সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

এ অধ্যায়ের প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ (Recapitulation)

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_5_5.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_5_5.jpg
১. জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনগুলো প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিতামাতা থেকে বংশানুক্রমে সন্তান-
সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হয়।
এ প্রক্রিয়াকে বংশগতি বা হেরিডিটি বলে।
২. জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের বংশগতি ও প্রকরণের রীতিনীতি অর্থাৎ বংশানুক্রমিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সঞ্চারণ
পদ্ধতি এবং এসব বৈশিষ্ট্যের বাহক জেনেটিক বস্তু তথা জিনের রাসায়নিক গঠন, প্রকরণ, মিউটেশন, পারস্পরিক
ক্রিয়া, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয় তাকে জিনতত্ত্ব বা Genetics বা কৌলিতত্ত্ব বলে।
৩. মেন্ডেলের সূত্র বা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বংশগতিতে সঞ্চারণের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকে মেন্ডেল
তত্ত্ব বা মেন্ডেলিজম বলে।
৪. সাটন ও বোভেরি বংশগতির ক্রোমোজোম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন। তাঁদের মতে বিভিন্ন চরিত্র নির্ধারক জিনগুলো
ক্রোমোজোমের উপরে অবস্থান করে এবং ক্রোমোজোমের মাধ্যমে জিনগুলো পরবর্তী জনুতে সঞ্চারণ ঘটার দরুণ
বংশপরম্পরায় পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।
৫. যেসব জিনের উপস্থিতির কারণে জীবের মৃত্যু ঘটে তাকে লিথাল জিন বা মারণ জিন বলে। এর অনুপাত ২:১।
৬. সাধারণ অবস্থায় একটি প্রকট অ্যালিল এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিলকে অপ্রকাশিত রাখে।
কিন্তু যখন একটি জিন এর অ্যালিল
নয় এরূপ জিনকে অপ্রকাশিত রাখে তখন এ ঘটনাকে এপিস্ট্যাসিস বলে। এর অনুপাত ১৩: ৩।
৭. বংশগতির যেসব ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোমের বিভিন্ন লোকাসে (নন অ্যালিলিক) অবস্থিত দুই এর অধিক
জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পরিমাপ দ্বারা যাদের মাত্রা নির্ণয় করা হয় তাদের পলিজেনিক ইনহ্যারিট্যান্স বা
বহুজিনিয় বংশগতি বলে।
মানুষের গাত্রবর্ণ, ওজন ইত্যাদি পলিজেনিক জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়।
৮. যে প্রক্রিয়ায় জীবের পরিস্ফুটনের শুরুতে অর্থাৎ নিষেককালে অপত্যে লিঙ্গ নির্ধারিত হয় তাকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলে।
৯. যে বিশেষ ধরনের ক্রোমোজোম কোনো জীবে লিঙ্গ নির্ধারণ করে তাদের সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স
ক্রোমোজোম X ক্রোমোজোম নামেই পরিচিত।
১০. সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সেক্সলিংকড বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হওয়াকে সেক্স লিংকড ইনহ্যারিট্যান্স
বা লিঙ্গ সংশ্লিষ্ট বংশগতি বলে।
১১. মানুষের যেসব জিন নিয়ন্ত্রিত বংশগতি রোগ সেক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাদের
সেক্স লিংকড ডিসঅর্ডার বা লিঙ্গসংশ্লিষ্ট অস্বাভাবিকতা বলে।
মানুষের লিঙ্গসংশ্লিষ্ট অস্বাভাবিকতাগুলো হলো-
* লাল সবুজ বর্ণান্ধতা- লাল ও সবুজ রংয়ের পার্থক্য বুঝতে পারে না।
* হিমোফিলিয়া- রক্ত তঞ্চন বিলম্বিত হয় ফলে ক্ষতস্থান থেকে অবিরাম রক্ত ক্ষরণ ঘটে ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
* ডুশিনি মাসকুলার ডিসট্রফি (DMD)- পেশি শক্ত হয়ে যায়। ১০ বছর বয়সে হাটাচলা করতে পারে না, ২০
বছর বয়সের মধ্যে মারা যায়।
* রাতকানা- রাতে কিছু দেখতে পায় না।
* টেস্টিকুলার ফেমিনাইজেশন- পুরুষ ধীরে ধীরে স্ত্রীতে পরিণত হয়।
* ফ্র্যাজাইল x সিনড্রোম- অটিজম ও মানসিক ভারসাম্যতা দেখা দেয়।
* হাইপারট্রাইকোসিস- সারা শরীর লোমে আবৃত থাকে।
* ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস- ঘনঘন মুত্র ত্যাগ, শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়।
১২. লোহিত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়
তাকে ব্লাডগ্রুপ বা ABO ব্লাডগ্রুপ বলে।
১৩. Landsteiner ও Wiener (1940) মানুষের রক্তে এক ধরনের অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি লক্ষ করেন যা রেসাস বানরের
রক্তেও পাওয়া যায়।
মানুষের রক্তে উপস্থিত এধরনের অ্যান্টিজেনকে Rhesus ফ্যাক্টর, সংক্ষেপে Rh ফ্যাক্টর
বলে।