৮৮
জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র
i. Necrosis: পুষ্টির অভাব হলে অথবা বিষাক্ত দ্রব্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোষ মরে যায়।
ii. Apoptosis: এটি হলো কোষের জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত মৃত্যু। কোনো কোষ জীবদেহ বা অঙ্গের জন্য এখন
প্রয়োজন নেই তাই এদের ধ্বংস হতে হয়।
যেমন মানুষের ভ্রূণাবস্থায় পাতলা টিস্যু দিয়ে হাতের সকল আঙ্গুল লাগানো
থাকে।
পরে মাঝখানের টিস্যু ধ্বংসের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে পাঁচটি আঙ্গুল পৃথক হয়।
একটি কোষ যত বেশি দিন বাঁচবে
ততই তা ক্ষতিগ্রস্ত (damage) হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় যা থেকে সহজেই ক্যান্সার হতে পারে।
তাই এদের ধ্বংস বা মৃত্যু
হওয়া দরকার। এটি সাধারণত আমাদের রক্ত এবং অস্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষের ব্যাপারে প্রযোজ্য, কারণ এরা প্রতিনিয়ত
উচ্চমাত্রার বিষাক্ত পদার্থে উন্মুক্ত হয়।
আমাদের দেহে প্রতিদিন যে লক্ষ লক্ষ কোষের মৃত্যু হয়, তার অধিকাংশই রক্ত কোষ
ও অস্ত্রের এপিথেলিয়াম লাইনিং-এর কোষ।
মাইটোটিক ইনডেক্স (Mitotic index): কোনো টিস্যুর মোট কোষ সংখ্যা এবং মাইটোসিসরত কোষ সংখ্যার অনুপাত
হলো মাইটোটিক ইনডেক্স (MI)।
মাইটোটিক ইনডেক্স
MI = মোট কোষ সংখ্যা
চিকিৎসকের জন্য MI প্রয়োজন পড়ে। MI থেকে চিকিৎসক অনুমান করতে পারেন টিউমার কত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাবে
এবং এর জন্য কী ধরনের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন।
উচ্চ MI বলে দেয় এটি দ্রুত বর্ধনশীল টিউমার।
Charct
100%
| পার্থক্যের বিষয় | অ্যামাইটোসিস | মাইটোসিস |
| ১। দশা বা পর্যায় ২। নিউক্লিয়াসের বিভাজন | এটি সরল প্রকৃতির। কোষ বিভাজনে-এর কোনো দশা বা পর্যায় নেই। এ বিভাজনে নিউক্লিয়াস সরাসরি বিভাজিত হয় | এটি তুলনামূলকভাবে জটিল ও ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া। এর বিভিন্ন দশা রয়েছে। এ বিভাজনে নিউক্লিয়াস বিভিন্ন দশার মাধ্যমে বিভাজিত হয়। |
| ৩। বিভাজন প্রক্রিয়া | এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম প্রায় একত্রে বিভাজিত হয়। | এক্ষেত্রে প্রথমে নিউক্লিয়াসের (ক্যারিও- কাইনেসিস) এবং পরে সাইটোপ্লাজমের- (সাইটোকাইনেসিস) বিভাজন ঘটে। |
| ৪। ফলাফল | এর মাধ্যমে এককোষী জীবেরা বংশবিস্তার ঘটায়, দৈহিক বৃদ্ধিতে এর কোনো ভূমিকা নেই। | এর মাধ্যমে এককোষী জীবদের বংশবিস্তার এবং বহুকোষী জীবদেহে বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ প্রভৃতি ঘটে। |
| ৫। বিভাজনের প্রকৃতি | এ বিভাজনকে প্রত্যক্ষ বিভাজন বলে | এ বিভাজনকে পরোক্ষ বিভাজন বলে |
| ৬। উদাহরণ | ঈস্ট, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি এককোষী জীবদেহে অ্যামাইটোসিস দেখা যায়। | উন্নত উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে মাইটোসিস দেখা যায়। |
অ্যামাইটোসিস ও মাইটোসিসের মধ্যে পার্থক্য
।
।
।
৩। মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন
(Meiosis or Reductional Cell Division)
মায়োসিস কোষ বিভাজন ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে (অথবা হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে) ঘটে থাকে।
এ
বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস একটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে দু'বার বিভক্ত হয় এবং বিভক্তির ফলে সৃষ্ট চারটি কোষে
ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।
তাই এ প্রকার কোষ বিভাজনকে মায়োসিস বা
হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন বলে। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোসোম একবার বিভক্ত হয়।
যে কোষ বিভাজন
প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস পর পর দু'বার এবং ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভাজিত' হয়ে মাতৃকোষের ক্রোমোসোমের অর্ধেক
সংখ্যক ক্রোমোসোমযুক্ত চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে।
গ্রিক Meious (to lessen-
হ্রাস করা) হতে Meiosis শব্দের উদ্ভব ঘটে।
সহজভাবে বলা যায়, যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্যকোষ সৃষ্টি হয় এবং নতুন সৃষ্ট কোষের
ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায় তা-ই মায়োসিস।
CS CamScanner