৬৮
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
আধুনিক ধারণা মতে, জিনকে বিভিন্ন এককরূপে প্রকাশ করা হয়। যেমন- রেকন, মিউটন, রেপ্লিকন ও সিসট্রন।
১। রেকন (Recon): এটি জিন রিকম্বিনেশন এর একক, DNA অণুর যে ক্ষুদ্রতম একক জেনেটিক রিকম্বিনেশনে অংশ গ্রহণ করে তাকে রেকন বলে। রেকন এক অথবা দুই জোড়া নিউক্লিওটাইড দিয়ে গঠিত।
২। মিউটন (Muton): একে জিন মিউটেশনের একক বলা হয়। DNA অণুর যে ক্ষুদ্রতম অংশে মিউটেশন সংঘটিত হয়, তাকে মিউটন বলে।
এক বা একাধিক নিউক্লিওটাইড যুগল নিয়ে মিউটন গঠিত হয়ে থাকে।
৩। রেপ্লিকন (Replicon): DNA-এর যে অংশ DNA-এর অনুলিপন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে রেপ্লিকন বলে অর্থাৎ এটি রেপ্লিকেশন এর একক।
৪। সিট্রন (Cistron): জিন কার্যের একক। DNA অণুর যে খণ্ডাংশ কোষীয় বস্তুর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে সিসট্রন বলে।
Escherichia coli ব্যাকটেরিয়ার একটি সিসট্রনে প্রায় ১৫০০টি নিউক্লিওটাইড যুগল থাকে। প্রতিটি সিট্রনে অনেক রেকন ও মিউটন থাকে।
তাই রেকন ও মিউটন অপেক্ষা সিট্রনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিন ও সিসট্রন প্রায় সমতুল্য (equivalent) অর্থ বহন করে।
এজন্য DNA এর কার্যকরী একককে বলা হয় সিসট্রন।
জিন হলো ক্রোমোসোমের লোকাসে অবস্থিত DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকোয়েন্স যা জীবের একটি নির্দিষ্ট 'কার্যকর সংকেত' আবদ্ধ (encode) করে এবং প্রোটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়।
অন্যভাবে বলা যায়, জিন ক্রোমোসোমন্থ DNA-এর একটি অংশ যা একটি কর্মক্ষম পলিপেপটাইড শিকল গঠনের উপযুক্ত বার্তা বহন করে।
সহজ কথায়, জিন হলো কোন ক্রোমোসোমের সুনির্দিষ্ট অবস্থানে DNA অণুর একটি অংশ যা একটি হেরিটেবল বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
জিনের বৈশিষ্ট্যাবলি
i. জিন নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত।
ii. এরা প্রকৃতকোষের ক্রোমোসোমে অবস্থান করে এবং আদিকোষের নিউক্লীয় বস্তু বা প্লাসমিডে অবস্থান করে।
iii. এটি জীবের প্রকরণ (variety) এবং পরিব্যক্তিতে (mutation) মুখ্য ভূমিকা রাখে।
iv. জিন জীবের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমিকভাবে বহন করে।
v. জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য এক বা একাধিক জিন দায়ী।
vi. একটি ক্রোমোসোমে অসংখ্য জিন থাকে। জিন ক্রোমোসোমে রৈখিক সজ্জাক্রমে (linearly arranged) বিন্যস্ত থাকে।
বিভিন্ন ধরনের জিন
• লিথাল জিন (Lethal gene): যে জিনের বহিঃপ্রকাশের কারণে জীবের মৃত্যু হয় তাকে লিথাল জিন বলে।
• অঙ্কোজিন (Oncogene): যে জিনের কারণে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি হয় তাকে অঙ্কোজিন বলে।
• সেক্স-ক্রোমোসোমাল জিন (Sex-chromosomal gene): সেক্স (X, Y)-ক্রোমোসোম যেসব জিন বহন করে তাদের সেক্স- ক্রোমোসোমাল জিন বলে। যেমন- হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা ইত্যাদি।
• ট্রান্স জিন (Trans gene): যে জিন কোনো উদ্ভিদকোষ বা প্রাণিকোষ থেকে নিয়ে অন্য কোনো প্রজাতির উদ্ভিদ কোষ বা প্রাণিকোষে প্রতিস্থাপন করা হয় তাকে ট্রান্স জিন বলে।
• খণ্ডিত জিন (Split gene) : যে জিন ইনট্রন ও এক্সন সহযোগে গঠিত তাকে খণ্ডিত জিন বলে।
• সিউডো জিন (Pseudo gene) : DNA-এর যে অংশ নিষ্ক্রিয় থাকে বা জিনের যে অংশ থেকে কোনো পলিপেপটাইড তৈরি হয় না তাকে সিউডো জিন বলে।
☑ অটোজোমাল জিন: অটোজোম যেসব জিন ধারণ করে তাদের অটোজোমাল জিন বলে। যেমন- মানুষের মাথার টাক (বন্ডনেস), অ্যালবিনিজম।
হোলান্ড্রিক জিন: Y-ক্রোমোসোম যেসব জিন বহন করে সেগুলো হোলান্ড্রিক জিন। যেমন- মানুষের কানের লোম।
লিংকড জিন (Linked gene): যখন দুটি জিন কোনো ক্রোমোসোমে একই সঙ্গে অবস্থান করে কিন্তু স্বাধীনভাবে সঞ্চারিত হয় না তখন তাদেরকে বলা হয় লিংকড জিন
কোনো প্রজাতির কোষে বিদ্যমান সকল ধরনের এক সেট ক্রোমোসোমে বিদ্যমান সকল জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে।
জার্মান উদ্ভিদ বিজ্ঞানী Hans Winkler ১৯২০ সালে সর্বপ্রথম জিনোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
মানব জিনোমে প্রায় ৩০০০ মিলিয়ন ক্ষারক-যুগল (base pairs) থাকে যা 24 $(22A+1X+1Y)$ টি ক্রোমোসোমে বণ্টিত থাকে। সব মানুষের