
*
কোষ ও এর গঠন
১৭
- ২। জীবনের স্পন্দন: যেকোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া কেবলমাত্র জলীয় মাধ্যমেই সম্ভব।
সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত প্রচুর
পরিমাণ পানি এবং এতে দ্রবীভূত অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য বিপাকীয় কার্যকলাপ চালু রেখে জীবনের অস্তিত্ব প্রকাশ করে।
পানির অভাবে কোষ তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এমনকি মারাও যেতে পারে।
৩। সালোকসংশ্লেষণ: স্বভোজী জীবকোষের সাইটোপ্লাজমের ক্লোরোপ্লাস্টে যে বিপাক ঘটে তাতে শর্করা উৎপন্ন হয়।
এ শর্করাই সমগ্র জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য।
৪। প্রোটিন সংশ্লেষণ: জীবদেহ গঠনে প্রোটিন এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।
আর এ প্রোটিন তৈরির
কারখানা হিসেবে কাজ করে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু- রাইবোসোম।
৫। নিউক্লিক অ্যাসিড সংশ্লেষ: আদিকোষে নিউক্লিক অ্যাসিডের সংশ্লেষ সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।
৬।
লিপিড বিপাক: সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত মাইক্রোবডিজ ও মাইটোকন্ড্রিয়া লিপিড বিপাকে সহায়তা করে।
The following table:
"প্রোটোপ্লাজম
","সাইটোপ্লাজম
"
"কোষের সমুদয় সজীব অংশকে বলা হয় প্রোটোপ্লাজম
প্রোটোপ্লাজম জীবনের ভৌত ভিত্তি।
১।
২। প্রোটোপ্লাজম কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস-এ
তিন অংশে বিভেদিত।
৩। প্রোটোপ্লাজম নিউক্লিয়াসযুক্ত, তাই বংশগতির ধারক ও
বাহক।
","১। নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষঝিল্লি দিয়ে
পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমের অংশ হলো সাইটোপ্লাজম।
সাইটোপ্লাজম দুটি অংশে বিভক্ত; যথা-সাইটোপ্লাজমীয়
২।
অঙ্গাণু ও মাতৃকা। এটি প্রোটোপ্লাজমেরই এক অংশ।
৩। সাইটোপ্লাজম নিউক্লিয়াসবিহীন, তাই সাধারণত বংশগতির
ধারক ও বাহক নয়।
"
"৪। জীবনের আধার হিসেবে কাজ করে
","কতিপয় অঙ্গাণুর আধার হিসেবে কাজ করে
৪।
"
প্রোটোপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে পার্থক্য*
।
।
।
সাইটোপ্লাজমে বিরাজমান অঙ্গাণুসমূহ
কোষের সাইটোপ্লাজমে উপস্থিত ঝিল্লিযুক্ত ও ঝিল্লিবিহীন যেসব ক্ষুদ্র অংশগুলো বিভিন্ন প্রকার শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন
করে তাদের সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বা কোষীয় অঙ্গাণু বলে।
সাইটোপ্লাজমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু বিরাজ করে। নিচে
সাইটোপ্লাজমের প্রধান প্রধান অঙ্গাণুর বিবরণ উপস্থাপন করা হলো:
১। রাইবোসোম (Ribosome)
mRNA
-40S সাব-ইউনিট
tRNA
সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন
সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম।
রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায়
গোলাকার। সাধারণত অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের উভয় দিকে
এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত থাকে।
যে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের হার
বেশি সে কোষে বেশি সংখ্যক রাইরোসোম থাকে। সাইটোপ্লাজমে মুক্ত
অবস্থায়ও রাইবোসোম থাকে।
70 S রাইবোসোম আদি কোষের একটি
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই।
ও
সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান
করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে।
E. coli-এর কোষে 60 S সাব-ইউনিট
এদের সংখ্যা প্রায় ২০,০০০ এবং শুষ্ক ওজনের প্রায় ২২%।
আদিকোষ ও
প্রকৃতকোষ-এ উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে
রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়।
নতুন প্রোটিন
চিত্র ১.৭: (প্রকৃতকোষের) রাইবোসোম: দুই সাব-ইউনিট এবং
mRNA ও RNA এর সম্ভাব্য অবস্থান দেখানো হয়েছে।
আবিষ্কার: অ্যালবার্ট কুড (Albert Claude, 1899-1983) নামক একজন বিজ্ঞানী ১৯৫৪ সালে যকৃত কোষের
সাইটোপ্লাজমকে সেন্ট্রিফিউজ করে RNA সমৃদ্ধ ৬০০-২০০০ (৬০-২০০ nm) ব্যাসবিশিষ্ট বহু ক্ষুদ্রকণা পৃথক করেন
এবং নাম দেন মাইক্রোসোম।
এরপর রোমানিয়ান কোষ বিজ্ঞানী জর্জ প্যালেড (George Palade) ১৯৫৫ সালে কোষের
ভারী পদার্থরূপে রাইবোসোম আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
পরবর্তীতে ইলেক্ট্রন আণুবীক্ষণিক চিত্রে মাইক্রোসোমের দুটি
অংশ পৃথকযোগ্য দেখা যায়- একটি হলো অন্তঃপ্লাজমীয় ঝিল্লি এবং অপরটি হলো ক্ষুদ্রাকার কণা।
এ কণাই হলো
'জীব-১ম (হাসান)-৩