৮. ভৌগোলিক বিস্তৃতিগত প্রমাণ (Evidence from Geographical Distribution)
প্রাণিদের বিস্তারের উপর ভিত্তি করে প্রকৃতিবিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace
1823-1913) ১৮৭০ সালে পৃথিবীকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করেছেন।
একটি অঞ্চলের জীবের সাথে অন্যটির সাদৃশ্য খুব
কমই। জীবের এমন ভৌগোলিক বিস্তার অভিব্যক্তিরই ধারা নির্দেশ করে।
একমাত্র অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে প্রাপ্ত মারসুপিয়াল (marsupial) স্তন্যপায়ীদের উপস্থিতি ও অতীত বিস্তারকে
বিবর্তনের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা যায়।
ভূতাত্ত্বিক তথ্য থেকে জানা গেছে যে, অস্ট্রেলিয়া অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে এমন এক
সময় আলাদা হয়ে গিয়েছিল যখন মারসুপিয়ালরা পৃথিবীর অনেকাংশে বিস্তৃত ছিল এবং তখনও অমরাধর (placental
)
স্তন্যপায়ীদের উদ্ভব ঘটেনি।
সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় সম্ভবত গুটিকয়েক ধরনের আদি স্তন্যপায়ী বাস
করত।
মূল ভূখন্ডে তখন অমরাধর স্তন্যপায়ীদের আবির্ভাবে আদি প্রাণীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত ও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
অমরাধর প্রাণী অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে না পারায় মারসুপিয়ালরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হওয়ার
সুযোগ পেয়ে পরিবেশের প্রতিটি অংশে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে।