
কতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লিকে স্থিতি দান করে যার ফলে লাইসোসোম থেকে এনজাইমসমূহ বের হয়ে আসতে
পারে না।
এদেরকে বলা হয় লাইসোসোম stabilizer, যেমন- কোলেস্টেরল; কর্টিজেন। কতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লি
বিদীর্ণ হতে সাহায্য করে যার ফলে এর এনজাইমসমূহ বের হয়ে এসে অটোলাইসিস ঘটায়।
এদেরকে বলা হয় labilizer,
যেমন-প্রোজেস্টেরন, টেস্টোস্টেরন।
রাসায়নিক গঠন: লাইসোসোমের আবরণী ঝিল্লি লিপো-প্রোটিন নির্মিত। ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ অবস্থায় এতে প্রায় ৪০-৫০
ধরনের এনজাইম থাকে।
উল্লেখযোগ্য এনজাইমগুলো হলো DNAase, RNAase, অ্যাসিড লাইপেজ, এস্টারেজ,
স্যাকারেজ, লাইসোজাইম, ফসফোলাইপেজ ইত্যাদি। প্রতিটি লাইসোসোমে নির্দিষ্ট এক ধরনের এনজাইম বিদ্যমান।
এ
লাইসোসোমের কাজ : লাইসোসোমের এনজাইমসমূহ অম্লীয় পরিবেশে কর্মক্ষম হয়; সাইটোপ্লাজমের নিউট্রাল pH-
এরা কর্মক্ষম থাকে না;
তাই কোষের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। প্রয়োজনের সময় সাইটোপ্লাজম থেকে প্রোটন (H') এনে
অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে এরা কাজ করে।
এদের কাজ হলো-(i) এরা ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) পদ্ধতিতে