আর mRNA হচ্ছে DNA অণুর একটি অংশের হুবহু প্রতিচ্ছবি। তাহলে বোঝা যায় প্রোটিন অণুতে অ্যামিনো অ্যাসিডের সংখ্যা ও অনুক্রম পরোক্ষভাবে DNA দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
আদিকোষে নিউক্লিয়াস না থাকায় একই সাথে এক প্রান্তে mRNA-র ট্রান্সক্রিপশন চলতে থাকে এবং অপর প্রান্তে ট্রান্সলেশন ঘটতে পারে।
প্রোটিন বড়ো অণুর জৈব রাসায়নিক পদার্থ, তবে মাত্র ২০ প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড বিভিন্ন অনুক্রমে সজ্জিত হয়ে বড়ো বড়ো প্রোটিন অণু গঠন করে।
দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা সংযুক্ত থাকে।
✓ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন এর মধ্যে পার্থক্য ***
| ট্রান্সক্রিপশন | ট্রান্সলেশন |
| ১। DNA গ্রথিত রাসায়নিক তথ্যগুলোকে RNA (mRNA) অণুতে কপি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সক্রিপশন। | ১। mRNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। |
| ২। এক্ষেত্রে ATP, GTP, CTP ও UTP উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয় | ২। এক্ষেত্রে সাধারণত 20টি অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যবহৃত হয় । |
| ৩। এ প্রক্রিয়াটি কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে ৪। ট্রান্সক্রিপশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমের সাথে সম্পর্কিত নয় ৫। এ প্রক্রিয়ায় RNA পলিমারেজ এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ৬। প্রোমোটারে সংযুক্ত হওয়ার পর RNA পলিমারেজ প্রথমে DNA এর পাক খুলে নেয়। | ৩। এ প্রক্রিয়াটি সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয় ৪। ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি কোষের রাইবোসোমের সাথে সংশ্লিষ্ট। ৫। এ প্রক্রিয়ায় অ্যাকটিভেটিং এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৬। এনজাইমে tRNA এর সাথে নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তির পর বের হয়ে যায় এবং AMP পারে এনজাইমে মুক্ত হয়। |
। । । ।
জীববিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় প্রত্যয় বা Central Dogma of Biology :
(i) DNA থেকে সৃষ্টি হয় RNA
(ii) RNA থেকে সৃষ্টি হয় প্রোটিন
(iii) প্রোটিন হলো সর্ববৃহৎ কর্মী অণু (worker molecule)
(iv) কোষের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ ও প্রকাশ করে প্রোটিন।
কাজেই দেখা যায়, বংশগতির তথ্যসমূহ প্রবাহিত হয় DNA থেকে RNA-তে এবং RNA থেকে প্রোটিনে, আর প্রোটিন জীবের সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।

চিত্র ১.৪২: জিন (ছাঁচ DNA)-তে কোড; mRNA-তে কোডন এবং প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিড সংযুক্তি: জিন থেকে ট্রান্সক্রিপশনে mRNA এবং mRNA থেকে ট্রান্সলেশনে প্রোটিন সেন্ট্রাল ডগমা
জীবসমূহের কার্যকলাপ বোঝতে হলে DNA থেকে RNA এবং RNA থেকে প্রোটিনে বংশগতীয় তথ্য প্রবাহ স্থানান্তর প্রক্রিয়া জানা অতি জরুরি, তাই এ তথ্যপ্রবাহ প্রক্রিয়াকে Central dogma বলা হয়।
A dogma is a core belief or set of ideas"."