সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

১.৩ সাইটোপ্লাজম ও অঙ্গাণু

B_1st_hasan_biology_haters_1_16.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_1_16.jpg

১৬
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
কাজ: কোষ প্রাচীর ও প্লাজমামেমব্রেনের মধ্যকার পার্থক্যগুলো পাশাপাশি একটি ছকে উপস্থাপন করতে হবে।
পার্থক্য
নির্ণয়কালে এদের অবস্থান, গঠন, ন্তরায়ন, অলংকরণ, সজীবতা ও কাজ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
১.৩ সাইটোপ্লাজম ও অঙ্গাণু (Cytoplasm and Organelles)
নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষঝিল্লি দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমীয় অংশের নামই হলো সাইটোপ্লাজম। এটি
মাতৃকা ও অঙ্গাণু অংশ নিয়ে গঠিত।
সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা (Cytoplasmic matrix): মাতৃকা হলো সাইটোপ্লাজমের ভিত্তি পদার্থ।
ভৌত গঠন: মাতৃকা হলো একটি অর্ধতরল, দানাদার, অর্ধস্বচ্ছ, সমধর্মী, কলয়ডাল তরল পদার্থ। একে,
হায়ালোপ্লাজমও (Hyaloplasm) বলা হয়।
বর্তমানে একে সাইটোসোল (Cytosol) বলা হয়। A. H. Lardy (1965)
প্রথম সাইটোসোল শব্দটি ব্যবহার করেন।
সাইটোপ্লাজমে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন ধরনের প্রায়
৩৬টি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থ;
বিভিন্ন অ্যাসিড ও এনজাইম বিদ্যমান। সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকার অপেক্ষাকৃত ঘন, কম
দানাদার বহিস্থ শক্ত অঞ্চলকে এক্টোপ্লাজম (কর্টেক্স, প্লাজমাজেল) বলে এবং কেন্দ্রস্থ অপেক্ষাকৃত কম ঘন অঞ্চলকে
এন্ডোপ্লাজম বলে।
সাইটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি।
সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহ (Cytoplasmic Organelles): সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকায় প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া,
এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, রাইবোসোম, গলগি বডি, লাইসোসোম, সেন্ট্রোসোম, মাইক্রোটিউবিউল্স প্রভৃতি অঙ্গাণু
(ক্ষুদ্রাঙ্গ) এবং বিভিন্ন নির্জীব পদার্থও থাকে।
সাইটোপ্লাজমের কাজ: (i) বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ ধারণ করা, (ii) কতিপয় জৈবিক কাজ করা, (iii) কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব
নিয়ন্ত্রণ করা, (iv) রেচন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করা, (v) পরিবেশের উত্তেজনায় সাড়া দেয়া এবং (vi)
নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পরিশোষণে সাহায্য করা।
(vii) আবর্তনের (Cyclosis) মাধ্যমে অঙ্গাণুগুলোকে নড়াচড়ায় সাহায্য
করা। সাইটোপ্লাজমের ভেতর কোষ গহ্বরের চারদিকে অত্যন্ত পাতলা পর্দার আকারে অবস্থিত সাইটোপ্লাজমীয় পর্দাটির নাম
টনোপ্লাস্ট।
সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান ও প্রকৃতি (Chemical nature of cytoplasm)
সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদানকে অজৈব (inorganic) এবং জৈব (organic)- এ দু' শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
অজৈব উপাদানের মধ্যে প্রধান হলো পানি ও পানিতে দ্রবীভূত গ্যাস। এছাড়াও আছে বিভিন্ন খনিজ বস্তু, আয়ন।
জৈব
উপাদানের মধ্যে আছে কার্বোহাইড্রেট, জৈব অ্যাসিড, লিপিড, প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, হরমোন, ভিটামিন, বিভিন্ন
রঞ্জক পদার্থ।
সাইটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ কোষভেদে ৬৫-৯৬%। সাইটোপ্লাজমের প্রকৃতি অর্ধতরল, দানাদার,
অর্ধস্বচ্ছ, সমধর্মী ও কলয়ডাল।
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে ৭৫% পানি, ২০% শর্করা, ২% প্রোটিন, ২% খনিজ লবণ
এবং ১% চর্বি, ভিটামিন, পিগমেন্টস ও অন্যান্য বস্তু থাকে।
প্রাণিকোষে ৬৭% পানি, ১% শর্করা ও অন্যান্য পদার্থ ১৫%
প্রোটিন, ১৩% চর্বি ও ৪% খনিজ লবণ উপস্থিত থাকে।
সাইটোপ্লাজমের বিপাকীয় ভূমিকা (Metabolic role of cytoplasm): বিপাক (metabolism) বলতে জীবদেহে
সংঘটিত সব ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার যোগফলকে বোঝায়।
বিপাককে ভুলভাবে গঠনমূলক বা উপচিতি
(anabolism) ও ধ্বংসাত্মক বা অপচিতি (catabolism) এ দু ধরনের বিক্রিয়ায় ভাগ করা হয়।
যেকোনো জীবদেহে
প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া-বিক্রিয়া চলতে থাকে। এর অধিকাংশই সাইটোপ্লাজম নির্ভর।
বিপাকীয় ক্রিয়াগুলোর
কতক সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়, কতক সাইটোপ্লাজমের অঙ্গাণুগুলোতে সংঘটিত হয়। জীবের জন্য সবচেয়ে বড়ো
শারীরবৃত্তীয় কাজ হলো শ্বসন।
শ্বসনের প্রথম পর্যায় তথা গ্লাইকোলাইসিস সংঘটিত হয় সাইটোপ্লাজমে। এছাড়া
সাইটোপ্লাজম হলো বিভিন্ন এনজাইমের আধার, আর সকল জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বিভিন্ন ধরনের
এনজাইম।
কাজেই পরোক্ষভাবে জীবের সকল বিপাকীয় কাজের নিয়ন্ত্রকও সাইটোপ্লাজম। সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত বিভিন্ন
বিপাক ক্রিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো-
১। শ্বসন : এটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষে ATP তৈরি হয়।
শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপটি
সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকায় এবং অন্য ধাপগুলো সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। এটি একটি
অপচিতিমূলক বিপাকীয় প্রক্রিয়া।