100%
কোষ বিভাজন
৮৭
মাইটোসিসের গুরুত্ব বা তাৎপর্য বা প্রয়োজনীয়তা (Significance of Mitosis) (headlines important)
জীবদেহে মাইটোসিস প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
নিচে মাইটোসিস প্রক্রিয়ার গুরুত্ব উপস্থাপন করা হলো।
১। দেহ গঠন ও দৈহিক বৃদ্ধি: বহুকোষী জীবে জাইগোট নামক একটি মাত্র কোষের মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে
বহুকোষী জীবদেহ গঠিত হয় এবং এর দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে
২। বংশবৃদ্ধি: কতক এককোষী সুকেন্দ্রিক (eukaryotic) জীবে মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে (যেমন-
Chlamydomonas)।
৩। জননাঙ্গ সৃষ্টি ও জনন কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি: মাইটোসিস বিভাজনের ফলেই বহুকোষী জীবের জননাঙ্গ সৃষ্টি হয়,
ফলে বংশবৃদ্ধির ক্রমধারা বজায় রাখতে পারে।
জনন কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হলে এ প্রক্রিয়া আবশ্যক।
৪। নির্দিষ্ট আকার-আয়তন রক্ষা: এ বিভাজন প্রক্রিয়ার ফলে কোষের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি, আয়তন ইত্যাদি
গুণাগুণবজায় থাকে।
৫। নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের ভারসাম্য রক্ষা সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ (অঙ্গাণু) ও রাসায়নিক
উপাদানের সাহায্যে নিউক্লিয়াস কোষের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি
কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার পরিমাণগত ও নিয়ন্ত্রণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
৬। ক্রোমোসোমের সংখ্যার সমতা রক্ষা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কারণে দেহের সব দেহকোষে সমসংখ্যক ও
সমগুণ সম্পন্ন ক্রোমোসোম থাকে।
৭। ক্ষতস্থান পূরণ: বহুকোষী জীবদেহে সৃষ্ট যেকোনো ক্ষতস্থান মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূরণ
হয়।
৮। ক্রমাগত ক্ষয়পূরণ: জীবকোষে কিছু কিছু কোষ আছে যাদের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট।
এসব কোষ বিনষ্ট হলে মাইটোসিস
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এদের পূরণ ঘটে।
41
৯। পুনরুৎপাদন: কিছু কিছু অতিপ্রয়োজনীয় কোষের জীবনকাল অতি সীমিত (যেমন- মানুষের লোহিত রক্তকোষ,
কর্নিয়ার বাইরের কোষ)। এগুলো ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে এ কোষগুলোর পুনরুৎপাদন ঘটে।
১০। গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এ প্রকার বিভাজনের ফলে জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা
বজায় থাকে।
১১। অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস-এর কুফল: অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস-এর ফলে টিউমার, ক্যান্সার সৃষ্টি ইত্যাদি হয়।
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস
কোষের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন ফ্যাক্টর দ্বারা মাইটোসিস নিয়ন্ত্রিত হয়।
কোনো কারণে এ নিয়ন্ত্রণ অকার্যকর হলে
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস ঘটে থাকে, ফলে টিউমার ও ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
ক্যান্সার অর্থ হলো 'crab' অর্থাৎ কাঁকড়া। ক্যান্সার
কোষ আশপাশে ছড়িয়ে গেলে কাঁকড়ার সাঁড়াসি পায়ের মতোই দেখায়।
ক্যান্সার কোষে সাইক্লিন-CDK এর নিয়ন্ত্রণ বিনষ্ট
হয়ে যায়। P53 নামক প্রোটিন সাধারণত কোষকে বিভাজন হতে বিরত রাখায় ভূমিকা রাখে।
এটি defective হলে (মানুষের
প্রায় অর্ধেক সংখ্যক কোষেই defective আছে) কোষ চক্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
এর ফলে ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। মানুষের
অধিক হারে ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবত এটি একটি কারণ।
কোষ বিভাজনের জন্য কিছু গ্রোথ ফ্যাক্টর কাজ করে। ক্যান্সার
কোষ তাদের গ্রোথ ফ্যাক্টর নিজেরাই তৈরি করে নেয়, অথবা বিভাজনের জন্য এদের কোনো গ্রোথ ফ্যাক্টর লাগে না।
কোষ
চক্র নিয়ন্ত্রণকারী দুধরনের প্রোটিন হচ্ছে-প্রোটিন কাইনেজ ও সাইক্লিন। টিউমার সৃষ্টি হওয়াকে বলা হয় Oncogenesis।
কোষ চক্র বিনষ্টকারী জিন হলো Oncogene. যেসব রাসায়নিক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টিতে উৎসাহিত করে তা হলো
Mutagens।
মিউটাজিনিক পদার্থই Carcinogenic (ক্যান্সার সৃষ্টিকারক) হয়। দেহের বিভিন্ন অংশে টিউমার ছড়িয়ে পড়া
হলো Metastasis।
বিভিন্ন প্রকার প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার তৈরি করে। এ ভাইরাসের B₁ ও B, জিন দুটি ক্যান্সার
তৈরি করে।
কোষের মৃত্যু: বহুকোষী জীবদেহে প্রতিদিন অনেক কোষের মৃত্যু ঘটে। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে তা পূরণ করতে
হয়।
মানবদেহে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কোষের মৃত্যু ঘটে। দুটি উপায়ে কোষে মৃত্যু ঘটে। একটি হলো Necrosis, অপরটি
হলো Apoptosis.
CS CamScanner