সকল কন্টেন্টে ফিরে যান

১.১ কোষ প্রাচীর (Cell Wall)

B_1st_hasan_biology_haters_1_10.jpg
ইমেজ: B_1st_hasan_biology_haters_1_10.jpg



আমানজ্ঞাקירו
১.১ কোষ প্রাচীর (Cell Wall)
প্রতিটি উদ্ভিদকোষ একটি অপেক্ষাকৃত শক্ত ও জড় আবরণ দিয়ে আবৃত থাকে। এ জড় ও শক্ত আবরণকে কোষ প্রাচীর
বলে।
কোষ প্রাচীর উদ্ভিদকোষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উদ্ভিদকোষে মধ্যপর্দা এবং কোষঝিল্লির (প্লাজমামেমব্রেন) মাঝখানে
জড় কোষ প্রাচীরের অবস্থান।
ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকেও কোষ প্রাচীর আছে। কোষঝিল্লির বাইরে জড় প্রাচীরের অবস্থান।
প্রাণিকোষে কোষ প্রাচীর থাকে না।
ভৌত গঠন (Physical structure): একটি বিকশিত কোষ প্রাচীরকে প্রধানত তিনটি ভিন্ন স্তরে (layers) বিভক্ত দেখা
যায়।
এর প্রথম স্তরটি হলো মধ্যপর্দা (middle lamella)। মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ (telophase) পর্যায়ে
এর সূচনা ঘটে।
সাইটোপ্লাজম থেকে আসা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট (phragmoplast) এবং গলগি বডি থেকে আসা পেকটিন জাতীয়
ভেসিকলস্ (vesicles or droplets) মিলিতভাবে মধ্যপর্দা সৃষ্টি করে।
মধ্যপর্দায় পেকটিক অ্যাসিড বেশি থাকার কারণে এটি
প্রথম দিকে জেলির মতো থাকে।
কোষ প্রাচীরের যে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান
করে তার নাম মধ্যপর্দা।
এর প্রধান কাজ পাশাপাশি দুটি কোষকে শক্ত করে ধরে রাখা। এটি বিগলিত হয়ে গেলে দুটি কোষ
মধ্যপর্দা
প্রাথমিক প্রাচীর
ক্লোরোপ্লাস্ট
সাইটোপ্লাজম
সেকেন্ডারি প্রাচীর
কোষগহ্বর
প্লাজমামেমব্রেন
নিউক্লিয়া??
মাইটোকন্ড্রিয়ন
মধ্যপর্দা
- প্রাথমিক প্রাচীর
সেকেন্ডারি প্রাচীর
পিট পেয়ার
(কূপ এলাকা)
পিট মেমব্রেন
এবং
পিট পেয়ার
চিত্র ১.৩ (ক): একটি উদ্ভিদকোষ ও তার জড় প্রাচীর।
পিট মেমব্রেন
চিত্র ১.৩ (খ): কোষ প্রাচীরের গঠন।
পৃথক হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্তরটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর (primary wall)।
মধ্যপর্দার দু'পাশে সেলুলোজ (cellulose),
হেমিসেলুলোজ (hemicellulose) এবং গ্লাইকোপ্রোটিন (glycoprotein) ইত্যাদি জমা হয়ে একটি পাতলা স্তর (১-৩ µm
পুরু) তৈরি হয়।
এটিই প্রাথমিক প্রাচীর। কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান সেলুলোজ। কোনো কোনো কোষে (যেমন- ট্রাকিড,
ফাইবার ইত্যাদি) প্রাথমিক প্রাচীরের অন্তঃতলে আর একটি স্তর তৈরি হয়।
এটি সাধারণত কোষের বৃদ্ধি পূর্ণাঙ্গ হবার পর ঘটে
থাকে। এ স্তরটি অধিকতর পুরু (৫-১০ µm)।
এতে সাধারণত সেলুলোজ এবং লিগনিন জমা হয়। এটি সেকেন্ডারি প্রাচীর
(secondary wall) বা তৃতীয় স্তর।
ভাজক কোষ এবং অধিক মাত্রায় বিপাকীয় অন্যান্য কোষে সেকেন্ডারি প্রাচীর তৈরি হয়
না। সেকেন্ডারি প্রাচীর তিন স্তরবিশিষ্ট হয়।
বিরল ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি প্রাচীরের ভেতরের দিকে টারশিয়ারি প্রাচীর (tertiary
wall) সৃষ্টি হতে পারে।
পাতা, ফল ও কর্টেক্স কোষে সাধারণত কেবল প্রাথমিক প্রাচীর থাকে। কোষ প্রাচীরের নিচেই
প্লাজমামেমব্রেনের অবস্থান।
কূপ এলাকা (Pit fields): মধ্যপর্দার ওপর মাঝে মাঝে প্রাচীর সৃষ্টি না হওয়ার কারণে যে সরু নলাকার গর্তের সৃষ্টি হয়
তাই হলো কূপ।
এটি হলো প্রাচীরের সবচেয়ে পাতলা (thin) এলাকা। দুটি পাশাপাশি কোষের কূপও একটি অপরটির
উল্টোদিকে মুখোমুখি অবস্থিত এবং কূপ দুটির মাঝখানে কেবল মধ্যপর্দা থাকে।
মধ্যপর্দাকে পিট মেমব্রেন (pit membrane)
বলে। মুখোমুখি বা পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কূপকে পিট পেয়ার (pit pair) বলে।
দুটি পাশাপাশি কোষের প্রাচীরের কূপ