গ. নিষ্ক্রিয় অঙ্গসমূহ (Vestigeal organs)
যেসব অঙ্গ একসময় পূর্বপুরুষের দেহে সুগঠিত ও কার্যক্ষম ছিল, কিন্তু পরবর্তী পুরুষের দেহে গুরুত্বহীন, অগঠিত এবং অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, তাদেরকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। এসব অঙ্গ বিবর্তনের সম্বন্ধপরতায় আবদ্ধ অন্য প্রাণিদের সদৃশ অঙ্গের তুলনায় ক্ষুদ্রাকার বা অগঠিত। প্রাণিজগতে এ ধরনের নিষ্ক্রিয় অঙ্গের সংখ্যা অগণিত। মানবদেহে প্রায় শতাধিক নিষ্ক্রিয় অঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিচে এদের কয়েকটি উল্লেখ করা হলো-
১. লোম: মানুষের গায়ের লোম একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ। কখনও কখনও হঠাৎ করে লোমশ শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এতে অনেকের ধারণা, মানুষ এখনও তার পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।
২. উপপল্লব (Nictitating membrane) : এটি চোখের ভিতরের দিকের কোণায় ত্বকের একটি ক্ষুদ্র নিষ্ক্রিয় ভাঁজ হিসেবে অবস্থান করে। কিন্তু ব্যাঙ, পাখি প্রভৃতি প্রাণীতে এটি তৃতীয় চোখের পাতারূপে সুগঠিত ও কার্যকরী থাকে।
৩. আক্কেল দাঁত: মানুষের আক্কেল দাঁত অন্যান্য দাঁতের সাথে উঠেনা। অনেক পরে এ দাঁত গজায় কিন্তু কার্যকরী না হওয়ায় এটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গরূপে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এটি গজায়ও না।
https://1.com/img.jpg
সুপিরিয়র অরিকুলার পেশি
https://1.com/img.jpg
↑
পশ্চাৎ
অরিকুলার পেশি
সম্মুখ অরিকুলার পেশি
সিকাম
অ্যাপেন্ডিক্স-
স্যাক্রাম
ক্ষুদ্রান্ত্র
চোখের নিকটিটেটিং ঝিল্লি
কানের দেশি
পৌষ্টিকনালির অ্যাপেন্ডিক্স
চিত্র ১১.২.১০: মানবদেহের নিষ্ক্রিয় অঙ্গসমূহ
লেজসহ ভূমিষ্ঠ মানব শিশু
পুচ্ছাস্থি
৪. কানের পেশি: মানুষের বহিঃকর্ণের পাশে তিনটি করে নিষ্ক্রিয় পেশি থাকে। কিন্তু এ পেশিগুলো অন্যান্য স্তন্যপায়ীতে সুগঠিত ও কার্যকরী। পেশিগুলোর সাহায্যে ঐসব প্রাণী শব্দ তরঙ্গকে ধরার জন্য কান নাড়াতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের এ পেশিগুলোও সুগঠিত হতে পারে।
৫. পুচ্ছাস্থি বা কফিক্স (Coccyx): বানর, শিম্পাঞ্জি, গরু প্রভৃতি স্তন্যপায়ী প্রাণিদের লেজ আছে। কিন্তু স্তন্যপায়ী প্রাণী মানুষের কোনো লেজ নেই, তবে মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে কক্কিক্স নামক লেজের অনুরূপ লুপ্তপ্রায় একটি অঙ্গ আছে। অনেক সময় লেজসহ মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হতে দেখা যায়।
৬. অ্যাপেন্ডিক্স (Appendix): কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীতে বৃহদন্ত্রের সাথে যুক্ত আঙ্গুলের মতো একটি অ্যাপেন্ডিক্স থাকে। গিনিপিগ, খরগোশ ইত্যাদি তৃণভোজী প্রাণীতে অ্যাপেন্ডিক্স সুগঠিত ও কার্যকর। কিন্তু মানুষ ও অন্যান্য মাংসাশী স্তন্যপায়ীতে এটি বিলুপ্তপ্রায় ও অকার্যকর।