৪। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endoplasmic reticulum)
পরিণত কোষে সাইটোপ্লাজমে যে জালিকা বিন্যাস দেখা যায় তাই এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকা।
আবিষ্কার: বিজ্ঞানী কেইথ আর.
পোর্টার (Keith R. Porter) এবং তাঁর সঙ্গী অ্যালবার্ট ক্লড ও ফুলম্যান (A. Claude &
Fullam) ১৯৪৫ সালে মুরগির ভ্রূণীয় কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
নামকরণ করা হয় ১৯৫৩ সালে।
উৎপত্তি: সাইটোপ্লাজমীয় ঝিল্লি, নিউক্লীয় ঝিল্লি অথবা কোষঝিল্লি হতে উৎপন্ন হয়।
বিস্তৃতি: অধিকাংশ ইউক্যারিয়টিক কোষে এ অঙ্গাণু পাওয়া যায়। তবে বেশি থাকে যকৃত, অগ্ন্যাশয় ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির
কোষে।
প্রকার: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম দু'প্রকার- মসৃণ এবং অমসৃণ। রেটিকুলামের গায়ে রাইবোসোম থাকলে তা অমসৃণ
বা দানাদার (প্রোটিন ও এনজাইম সংশ্লেষণ) হয়, রাইবোসোম না থাকলে তা মসৃণ বা অদানাদার (লিপিড ও হরমোন
সংশ্লেষণ) হয়।
ভৌত গঠন: এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। গঠনগতভাবে এন্ডোপ্লাজমিক
রেটিকুলাম তিন প্রকার; যথা-
(ক) সিস্টার্নি (Cisternae): এরা দেখতে অনেকটা চ্যাপ্টা, শাখাবিহীন ও লম্বা চৌবাচ্চার মতো এবং সাইটোপ্লাজমে
পরস্পর সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
এগুলোর ব্যাস ৪০-৫০ মিলিমাইক্রন (mp)। এগুলোর গায়ে অনেক সময়
রাইবোসোম যুক্ত থাকে।
(খ) ভেসিকল (Vesicles): এগুলো বর্তুলাকার ফোস্কার মতো। ২৫৩৫০ মিলিমাইক্রন ব্যাসযুক্ত।
(গ) টিউবিউল (Tubules): এগুলো নালিকার মতো, শাখান্বিত বা অশাখ। এদের ব্যাস ৫০-১৯০ মিলিমাইক্রন।
এদের গায়ে সাধারণত রাইবোসোম যুক্ত থাকে না।