সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

১.২ প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি (continuation)

B_1st_hasan_biology_haters_1_14.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_1_14.jpg

১৪
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
ইন্টিগ্রাল প্রোটিন-এগুলো
(খ) মেমব্রেন প্রোটিন: কোষঝিল্লিতে তিন ধরনের প্রোটিন শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন: (ⅰ)
ঝিল্লির উভয় সার্ফেস পর্যন্ত ব্যাপ্ত থাকে।
(ii) পেরিফেরাল বা বাহ্যিক প্রোটিন-এগুলো ঝিল্লির সার্ফেসে হালকাভাবে অবস্থান
মেমব্রেনে অবস্থিত প্রোটিনই
প্রোটিন।
মেমব্রেন প্রোটিনের কাজ
প্রকৃতকোষে প্লাজমামেমব্রেন অনেক ধরনের কাজ করে থাকে। প্রধান কাজ হলো একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ
করা যাতে পানিগ্রাহী অণু, আয়ন সহজে এপার-ওপার আসা-যাওয়া করতে পারে।
এ কাজটি করে থাকে ফসফোলিপিড
বাইলেয়ার। অন্য সকল কাজ করে থাকে মেমব্রেন প্রোটিন। যেমন-
১। হরমোন, নিউরোট্রান্সমিটার, রিসেপ্টর মেডিয়েটেড এন্ডোসাইটোসিস ইত্যাদির জন্য রিসেপ্টর হিসেবে কাজ করে।
যেমন- ইনসুলিন রিসেপ্টর।
২। বিশেষ চ্যানেল, পাম্প, ক্যারিয়ার ও ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন অণু, আয়ন, ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট
করে।
৩। এনজাইম হিসেবে কাজ করে। সেল মেমব্রেনে অবস্থিত 'মেমব্রেন বাউন্ড এনজাইম' adenylate cyclase ATP
থেকে সাইক্লিন AMP সংশ্লেষ করে।
৪। টিস্যু এবং অঙ্গের কোষ গ্রুপের সাথে শক্তভাবে ধরে রাখে অর্থাৎ কোষের সাথে কোষের সংযুক্তি রক্ষা করে।
৫। কতক প্রোটিন সাইটোস্কেলিটনের সাথে সংযুক্ত হয়ে স্থির অবস্থায় থাকে।
(গ) গ্লাইকোক্যালিক্স: এটি ঝিল্লির ওপর একটি চিনির স্তরবিশেষ। ফসফোলিপিড অণুর সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত
হয়ে গ্লাইকোলিপিড ও প্রোটিন অণুর সাথে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে।
গ্লাইকোপ্রোটিন এবং
গ্লাইকোলিপিডকে মিলিতভাবে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সবসময় ঝিল্লির বহিঃস্তরে অবস্থান
করে।
(ঘ) কোলেস্টেরল: এটি লিপিড জাতীয় পদার্থ তবে ফ্যাট বা তেল নয়, এটি স্টেরয়েড।
কোলেস্টেরলের এক মাথায়
অবস্থিত OH গ্রুপটি পানিগ্রাহী, অন্য অংশ পানিবিকর্ষী। ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে এগুলো অবস্থান করে।
প্রাণিকোষের ঝিল্লিতে এটি অপেক্???াকৃত বেশি থাকে। সেল সার্ফেস (cell surfaces)-এ ভেদ্যতা (permeability) ও
এনজাইমের কার্যকারিতা পরিবর্তনশীল হতে দেখা যায়।
এতে বোঝা যায়, সার্ফেস এলাকা এবং এর উপাদান উভয়ই
পরিবর্তনযোগ্য। ফ্লুইড-মোজাইক মডেল অনুযায়ী এসব পরিবর্তনশীলতা ঘটা সম্ভব।
এ মডেল অনুযায়ী প্রোটিন এবং গঠন
উপাদানসমূহকে স্থির (fixed) ধরা হয় না, বরং মনে করা হয় এরা ফসফোলিপিডে ভেসে থাকে।
ফলে বস্তুর একটি
মোজাইক তৈরি হয়। প্রোটিনসমূহ আংশিক পানিগ্রাহী (hydrophilic-যখন ঝিল্লির সার্ফেস-এ থাকে) এবং আংশিক
পানিরোধী (hydrophobic-যখন লিপিডের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় মাঝের দিকে থাকে) হতে পারে।
এ মডেল কোষঝিল্লির
কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন হতে উৎপন্ন অন্য দ্রব্যাদির (protein derivatives) উপস্থিতি সমর্থন করে।
কতিপয় বস্তু কোষের
ভেতর হতে বাইরে বের করতে এবং বাইর হতে ভেতরে প্রবেশ করাতে কোষঝিল্লির কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোষঝিল্লিটি অনেকটা তরল পদার্থের ন্যায় আচরণ করে।
লিপিড অণু তরল
পদার্থের ন্যায় ঝিল্লির একই স্তরে স্থান পরিবর্তন করে, পাশে ব্যাপ্ত (diffuse) হয় এবং অক্ষ (long axis) বরাবর ঘুরতে
(rotate) পারে।
একে flip-flop movement বলে। এ তথ্যগুলো ফ্লুইড-মোজাইক মডেলকে বিশেষভাবে সমর্থন করে।
কোষঝিল্লির রাসায়নিক উপাদান : (i) কোষঝিল্লিতে থাকে প্রোটিন (৬০-৮০%), লিপিড (২০-৪০%) এবং কোনো
কোনো ক্ষেত্রে পলিস্যাকারাইড (polysaccharides) (৪-৫%)।
(ii) প্রোটিন গাঠনিক উপাদান হিসেবে (structural),
এনজাইম হিসেবে (enzymes) এবং বাহক প্রোটিন (carrier protein) হিসেবে থাকে।
এদের গঠন ও পরিমাণগত পার্থক্য
থাকতে পারে। (iii) কোষঝিল্লির মোট শুষ্ক ওজনের প্রায় ৭৫ ভাগই লিপিড।
লিপিড প্রধানত ফসফোলিপিড
(phospholipids) হিসেবে থাকে। ইতোমধ্যেই পাঁচ রকম ফসফোলিপিড শনাক্ত করা হয়েছে।
সবচেয়ে সরল ফসফোলিপিড
হলো ফসফোটাইডিক অ্যাসিড এবং অন্য চারটি জটিল প্রকৃতির (complex)। জটিল ফসফোলিপিডের মধ্যে লেসিথিন