কোষ ও এর গঠন
১১
এলাকায় সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে নলাকার সাইটোপ্লাজমিক সংযোগ স্থাপিত হয়। একে প্লাজমোডেসমাটা (একবচন: প্লাজমোডেসমা)
বলে।
পাশাপাশি কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন ও খাদ্য বস্তু, পানি, হরমোন পরিবহণ প্লাসমোডেসমাটার কাজ।
রাসায়নিক গঠন (Chemical structure): মধ্যপর্দায় অধিক পরিমাণে থাকে পেকটিক অ্যাসিড।
এ ছাড়া অদ্রবণীয়
ক্যালসিয়াম পেকটেট এবং ম্যাগনেসিয়াম পেকটেট লবণ থাকে- যাকে পেকটিন বলা হয়। এ ছাড়াও অল্প পরিমাণে থাকে
প্রোটোপেকটিন।
প্রাথমিক প্রাচীরে থাকে প্রধানত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন। হেমিসেলুলোজ-এ
xylans, arabans, galactans ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পলিস্যাকারাইডস থাকে।
গ্লাইকোপ্রোটিনে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন
এবং অন্যান্য পদার্থ থাকে। Xyloglucan নামক হেমিসেলুলোজ প্রাচীর গঠনে ক্রসলিংক (cross-link) হিসেবে কাজ করে।
অনেক সেকেন্ডারি প্রাচীরে লিগনিন (lignin) থাকে। কোনো কোনো প্রাচীরে সুবেরিন (suberin), ওয়াক্স ইত্যাদি থাকে।
ছত্রাকের প্রাচীর কাইটিন এবং ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর লিপিড-প্রোটিন পলিমার দিয়ে গঠিত। শৈবালের কোষ প্রাচীর
গ্লাইকোপ্রোটিন ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত।
এককোষী শৈবাল ডায়াটমের কোষ প্রাচীরে সিলিসিক অ্যাসিড থাকে।
আর্কিয়াদের কোষ প্রাচীর গ্লাইকোপ্রোটিন স্তর ও পলিস্যাকারাইড নিয়ে গঠিত।
সাধারণত কোষ প্রাচীরের 40% সেলুলোজ,
20% হেমিসেলুলোজ, 30% পেকটিন ও 10% গ্লাইকোপ্রোটিন বিদ্যমান।
সূক্ষ্ম গঠন (Ultra-structure): উদ্ভিদকোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। সেলুলোজ হলো একটি
পলিস্যাকারাইড যা ৬-কার্বনবিশিষ্ট B-D গ্লুকোজের অসংখ্য অণু নিয়ে গঠিত।
১ হাজার থেকে ৩ হাজার সেলুলোজ অণু নিয়ে
একটি সেলুলোজ চেইন গঠিত হয়।
প্রায় ১০০টি সেলুলোজ চেইন মিলিতভাবে একটি ক্রিস্টালাইন মাইসেলি (micelle) গঠন
করে। মাইসেলিকে কোষ প্রাচীরের ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক ধরা হয়।
প্রায় ২০টি মাইসেলি মিলে একটি মাইক্রোফাইব্রিল
(microfibril) গঠন করে এবং ২৫০টি মাইক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি ম্যাক্রোফাইব্রিল (macrofibril) গঠন করে।
অনেকগুলো ম্যাক্রোফাইব্রিল মিলিতভাবে একটি তত্ত্ব (ফাইবার) গঠন করে।
কোষ প্রাচীরের কাজ: (i) কোষের সুনির্দিষ্ট আকৃতি দান করা; (ii) বাইরের আঘাত হতে ভেতরের সজীব বস্তুকে রক্ষা
করা;
(iii) প্রয়োজনীয় শক্তি ও দৃঢ়তা প্রদান করা; (iv) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণে সহায়তা করা;
(v) এক
কোষকে অন্য কোষ হতে পৃথক করা; (vi) কোষ প্রাচীরের কূপ এলাকা (ছিদ্র পথ) দিয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু কোষের ভেতরে বা
বাইরে চলাচল করে থাকে এবং (vii) বহিঃ ও অন্তঃ উদ্দীপনার পরিবাহকরূপে প্লাজমোডেসমাটা কাজ করে।
3***
প্রোটোপ্লাস্ট (Protoplast)
কোষ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত সমুদয় পদার্থ একসাথে প্রোটোপ্লাস্ট নামে পরিচিত। উদ্ভিদকোষ, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকে
জড় কোষ প্রাচীরের নিচেই প্রোটোপ্লাস্টের অবস্থান।
প্রোটোপ্লাস্ট দু'ভাগে বিভক্ত। যথা- সজীব প্রোটোপ্লাজম ও নির্জীব বস্তু
বা অপ্রোটোপ্লাজমীয় উপাদান। নিম্নে এদের বর্ণনা দেয়া হলো:
কোষীয় বিপাক ক্রিয়ায় সৃষ্ট বহু নির্জীব বস্তু কোষের সাইটোপ্লাজমে এবং কোষগহ্বরে জমা হয়। এদেরকে কোষস্থ নির্জীব বস্তু
বলা হয়।
নির্জীব বস্তুগুলো দ্রবীভূত অবস্থায়, ক্রিস্টাল হিসেবে, ফোঁটা বা দানাদার বস্তু হিসেবে অবস্থান করতে পারে।
নির্জীব
বস্তুগুলোকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সঞ্চিত খাদ্য, নিঃসৃত পদার্থ ও বর্জ্য পদার্থ।
প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm) কোষের অভ্যন্তরে অর্ধস্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল, কলয়ডালধর্মী সজীব
পদার্থকে প্রোটোপ্লাজম বলে।
১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি কোষবিদ ফেলিক্স ডুজারডিন (Felix Dujardin) কোষের মধ্যে জেলির
মতো থকথকে পদার্থকে সারকোড (sarcode) নামে অভিহিত করে।
প্রোটোপ্লাজম শব্দটি ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী পার্কিনজে
(Purkinje) সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন।
(Gk. proto = আদি + plasma = সংগঠন অর্থাৎ আদি বস্তু)। বিজ্ঞানী হাক্সলে
(Huxley)-এর মতে প্রোটোপ্লাজম হচ্ছে জীবনের ভৌত ভিত্তি।
কারণ প্রোটোপ্লাজমই কোষের তথা দেহের সকল মৌলিক
জৈবিক কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে।
এ জন্যই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে ৭০%
৯০% পানি থাকে।
এ থেকেই বোঝা যায়, কেন পানির অপর নাম জীবন। পানিকে ফ্লুইড অব লাইফ বলা হয় কারণ,
কোষের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াসমূহ পানির উপস্থিতি ছাড়া সুসম্পন্ন হয় না।
পানির অভাবে প্রোটোপ্লাজম শুকিয়ে কোষ মারা
যেতে পারে। এছাড়া, উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য পানির প্রয়োজন।
প্রোটোপ্লাজমের ভৌত বৈশিষ্ট্য (Physical properties): ( ) প্রোটোপ্লাজম অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলির ন্যায় অর্ধতরল
আঠালো পদার্থ। (ii) এটি দানাদার ও কলয়ডালধর্মী।
(iii) এটি কোষস্থ পরিবেশ অনুযায়ী জেলি থেকে তরলে এবং তরল