সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

সহজাত বা স্বভাবজাত আচরণ বা ইনসটিংক্টস (Instincts)

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 12_2_3.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 12_2_3.jpg
সাগর পাড়ে সর্বোচ্চ জোয়ার থেকেও খানিকটা দূরে যে সামুদ্রিক কাছিম ডিম পেড়ে বালু দিয়ে ঢেকে রেখে যায় তা
থেকে দুমাসের মাথায় ডিম ফুটে কাছিমের বাচ্চা ফুটে অন্য কোনো দিকে না গিয়ে সোজা সমুদ্রের পানিতে ছুটে যায়।
পৃথিবীর সব সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চাই এ কাজ করে। বাচ্চাটাকে কেউ যদি সমুদ্রবিমুখে ঘুরিয়ে দেয় তাহলে খানিকটা
থমকে আবার ঘুরে সাগরপানে ছুটে যায়।
সাগরপানে ছুটে যেতে কাছিমের বাচ্চাকে কেউ নির্দেশ দেয়নি, বরং এটি
জিনগতভাবে স্থায়ী ও বংশগত আচরণ।
জন্মগত যে শক্তির সাহায্যে একটি প্রজাতির সকল সদস্য কোনো শিক্ষণ ছাড়া
এবং উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্বন্ধে অবহিত না থেকে আত্মরক্ষা ও প্রজাতিরক্ষায় বংশপরম্পরায় একইভাবে কাজ করে থাকে
সেটাই ইনসটিংক্ট।
আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল,
ইনসটিংক্ট হচ্ছে নিসর্গ পরিচালিত এক
শক্তি। ডারউইন (১৮৫৯) সর্বপ্রথম
ইনসটিংক্টের বাস্তবমুখি একটি সংজ্ঞা
দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তাঁর সংজ্ঞা অনুযায়ী,
প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে গড়ে
উঠা এক জটিল প্রতিবর্তী।
ডারউইনের
সংজ্ঞায় প্রচ্ছন্নভাবে হলেও এ বক্তব্যটি উঠে
এসেছে যে উত্তরাধিকার সূত্রের মাধ্যমে
আগত সাড়াদানের প্রক্রিয়ায় ইনসটিংক্টের
প্রকাশ ঘটে।
সহজাত রিলিজিং পদ্ধতি (IRM)
রিলিজিং থেকে চাক্ষুষ উদ্দীপনা
রিলিজার
পেশি
ফিক্সড অ্যাকশন
প্যাটার্ণ (FAP)
চিত্র ১২.২: রিলিজারের সঙ্গে IRM ও FAP-এর সম্পর্ক

লরেঞ্জ (Lorenz, 1937) ডারউইনের বক্তব্য মেনে নিলেও কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে বলেন যে প্রত্যেক
প্রাণি-প্রজাতির আচরণ কতকগুলো স্থায়ী (বা অপরিবর্তনীয়) অ্যাকশন প্যাটার্ণ (Fixed Action Pattern, FAP) নিয়ে
গঠিত, আর এগুলো হচ্ছে প্রজাতি-নির্দিষ্ট, অতএব জিনগতভাবে নির্ধারিত (genetically determined)।
লরেঞ্জ আরও
বলেছেন যে প্রতিটি FAP-ই ইনসটিংক্ট এবং প্রাণিদেহে অনেক ইনসটিংক্ট কেন্দ্র রয়েছে।
টিনবারগেন (Tinbergen,
1951) লরেঞ্জ প্রদত্ত ধারণাকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন।
যা হোক, সদ্যজাত হেরিংগাল ও তার মায়ের মধ্যে যে সাড়া (response) প্রদর্শিত হয় তা থেকে ইনসটিংক্টের সুন্দর
ব্যাখ্যা দেওয়া যায়।
ক্ষুধার্ত হেরিংগাল ছানা চাক্ষুষ উদ্দীপনার প্রতি সংবেদনশীল। অন্যদিকে, বাসায় ছানার উপস্থিতি
পূর্ণাঙ্গ হেরিংগাল-এ চাক্ষুষ উদ্দীপনা (visual stimuli) হিসেবে কাজ করে।
রিলিজিং উদ্দীপনার মাধ্যমে যে বার্তার সৃষ্টি
হয় তা অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের একটি কেন্দ্রে বাহিত হয়।
এ কেন্দ্রই সুনির্দিষ্ট বার্তার প্রতি নির্দিষ্ট সাড়া দেয়।
এ প্রক্রিয়াটি সহজাত রিলিজিং পদ্ধতি (Innate Releasing Mechanism, IRM)।
IRM নির্দিষ্ট পেশিকে সঙ্কোচন ও
প্রসারণের নির্দেশ দেয়। ফলে ছানার ঠোকর পড়ে পূর্ণাঙ্গ হেরিংগাল-এর ঠোঁটে অবস্থিত লাল ফোঁটার উপর।
এটাই হচ্ছে
স্থায়ী অ্যাকশন প্যাটার্ণ (FAP)।