সেন্ট্রাল ডগমাটি নিম্নরূপ:
ট্রান্সক্রিপশন
DNA → mRNA
কোষ ও এর গঠন
ট্রান্সলেশন
প্রোটিন (পলিপেপটাইড শৃঙ্খল)
৬৭
Central dogma হলো আণবিক জীববিজ্ঞানের (molecular biology) মৌলিক নীতি। Francis Crick ১৯৫৬ সালে Central dogma নামটি প্রদান করেন।
বর্তমানে একে বলা হয় আণবিক বংশগতিবিদ্যার (molecular genetics) মৌলিক নীতি (fundamental principle) ।
* Central dogma-র কোনো ব্যতিক্রম আছে কি? সকল জিন কি mRNA তৈরি করে? সব RNA থেকে প্রোটিন তৈরি হয় কি?
tRNA, RNA, RNAi (interfering RNA) এদের থেকে কখনো প্রোটিন তৈরি হয় না।
(i) রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে তথ্য DNA এর এক অণু থেকে অন্য অণুতে যায়।
(ii) DNA থেকে তথ্য mRNA তে প্রবাহিত হয় (ট্রান্সক্রিপশন)
(iii) mRNA থেকে তথ্য প্রোটিনে যায় (ট্রান্সলেশন)
এটা হলো তথ্য প্রবাহের স্বাভাবিক পথ।
রিভার্জ ট্রান্সক্রিপশনের RNA থেকে তথ্য DNA-তে আসে, পুনরায় mRNA-তে যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রোটিনে যায়।
এসব কতক ভাইরাসে দেখা যায়, ভাইরাস কোষী নয়। কাজেই কেন্দ্রীয় প্রত্যয় RNA ভাইরাসের জন্য ভিন্নতর।
জিন (Gene)
ছেলেটি তার বাবার ???ুদ্ধিমত্তা পেয়েছে বা মেয়েটি তার মায়ের চুল ও চোখ পেয়েছে, এমন কথা আমরা বলতে শুনি, বাস্তবে এমনটি দেখেও থাকি।
কিন্তু কেমন করে কার মাধ্যমে বাবা বা মা থেকে তাদের ছেলে-মেয়েতে বৈশিষ্ট্যগুলো স্থানান্তরিত হলো?
একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকেই ঐ ছেলেটি বা মেয়েটির জীবন শুরু হয়েছে।
ঐ নিষিক্ত ডিম্বাণুতে না ছিল বাবার বুদ্ধিমত্তা, না ছিল মায়ের চোখ বা চুল কিন্তু এমন কিছু ছিল যা পরবর্তীতে মায়ের চোখের গড়ন, চুলের বৈশিষ্ট্য বা বাবার বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটিয়েছে।
যার মাধ্যমে মা-বাবা থেকে ছেলে-মেয়েতে ঐ বৈশিষ্ট্যগুলো এসেছে তার নামই জিন। বংশগতির মূল একক জিন।
অর্থাৎ জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষুদ্রতম একককে জিন বলা হয়।
গ্রেগর যোহান মেন্ডেল (Gregor Johann Mendel, 1822-1884) মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণা করা কালে (১৮৬০ এর দশকে) উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের বাহককে কণা বা ফ্যাক্টর বলে উল্লেখ করেছিলেন।
পরবর্তীতে যোহানসেন (Johannsen) ১৯০৯ সালে সর্বপ্রথম ঐ কণা বা ফ্যাক্টরকেই জিন (gene) হিসেবে অভিহিত করেন।
১৯১২ সালে T. H. Morgan প্রমাণ করেন যে, জিন কোষের ক্রোমোসোমে অবস্থিত।
ভারতীয় বিজ্ঞানী Har Gobinda Khorana কৃত্রিম জিন সংশ্লেষণ করে ১৯৬৯ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।
ক্রোমোসোমের যে স্থানে একটি জিন অবস্থান করে ঐ স্থানকে লোকাস (locus) বলে। কিন্তু জিন কী?
বীডল এবং ট্যাটাম (George Beadle and Edward L. Tatum- 1941) Neurospora crassa নামক ছত্রাক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পুর বলেন যে, নির্দিষ্ট জিন নির্দিষ্ট এনজাইম তৈরির জন্য দায়ী।
এর মাধ্যমেই বিজ্ঞানী Garrool সর্বপ্রথম 'এক জিন এক এনজাইম' মতবাদ চালু করেন।
এর আগে থেকেই জানা ছিল এনজাইম মানেই প্রোটিন, তাই পরবর্তীতে উক্ত মতবাদ পরিমার্জন করে বলা হয় 'এক জিন এক পলিপেপটাইড চেইন'।
অর্থাৎ এনজাইম এবং প্রোটিন অণু জিন কর্তৃক সৃষ্ট।
সিক্স সেল হিমোগ্লোবিন (৬০০ অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত) নিয়ে কাজ করে Vernon Ingram (১৯৫৯) দেখান যে, এ প্রোটিনে ৬০০ অ্যামিনো অ্যাসিড একটি নির্দিষ্ট সাজ (sequense) অনুযায়ী সজ্জিত।
এ থেকেই প্রমাণিত হয় যে অ্যামিনো অ্যাসিডের ভিন্ন ভিন্ন সাজ পদ্ধতির জন্যই বহু বৈচিত্র্যময় এনজাইম তৈরি হয় এবং এক একটি এনজাইম এক একটি সুনির্দিষ্ট জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য দায়ী।
তাই প্রোটিনকে বলা হলো জীবনের ভাষা (Language of life) ক্রোমোসোমে, বিশেষ করে সুগঠিত নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোমে প্রোটিন এবং DNA দু'টোই থাকে, এর কোনটি জিন?
Pneumococci নিয়ে গবেষণা করে Frederick Griffith দেখেন যে, এর ভাইরুলেন্ট প্রকরণের ক্যাপসুল সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্যটি স্থানান্তরযোগ্য। পরে O.T.
Avery প্রমাণ করেন যে, এ ব্যাকটেরিয়ার ক্যাপসুল (দেহের চারদিকে পুরু আবরণ) তৈরির বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরিত হয় DNA দিয়ে।
কাজেই বোঝা গেল DNA-ই হচ্ছে জিন।
জিনের আধুনিক ধারণা: বিজ্ঞানী Avery, Macleod ও McCarty ১৯৪৪ সালে এবং Hershey ও Chasi ১৯৫২ সালের পরীক্ষা থেকে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, DNA হলো জিনগত বস্তু।