সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স (Polygenic Inheritance) বা বহুজিনীয় উত্তরাধিকার (Multigene Inheritance)

Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_3_7.jpg
ইমেজ: Zoology-Azmol-2025-Unmesh-Chapter - 11_3_7.jpg

মেন্ডেলের মতে জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য একজোড়া ফ্যাক্টর বা জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু কোন কোন জীবের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে বিভিন্ন লোকাসে অবস্থানকারী (নন-অ্যালিলিক) একাধিক জিন জীবের একটিমাত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন মানুষের উচ্চতা, গায়ের রং, চোখের রং, ওজন, বুদ্ধমত্তা; গাভির দুধ; ভুট্টা বা গমের দানার রং ইত্যাদি পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য (quantitative traits) একাধিক জিনের সমন্বিত প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল হয়। বিভিন্ন লোকাসে অবস্থিত নন-অ্যালিলিক জিনের একটি গ্রুপ সম্মিলিতভাবে কোন জীবের একটি পরিমাণগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করলে তখন সেই জিন-গ্রুপকে পলিজিন (polygene) বলে। পলিজিনে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণগত বৈশিষ্ট্যের বংশগতিকে পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স বলা হয়। জিনতত্ত্ববিদ K. Mather, ১৯৫৪ সালে পলিজিন নামকরণ করেন। পলিজিনের প্রভাব ক্রমবর্ধিষ্ণু (cumulative) হওয়ায় এমন বৈশিষ্ট্যকে মাত্রিক চরিত্র (quantitative character) বলা হয়। মানুষের অনেক বংশগত (hereditary) রোগ পলিজেনিক জিনের অস্বাভাবিকতার কারণে সৃষ্টি হয়, যেমন-অটিজম, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি।
১৯০৮ সালে সুইডিস বিজ্ঞানী Nilsson-Ehle গমের বীজের রং নিয়ে পরীক্ষা করার সময় লাল বীজযুক্ত গমের সাথে সাদা বীজযুক্ত গমের সংকরায়ন ঘটান। \(F_{1}\) বংশধরে তিনি সকল গমের রং মধ্যম লাল পেলেও \(F_{2}\) বংশধরে ১৫টি লাল এবং ১টি সাদা শস্যযুক্ত উদ্ভিদ পান। তিনি ১৫টি লাল শস্যযুক্ত উদ্ভিদের মধ্যে লালবর্ণের গাঢ়ত্বের তারতম্য লক্ষ করেন। প্রকৃতপক্ষে এ তারতম্য বিচার করে তিনি ১:৪:৬ : ৪: ১ (গাঢ় লাল: লাল: মধ্যম লাল: ফিকে লাল: সাদা) অনুপাত পেয়েছিলেন।
মানুষের গাত্রবর্ণ (Skin color in Man): পৃথিবীতে নিগ্রোদের মতো কুচকুচে কালো থেকে শুরু করে ককেসিয়ানদের মতো ধবধবে ফর্সা তথা শ্বেতাঙ্গ পর্যন্ত নানা প্রকার গায়ের বর্ণবিশিষ্ট মানুষ দেখা যায়। নিগ্রো ও শ্বেতাঙ্গের মধ্যে বিয়ে হলে এদের সন্তানদের গায়ের বর্ণ মাঝামাঝি অর্থাৎ মিউল্যাটো (mulatto) হয়। মিউল্যাটোদের মধ্যে বিয়ে হলে নানা ধরনের বর্ণবিশিষ্ট মানুষ দেখা যায়। নিগ্রো ও শ্বেতাঙ্গ মানুষের মধ্যে বিয়ের ফলে সৃষ্ট মিউল্যাটোদের (মাঝারি বর্ণ) গায়ের বর্ণের উত্তরাধিকার পলিজেনিক উত্তরাধিকারের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মনে করি, নিগ্রোদের বর্ণ সৃষ্টিকারী দুজোড়া জিন হচ্ছে \(B_{1}B_{1}B_{2}B_{2}\) এবং শ্বেতাঙ্গদের এ রকম দুজোড়া জিন \(b_{1}b_{1}b_{2}b_{2}\)। এ ধরনের নিগ্রো পুরুষ ও শ্বেতাঙ্গ মহিলার মধ্যে বিয়ে হলে তাদের ক্রসের ফলে সৃষ্ট \(F_{1}\) জনুর জিনোটাইপ হয় \(B_{1}b_{1}B_{2}b_{2}\) এবং ফিনোটাইপ হয় মিউল্যাটো (নিগ্রো ও শ্বেতাঙ্গের মাঝামাঝি বর্ণ)। \(F_{1}\) জনুর মিউল্যাটো বা মাঝামাঝিদের মধ্যে ক্রস করলে \(F_{2}\) তে নানা রকম গায়ের রংবিশিষ্ট মানুষ দেখা যায়। এসব জিনের ক্ষেত্রে কোনো প্রাধান্য বা প্রকটতা (dominance) নেই। প্রকট জিনের সংখ্যা যত বেশি হবে গায়ের রং-এর গাঢ়ত্ব তত বেড়ে যাবে। C. B. Davenport ১৯১৩ সালে প্রমাণ করেন যে, নিগ্রো ও শ্বেতাঙ্গদের গায়ের রং-এর বংশগতি দুজোড়া জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। নিগ্রোদের দুজোড়া বর্ণ সৃষ্টিকারী জিন রয়েছে যা মেলানিন (melanin; মেরুদন্ডী প্রাণীর ত্বকে উপস্থিত কালো বা গাঢ় বাদামী বর্ণের রঞ্জক) সঞ্চয়ে সাহায্য করে। এসব জিনে কোনো প্রকটতা দেখা যায় না। তবে এদের সমপরিমাণ ও ক্রমবর্ধিষ্ণু প্রভাব দেখা যায়। শ্বেতকায়দের ক্ষেত্রে এ জিনগুলোর অ্যালিল মেলানিন সঞ্চয়ে সাহায্য করে না। একজন নিগ্রো পুরুষের সাথে একজন শ্বেতাঙ্গ মহিলার বিয়ে হলে \(F_{1}\) ও \(F_{2}\) জনুর ফলাফল অপর পাতায় চেকার বোর্ডের মাধ্যমে দেখানো হলো।