সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

কোষ ও এর গঠন (২)

B_1st_hasan_biology_haters_1_2.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_1_2.jpg



জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
কয়েদিদের জন্য নির্মিত ছোটো ছোটো প্রকোষ্ঠকেও সেল বলা হয়। অধিকাংশ কোষই আণুবীক্ষণিক খালি চোখে দেখা যায়
না।
তবে এর কিছুটা ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়। পাখির ডিম একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। হাঁস-মুরগির ডিম খালি চোখেই
দেখা যায়।
উটপাখির ডিম সবচেয়ে বড়ো কোষ (17cm × 12,5cm)। তুলা বা পাটের আঁশ, তালগাছের আঁশ বেশ লম্বা,
খালি চোখে দেখা যায়।
মানুষের নিউরন কোষ প্রায় 1.37 মিটার লম্বা। Cell-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে কোষ বা
জীবকোষ।
রবার্ট হুক প্রকৃতপক্ষে মৃত কোষ তথা কেবল প্রকোষ্ঠই দেখেছিলেন। সম্পূর্ণ কোষের বর্ণনা তিনি না দিলেও এ
কিছুটা উন্নতি সাধিত
ডাচ (Dutch) বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহক (Antony Van Leeuwenhock) প্রথম ১৬৭৪ সালে কোষপ্রাচীর ছাড়াও
ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কোষীয় দ্রব্যসহ জীবিত কোষ পর্যবেক্ষণ করেন।
১৭৮১ সালে ফেলিস ফন্টানা (Felice Fontana) কোষের
মধ্যে নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব অনুমান করলেও ১৮৩৩ সালে রবার্ট ব্রাউন (Robert Brown) সর্বপ্রথম উদ্ভিদকোষে সুস্পষ্ট
গোলাকার নিউক্লিয়াস-এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
১৮৩৫ সালে ফরাসি কোষবিদ ফেলিক্স ডুজারডিন (Felix Dujardin)
কোষের মধ্যে একধরনের জেলির ন্যায় থকথকে পদার্থকে সারকোড (Sarcode) নামে আখ্যায়িত করেন।
১৮৪০ সালে
পার্কিনজে (Johannes Purkinje) ঐ তরল সজীব পদার্থের নাম দেন প্রোটোপ্লাজম।
১৯৩১ সালে জার্মান বিজ্ঞানীদ্বয় ম্যাক্স
নল (Max Knol) ও আর্নেস্ট রাস্কা (Ernst Ruska) কর্তৃক ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র আবিষ্কার এবং এর উন্নতি সাধনের পর
কোষ ও কোষীয় অঙ্গাণুর অতিসূক্ষ্ম (ultra) গঠন জানা গেছে।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানী কোষের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান
করেছেন।
Jean Brachet (1961) এর মতে- 'কোষ হলো জীবের গঠনগত মৌলিক একক।'
Loewy and Siekevitz (1963) এর মতে- 'কোষ হলো' জৈবিক ক্রিয়াকলাপের একক যা একটি অর্ধভেদ্য ঝিল্লি
দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং যা অন্য কোনো সজীব মাধ্যম ছাড়াই আত্ম-প্রজননে সক্ষম।'
C. P. Hickman (1970) এর মতে- 'কোষ হলো জৈবিক গঠন ও কার্যের একক এবং এটিই ন্যূনতম জৈবিক একক
যা নিজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রজননে সক্ষম।'
De Roberties (1979) এর মতে- 'কোষ হলো জীবের মৌলিক গঠনগত ও কার্যগত একক।'
প্রথম কোষের সৃষ্টি
১৮৮০ দশক থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় যে, পূর্ব থেকে বিরাজমান
কোষ থেকেই নতুন কোষের সৃষ্টি (Cells come from pre-
existing cells)।
কিন্তু বহু পূর্বে পৃথিবীতে যখন কোনো কোষই
ছিল না, তাহলে Pre-existing cell এলো কোথা হতে? প্রথম
কোষ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?
Alexander Oparin এবং J.B.S. Haldane (1920) বলেন
যে আদিকালের বায়ুমণ্ডলে মিথেন $(CH_{4})$, অ্যামোনিয়া $(NH_{3})$,
হাইড্রোজেন $(H_{2})$ এবং পানি (জলীয় বাষ্প, $H_{2}O$) ছিল কিন্তু মুক্ত
$O_{2}$ ছিল না।
এসব গ্যাসসমূহের পরস্পর ঘর্ষণের ফলে কোনো
জৈব অণু সৃষ্টি হয়েছে।
Stanley Miller এবং Harold Urey (1953) গবেষণাগারে
উপরিউক্ত গ্যাসসমূহ একত্রে করে ইলেক্ট্রিক প্রবাহ প্রদান করেন
যার ফলে অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি হয়েছিল।
অনেকেই মনে করেন আদি জীবন সম্ভবত সরল RNA ছিল,
যা থেকে পরে প্রোটিন তৈরি হয়েছিল।
এ ধারণা RNA-World
হাইপোথেসিস নামে পরিচিত।
water vapour
ammonia
(NH3)
methane (CH4) electrode
hydrogen
Condenser
(H2)
cold
water in
cooled water containin
organic compounds
sample taken for
chemical analysis
Miller এবং Urey এর যন্ত্র ও অ্যামিনো অ্যাসিড সৃষ্টি