সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

রাইবোসোমের প্রকারভেদ ও গঠন

B_1st_hasan_biology_haters_1_18.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_1_18.jpg

১৮
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
রাইবোসোম। ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং নিউক্লিওপ্লাজমে রাইবোনিউক্লিও-প্রোটিন কণা (Ribonucleo-protein
particle-RNP) নামক ক্ষুদ্রাকার রাইবোসোম আবিষ্কৃত হয়েছে।
সাইটোপ্লাজমে এককভাবে অবস্থানকারী রাইবোেসামকে বলা হয় মনোসোম। mRNA-র ওপর সারিবদ্ধভাবে থাকা
রাইবোসোমকে বলা হয় পলিরাইবোসোম বা পলিসোম।
সাইটোপ্লাজমে অবস্থানকারী রাইবোসোমকে সাইটোরাইবোসোম
এবং মাইটোকন্ড্রিয়াতে অবস্থানকারী রাইবোসোমকে মাইটোরাইবোসোম বলা হয়।
প্রকারভেদ: আকার ও সেডিমেন্টেশন সহগ (কো-এফিসিয়েন্ট) হিসেবে রাইবোসোম মূলত 70 S এবং 80 S-এ দু
প্রকার।
70 S রাইবোসোম (আণবিক ওজন $2.7 \times 10^{6}$ ডাল্টন) থাকে আদিকোষী জীবে।
আর 80 S রাইবোসোম (আণবিক
ওজন
$40\times10^{6}$ ডাল্টন) থাকে প্রকৃতকোষী জীবে।
70 রাইবোসোম, 50 S এবং 30 এ দু' সাব-ইউনিটে বিভক্ত থাকে।
80 S রাইবোসোম, 60 S এবং 40 S এ দু' সাব-ইউনিটে বিভক্ত থাকে।
প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় আদিকোষে 50 S ও
30 S সাব-ইউনিট একত্রিত হয়ে 70 S একক গঠন করে এবং প্রকৃত কোষে 60 S ও 40 S সাব-ইউনিট একত্রিত হয়ে 80$
একক গঠন করে।
এ ছাড়া 77 S রাইবোসোমের উপস্থিতি ছত্রাকে আছে বলে জানা গেছে।
স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাইটোকন্ড্রিয়ায়
55 S রাইবোসোম থাকে বলে জানা যায়। কোনো বস্তুকে সেন্ট্রিফিউজ করলে তলায় তার অধঃক্ষেপ জমা হয়।
সেন্ট্রিফিউজ করা
কালে বিভিন্ন ভরসম্পন্ন বস্তুর অধঃক্ষেপণের হারকে দিয়ে বোঝানো হয়। S = Svedberg unit = ভেদবার্গ একক;
সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রের
দ্রুত ঘূর্ণন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ভরসম্পন্ন বস্তুর অধঃক্ষেপণের হারকে ভেদবার্গ একক বলে।
সুইডিস প্রাণ-রসায়নবিদ Theodor Svedberg
এর নামের প্রথম অক্ষর S দিয়ে তা বোঝানো হয়ে থাকে।]
আকৃতি ও ভৌত গঠন: এরা প্রধানত উপ-বৃত্তাকার তবে দু'পাশ থেকে সামান্য চ্যাপ্টা। এটি চওড়ায় 22 nm এবং
উচ্চতায় 20 nm।
রাইবোসোম প্রধানত বহু প্রকার প্রোটিন ও rRNA দিয়ে তৈরি। রাইবোসোমের বহু প্রোটিন মূলত
এনজাইম।
J. A. Luke প্রদত্ত গঠন মডেল অনুসারে ছোটো উপ-এককটিতে মস্তক. পাদদেশ এবং মঞ্চ-এ তিনটি অংশ থাকে।
বড়ো উপ-এককটিতে চূড়া, বৃন্ত এবং কেন্দ্রীয় স্ফীত অংশ-এ তিনটি অংশ থাকে।
mRNA অণু রাইবোসোমের সাথে যুক্ত হলে tRNA-র সহায়তায় অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে পলিপেপটাইড তথা প্রোটিন
সংশ্লেষিত হয়। রাইবোসোমে ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়া ঘটে।
এর ফলে প্রোটিন তৈরি হয়। রাইবোসোম mRNA এর নির্দেশ
অনুযায়ী tRNA এর সহায়তায় প্রোটিন তৈরি করে।
প্রোটিন অসংখ্য অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত বৃহদাকার জৈব
রাসায়নিক পদার্থ। এটি জীবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাভাবিক অবস্থায় রাইবোসোমে সাব-ইউনিটগুলো পৃথক থাকে। কেবলমাত্র প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় এরা একত্রিত
হয়।
এ সময় রাইবোসোমে ৪টি স্থান লক্ষ্য করা যায়। এগুলো হলো অ্যামাইনোঅ্যাসাইল বা A স্থান, পেপটাইডিল বা P
স্থান, নির্গমন বা E স্থান এবং mRNA সংযুক্তি স্থান।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু'য়ের অধিক রাইবোসোম একটি mRNA সূত্র দ্বারা
সংযুক্ত হয়ে পলিরাইবোসোম (Polyribosome) বা পলিসোম (Polysome) গঠন করে।
রাসায়নিক গঠন: রাইবোসোমের প্রধান উপাদান হচ্ছে প্রোটিন ও RNA এদের অনুপাত প্রায় ১।
70 S
রাইবোসোমে রয়েছে 23 S, 16 S ও 5 S মানের ৩টি rRNA অণু এবং ৫২ প্রকারের প্রোটিন অণু।
অপরদিকে 80 S
রাইবোসোমে রয়েছে 28 S, 18 S, 5.8 S ও 5 S মানের ৪টি rRNA অণু এবং ৮০ প্রকারের প্রোটিন অণু।
এছাড়া এতে
২-৩ ধরনের RNAase এনজাইম এবং অল্প পরিমাণে ধাতব আয়ন, যেমন-Mg, Ca ও Mn ইত্যাদি থাকে।
আদি কোষের রাইবোসোম রাসায়নিকভাবে পৃথক ধরনের, তাই টেট্রাসাইক্লিন বা স্ট্রেস্টোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যাকটেরিয়ার
প্রোটিন সংশ্লেষ বন্ধ করে দিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে কিন্তু মানবদেহের প্রোটিন সংশ্লেষণে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না।
উৎপত্তি: আদিকোষে DNA (আদি ক্রোমোসোম) থেকে উৎপন্ন হয় কিন্তু প্রকৃতকোষে সাব-ইউনিট দু'টি পৃথকভাবে
নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে তৈরি হয় এবং পরে সাইটোপ্লাজমে চলে আসে।
পলিপেপটাইড তৈরি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সাব-
ইউনিট পৃথক থাকে।
রাইবোসোমের কাজ: রাইবোসোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ (তৈরি) করা। তাই রাইবোসোমকে কোষের
প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
প্রোটিন সংশ্লেষণের শুরুতে mRNA আদিকোষের 30 S এবং প্রকৃতকোষের 40 S সাব-ইউনিটের
সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
এরপর আদিকোষে 30 S এর সাথে 50 S মিলে 70 S একক গঠন করে এবং প্রকৃত কোষে 40 S
এর সাথে 60 S সাব-ইউনিট এসে একত্রিত হয়ে ৪০ একক গঠন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ শুরু হয়।
এরা সাইটোক্রোম
উৎপন্ন করে যারা কোষীয় শ্বসনে ইলেকট্রন পরিবহণ করে। গ্লুকোজের ফসফোরাইলেশন এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক
রাইবোসোমে সংঘটিত হয়।
mRNA কে নিউক্লিয়েজ এনজাইম ও নতুন পলিপেপটাইড চেইনকে প্রোটিওলাইটিক
এনজাইমের যেকোনো ক্ষতিকর ক্রিয়া থেকে সুরক্ষা করে।