

১২
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
থেকে জেলিতে পরিবর্তিত হতে পারে। (iv) প্রোটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি।
(v) উত্তাপ, অ্যাসিড ও
অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রোটোপ্লাজম জমাট বাঁধে।
প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য (Chemical properties): রাসায়নিকভাবে প্রোটোপ্লাজমে জৈব এবং অজৈব
পদার্থ আছে। এতে অধিক পরিমাণে আছে পানি।
জৈব পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন, এরপর
আছে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও ভিটামিন।
এছাড়াও আছে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, কপার, জিঙ্ক,
সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন ইত্যাদি।
প্রোটোপ্লাজমের জৈবিক বৈশিষ্ট্য (Biological properties): প্রোটোপ্লাজম বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনায় সাড়া দেয়।
খাদ্য তৈরি, খাদ্য হজম, আত্তীকরণ, শ্বসন, বৃদ্ধি, জনন ইত্যাদি সকল মেটাবলিক কার্যকলাপ প্রোটোপ্লাজম করে থাকে।
প্রোটোপ্লাজমের জৈবিক বৈশিষ্ট্যই জীবের বৈশিষ্ট্য।
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় প্রোটোপ্লাজম পানি গ্রহণ ও ত্যাগ করতে পারে।
এদেরও মৃত্যু ঘটে।
প্রোটোপ্লাজমের চলন) (Movement of protoplasm) : প্রোটোপ্লাজম কখনো স্থির থাকে না। প্রোটোপ্লাজমের এ
গতিময়তাকে চলন (movement) বলে।
কোষ প্রাচীরযুক্ত ও কোষ প্রাচীরবিহীন প্রোটোপ্লাজমের চলনে ভিন্নতা দেখা যায়।
কোষ প্রাচীরযুক্ত প্রোটোপ্লাজমে জলস্রোতের মতো যে চলন দেখা যায় তাকে আবর্তন বা সাইক্লোসিস (cyclosis) বলে।
আবর্তন আবার দু'ধরনের হয়ে থাকে।
(i) একমুখী আবর্তন: যে চলনে প্রোটোপ্লাজম একটি গহ্বরকে কেন্দ্র করে কোষপ্রাচীরের পাশ দিয়ে নির্দিষ্ট পথে
একদিকে ঘুরতে থাকে তাকে একমুখী আবর্তন (rotation) বলে।
যেমন- পাতা ঝাঁঝির কোষস্থ প্রোটোপ্লাজমের চলন।
(ii) বহুমুখী আবর্তন: যে চলনে প্রোটোপ্লাজম কতগুলো গহ্বরকে কেন্দ্র করে অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন দিকে ঘুরতে থাকে
তখন তাকে বহুমুখী আবর্তন (circulation) বলে।
যেমন- Tradescantia-র কোষস্থ প্রোটোপ্লাজমের চলন।
প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশসমূহ: (i) প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি, (ii) সাইটোপ্লাজম এবং (iii) নিউক্লিয়াস-এ
তিনটি হলো প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশ।
১.২ প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি (Plasmamembrane or Cell membrane)
কোষ প্রাচীরের ঠিক নিচে সমস্ত প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে একটি সজীব ঝিল্লি থাকে।
এ ঝিল্লিকে প্লাজমামেমব্রেন বা
কোষঝিল্লি বলে। অন্যভাবে, প্রতিটি সজীব কোষের প্রোটোপ্লাজম যে সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক, বৈষম্যভেদ্য, লিপো-প্রোটিন দ্বারা
গঠিত সজীব দ্বিস্তরী ঝিল্লি দিয়ে আবৃত থাকে, তাকে প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি বলে।
একে প্লাজমালেমা,
সাইটোমেমব্রেন এসব নামেও অভিহিত করা হয়। কার্ল নাগেলি ও ক্র্যামার (Carl Nageli & Cramer, 1855) সর্বপ্রথম এ
ঝিল্লিকে প্লাজমামেমব্রেন নামকরণ করেন।
তবে বর্তমানে অনেকেই একে বায়োমেমব্রেন (biomembrane) বলতে চান। J.
Q. Plower (1931) প্লাজমালেমা শব্দটি ব্যবহার করেন।
ঝিল্লিটি স্থানে স্থানে ভাঁজবিশিষ্ট হতে পারে। প্রতিটি ভাঁজকে
মাইক্রোভিলাস (বহুবচনে মাইক্রোভিলাই) বলে। কোষাভ্যন্তরে অধিক প্রবিষ্ট মাইক্রোভিলাসকে বলা হয় পিনোসাইটিক
ফোল্কা।
প্রাণিকোষে এসব ভালো দেখা যায়।
ভৌত গঠন (Physical Structure): কোষঝিল্লির ভৌত গঠন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Danielli & Davson (1935)
সর্বপ্রথম একটি সুনির্দিষ্ট মডেল প্রস্তাব করেন।
এটি স্যান্ডউইচ (Sandwitch) মডেল নামে পরিচিত। তাঁদের মতে ঝিল্লিটি
দ্বিস্তরবিশিষ্ট এবং প্রতি স্তরে প্রোটিন (monomolecular) এবং লিপিড (bimolecular) উপ-স্তর আছে।
দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লির
ওপর ও নিচে প্রোটিন স্তর এবং মাঝখানে লিপিড স্তর অবস্থিত।
-প্রোটিন স্তর
}.
লিপিড স্তর
লিপিড স্তর
প্রোটিন স্তর
}
একটি স্তর
একটি স্তর
চিত্র ১.৪: Danielli & Davson প্রস্তাবিত কোষঝিল্লির গঠন।
ফসফেট হেড (পানিগ্রাহী)
ফ্যাটি অ্যাসিড টেইল
(পানিবিকর্ষী)
ফসফেট হেড (পানিগ্রাহী)
চিত্র ১.৫: ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।