সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

কোষপ্রাচীর (Cell wall)

B_1st_hasan_biology_haters_4_12.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_4_12.jpg

কোষ ও এর গঠন
একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোষের অংশসমূহকে নিচে উপস্থাপিত ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো
আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোষ
কোষপ্রাচীর (উদ্ভিদকোষে)
১৯
গ্রোটোপ্লাজম (কোষস্থ সজীব )
নিউক্লিয়াস
কোষঝিল্লি
সাইটোপ্লাজম
ধাত্র/মাতৃকা
কোষ অঙ্গাণু
কোষগহার
অঞ্চিত পদার্থ
কার্বোহাইড্রেট
নির্জীব বাতুসমূহ
নিঃসৃত পদার্থ
এনজাইম
• হরমোন
• নেকটার ইত্যাদি
[ঝিল্লিবৃত অত্যাণু ঝিল্লিবিহীন অঙ্গাণু নিউক্লয়ারঝিরি নিউক্লিওপ্লাজম ক্রোমাটিন কস্তু নিউক্লিওপাস
রাইবোজোম কোষকক্কাল সেন্ট্রিওল (প্রাণিকোষে)
মাইটোকন্ড্রিয়া গলজি বস্তু প্লাস্টিড (উদ্ভিদকোষে) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম লাইসোজোম পারঅক্সিজোম
কোষপ্রাচীর (Cell wall)
বর্জ্য পদার্থ

• রেজিন
• ট্যানিন
• গাম (আঠা)
• ল্যাটেক্স
• অ্যালকালয়েড
• জৈব এসিড
• উদ্বায়ী তেল
• খনিজ পদার্থ
জননকোষ (gamete) ছাড়া উদ্ভিদের অন্যান্য সমস্ত কোষের প্রোটোপ্লাস্টের চারদিক ঘিরে যে সচ্ছিদ্র, পুরু ও শক্ত জড় আবরণ থাকে সেটিই কোষপ্রাচীর।
রবার্ট ছক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে অণুবীক্ষণযন্ত্রে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে যে প্রকোষ্ঠ দেখেছিলেন তা ছিল মূলত কোষপ্রাচীর।
পাঁচজগত শ্রেণিবিন্যাস (Five Kingdom Classification) ধারণায় শৈবাল, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ (Plants) বলে গণ্য করা হয় না কিন্তু এসব জীবেও কোষপ্রাচীর থাকে।
কাজেই কোষপ্রাচীরকে উদ্ভিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য (unique character) না বলে প্রধান বৈশিষ্ট্য বলাই ভাল।
কোষের অবস্থান ও বয়সভেদে কোষপ্রাচীর সূক্ষ্ণ অথবা স্কুল এবং মসৃণ বা কারুকার্যময় হতে পারে।
ভৌত গঠন (Physical structure): গঠন ও পরিস্ফুটনের ভিত্তিতে উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরে তিনটি ভিন্ন স্তর দেখা যায়, যথা- মধ্য পর্দা, প্রাইমারি প্রাচীর এবং সেকেন্ডারি প্রাচীর।
নিচে এদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।
ক. মধ্য পর্দা (Middle lamella) বা মধ্য ল্যামেলা: কোষপ্রাচীরের যে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণত পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তার নাম মধ্যপর্দা বা মধ্য ল্যামেলা।
কোষ বিভাজনের টেলোফেজ দশার সাইটোকাইনেসিস পর্যায়ে মাকুর নিরক্ষীয় অঞ্চলে ফ্রাগমোপ্লাস্ট (fragmoplast) নামে পেকটোজ এর কণা জমা হতে থাকে।
এ কণাগুলোর সাথে পেকটিন জাতীয় গহ্বর বা ভেসিকলস পরস্পর মিলিত হয়ে একটি পাতলা কোষপ্লেট (cell plate) সৃষ্টি করে।
ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোষপ্লেটটি একস্তরবিশিষ্ট পর্দা বা ল্যামেলা (lamella)-য় পরিণত হয় এবং পাশাপাশি দুটি কোষকে সিমেন্টের মতো ধরে রাখে।
খ. প্রাইমারি প্রাচীর (Primary wall): দ্বিতীয় স্তরটি হলো প্রাইমারি বা প্রাথমিক প্রাচীর।
মধ্য পর্দার ওপর সেলুলোজ (cellulose), হেমিসেলুলোজ (hemicellulose) এবং গ্লাইকোপ্রোটিন (glycoprotein) ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর (১-৩ µm পুরু) তৈরি করে।
এটি প্রাথমিক বা প্রাইমারি প্রাচীর। মধ্য পর্দার অন্তঃতলে এটি তৈরি হয়।
জীব প্রথম পত্র-২-বি

চিত্র ১.৬: কোষপ্রাচীরের গঠন