কোষ ও এর গঠন
৭১
(i) চারটি বেস (ATGC) এর বিভিন্ন কম্বিনেশনে তৈরি হলো DNA অণু।
(ii) আবার চারটি বেস (AUGC) এর বিভিন্ন কম্বিনেশনে তৈরি হয় RNA অণু।
(iii) অন্যদিকে ২০ প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিডের বিভিন্ন কম্বিনেশনে তৈরি হয় বিভিন্ন প্রকার প্রোটিন।
এমন প্রোটিনও আছে যাতে দশ হাজারের ওপর অ্যামিনো অ্যাসিড আছে।
প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় একটির পর আর একটি সজ্জিত থাকে।
এ সাজানো প্রক্রিয়ায় একটি ভুল অ্যামিন অ্যাসিড সংযোজন হলে বা বাদ পড়লে প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য ও এর কাজ বিনষ্ট হবে অথবা জীবদেহের ক্ষতি হবে।
মানুষের ইনসুলিন একটি প্রোটিন। এতে সুনির্দিষ্ট সজ্জায় ৫১টি অ্যামিনো অ্যাসিড আছে।
সুনির্দিষ্ট সজ্জাটি এমন: অ্যাসপারজিন + সেরিন + টাইরোসিন + প্রোলিন গ্লাইসিন + প্রোলিন সেরিন সেরিন + টাইরোসিন + গ্লাইসিন + টাইরোসিন + সিস্টিন + ..... আরজিনিন (৫১ নং);
এ ক্রমসজ্জায় কোনো ভুল হলে মানবদেহে ইনসুলিন কোনো কাজ করবে না।
মানুষের ইনসুলিন তৈরির জিন থাকে ১১ নং ক্রোমোসোমের খাটো বাহুর শীর্ষে।
যেকোনো প্রোটিনের (অ্যান্টিবডি, এনজাইম, হরমোন, গাঠনিক প্রোটিন ইত্যাদি) অ্যামিনো অ্যাসিডে সঠিক সজ্জাপদ্ধতি নির্ধারিত হয় জেনেটিক কোডের মাধ্যমে যার ভিত্তি হলো DNA অণুতে অবস্থিত জিন।
জেনেটিক কোড হলো একটি 3-Letter (তিনটি নিউক্লিওটাইড বা বেস) কোড যা DNA অণুতে পরপর ??কত্রে বিন্যস্ত থাকে।
DNA অণুতে অবস্থিত 3-Letter কোড প্রথমে রূপান্তরিত হয়ে mRNA অণুতে 3-Letter কোডন হিসেবে সজ্জিত হয়।
mRNA অণুর 3- Letter কোডন tRNA-এর মাধ্যমে সঠিক অ্যামিনো অ্যাসিডটি বেছে নিয়ে প্রোটিন অণুতে সংযুক্ত করে।
কাজেই ধারাবাহিকভাবে সজ্জিত প্রতি তিনটি বেসগুচ্ছ এবং এরা যে সঠিক অ্যামিনো অ্যাসিড নির্বাচন করে তার মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কোডিং সম্পর্ক হলো জেনেটিক কোড।
DNA. বা RNA বেসসমূহের মাধ্যমে জেনেটিক কোড প্রকাশ করা যায়।
(The specific coding relationship between bases and the amino-acids they specify is known as genetic code.)
সহজ কথায় জেনেটিক কোড হলো DNA অণুর নিউক্লিওটাইডের অনুক্রম (sequence) এবং প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিডের অনুক্রমের মধ্যে একটি যোগাযোগ পদ্ধতি।
DNA অণুর নিউক্লিওটাইড বিন্যাসের সাথে প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড বিন্যাসের মধ্যে এ ধরনের সামঞ্জস্য প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করেন Sarabhai ও তাঁর সহকর্মীগণ ১৯৬৪ সনে।
Yanoklei ও তাঁর সহকর্মীগণ একই ধরনের সামঞ্জস্য লক্ষ্য করেছিলেন।
DNA এবং RNA-এর একটি সিকোয়েন্স সেট যা কোনো জীবের প্রোটিন তৈরির জন্য অ্যামিনো অ্যাসিড সিকোয়েন্স নির্ধারণ করে তাই জেনেটিক কোড।
জেনেটিক কোড বংশগতির বায়োকেমিক্যাল ভিত্তি। একাধিক কোডন একই অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করার প্রবণতাকে কোডের অধোগামিতা (redundancy) বলে।
কোডন (Codon): mRNA অণুর ধারাবাহিক অনুক্রমের তিনটি বেসকে একত্রে একটি কোডন বলা হয়। একটি কোডন একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে কোড করে।
কোডনের সংখ্যা: (i) DNA বা RNA অণুতে বেস থাকে চার ধরনের (ATGC বা AUGC) কিন্তু প্রোটিন গঠনকারী অ্যামিনো অ্যাসিডের সংখ্যা ২০টি।
একটি বেস একটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে কোড করলে মাত্র ৪টি অ্যামিনো অ্যাসিড কোডেড হবে, ১৬টিই বাকি থেকে যাবে।
(ii) দুটি বেসকে একসাথে গুচ্ছবদ্ধ করলে এদের মধ্যে কম্বিনেশন সংখ্যা দাঁড়াবে সর্বাধিক ১৬টি।
২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করার জন্য ১৬টি কম্বিনেশন অপেক্ষাকৃত কম।
(iii) প্রতি ৩টি বেসকে একসাথে গুচ্ছবদ্ধ করলে এদের কম্বিনেশন সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪টি যা সহজেই ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিডকে কোড করতে পারবে।
কাজেই কোডন সংখ্যা ৬৪টি। এর মধ্যে ৩টি (UAA, UAG, UGA) সমাপ্তি কোডন যারা কোনো অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করে না।
কাজেই অ্যামিনো অ্যাসিড কোড করার জন্য কার্যকরী কোডন সংখ্যা হলো ৬১টি। ১ কোডন (AUG) ট্রান্সলেশন শুরু করার কোডন।
Nirenberg, Matthaei ও তাদের সহকর্মীগণ (১৯৬৪) ৬৪টি কোডনের প্রবক্তা।
ট্রিপ্লেট (Triplet) : তিনটি বেস-এর গুচ্ছকে বলা হয় ট্রিপলেট। DNA-এর কোডসমূহ triplet; mRNA-এর কোডনসমূহ ট্রিপলেট, এমনকি tRNA-এর অ্যান্টিকোডনও ট্রিপলেট।
তিনটি বেস (নিউক্লিওটাইড) এর কার্যকরী গুচ্ছই- triplet. ট্রিপলেট সিকোয়েন্স ৫'-৩' মুখী।