জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন
৪৯৯
জৈব বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণস্বরূপ এসব অঙ্গকে উপস্থিত করে বলা যায় যে, বিবর্তনের ফলে উদ্ভূত প্রজাতির দেহ থেকে ঐ অঙ্গ সম্পূর্ণভাবে লোপ পায় নাই, তাই এরা অগঠিত ও অকার্যকর থেকে প্রাণিটির পূর্বপুরুষের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
২. ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ (Evidence from Embryology)
ভ্রূণতত্ত্ব, তুলনামূলক ভ্রূণতত্ত্ব এবং পরীক্ষামূলক ভ্রূণতত্ত্ব জৈব বিবর্তনের অন্যতম প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে অনেকে মনে করেন। প্রত্যেক বহুকোষী প্রাণী একটি জাইগোট (একটি একক কোষ) থেকে পরিস্ফুটিত হয়। মানুষসহ সকল বহুকোষীতেই জাইগোটের বিভাজন মূলত এক রকম। যে সব পূর্ণাঙ্গ প্রাণী গঠনগত সম্বন্ধপরতায় আবদ্ধ তাদের পরিস্ফুটন পদ্ধতিও সদৃশ। পরে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে পরিস্ফুটনরীতি বিভিন্ন রূপ নেয়। এ বিভিন্নতা অনেকটা গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মতো অগ্রসর হতে থাকে। মাছ, উভচর, সরিসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীর ভ্রূণগুলোকে প্রথম অবস্থায় পরস্পর থেকে প্রায় পৃথকই করা যায় না। পরিস্ফুটনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রত্যেক শ্রেণির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশিত হয়।
https://1.com/img.jpg
৯৯৯৯৯৯
↓↓
↓
উভচর মাছ
কচ্ছপ
শূকর
গরু
মুরগি
চিত্র ১১.২.১১: বিভিন্ন ধরনের মেরুদণ্ডী প্রাণিদের ভ্রূণের সাদৃশ্য
খরগোস মানুষ
ভ্রূণের এ সাদৃশ্য লক্ষ করে জার্মান বিজ্ঞানী কার্ল ভন বেয়ার (Karl von Baer, 1818) বলেছেন যে ভ্রূণাবস্থায় একটি জীব তার আদি ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশ করে থাকে। তাঁর মতে (i) বিশেষ বৈশিষ্ট্য আবির্ভাবের আগে সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহের উদ্ভব ঘটে; (ii) সাধারণ বৈশিষ্ট্য থেকে অবশেষে বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্ভূত হয়; (iii) ভ্রূণাবস্থায় একটি প্রাণী তাড়াতাড়ি অন্যান্য প্রাণীর গঠন ত্যাগ করে; এবং (iv) একটি শিশু প্রাণীকে তার নিম্নস্তরের প্রাণিগোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ দশার মতো নয় বরং শিশু বা ভ্রূণীয় দশার মতো দেখায়। অতএব বলা যায় যে, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণী একই পূর্বপুরুষ থেকে সৃষ্টি হয়ে পরে বিভিন্নভাবে বিকশিত ও অভিযোজিত হয়েছে।
জীব দ্বিতীয় পত্র-৩২/B