বাসা নির্মাণ শেষ হলে পুরুষ মাছ উজ্জ্বল বর্ণ ধারণ করে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় স্ত্রী মাছকে আকৃষ্ট করে বাসায় ঢুকিয়ে
লেজটাকে ধাক্কা দিয়ে ডিম পাড়তে উদ্বুদ্ধ করে।
ডিম পাড়া শেষ হলে পুরুষ মাছ অতিদ্রুত বাসায় প্রবেশ করে
ডিমগুলোকে নিষিক্ত করে। একটি বাসায় দু-তিনটি স্ত্রীমাছ ডিম পাড়তে পারে।
এরপর পুরুষ মাছটি পিতা ও মাতা
উভয়ের ভূমিকা পালন করে ডিমের দেখা শোনা আরম্ভ করে।
(ক)
(খ)
(গ)
(ঘ)
চিত্র ১২.৫: তিন কাঁটা স্টিকলব্যাকের সুরক্ষিত নীড়ে ডিম ছাড়া
নীড় ও নীড়ের ভিতর থাকা নিষিক্ত ডিমগুলো থেকে সুস্থ পোনা উৎপাদন, রক্ষা, যত্ন নেওয়া ও সবশেষে নিরাপদে
পরিবেশে ফিরে যাওয়া অনুকূলে রাখতে পুরুষ মাছ সদাব্যস্ত থাকে।
এ সময় বাসার কাছে নিজ প্রজাতির সদস্যসহ
কোনো মাছ বা ক্ষতিকর প্রাণীর প্রবেশ রোধ করতে মাছ সদা তৎপর থাকে।
ডিম ফোটার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার
জন্য স্টিকলব্যাক এক অদ্ভুত আচরণ করে।
বাসায় প্রবেশ পথের সামনে মাথা নিচু করে তীর্যকভাবে অবস্থান নিয়ে
বক্ষপাখনা সামনের দিকে সঞ্চালিত করে।
এভাবে অক্সিজেন চাহিদা নিশ্চিত করতে পানিস্রোত অব্যাহত রাখে। এ
প্রক্রিয়ার নাম ফ্যানিং (fanning)।
সাত-আটদিনের মধ্যে ডিম ফুটে পোনা বেরিয়ে বাসা ত্যাগ করতে শুরু করলে ফ্যানিং বন্ধ করে দেয়।
পোনাগুলো
পাহারা দেওয়ার সময় স্টিকলব্যাক আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। পোনার দল অটুট রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কোনো কারণে
দলের কিছু পোনা দলছুট হলে পুরুষ মাছটি দ্রুত সেগুলোকে মুখে তুলে এনে মূলদলে ছেড়ে দেয়।
দুসপ্তাহ পর পোনা
দলবদ্ধ চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে অভিযত্ন ও সতর্কতার মধ্যে রেখে বড় করে তোলা ভবিষ্যৎ বংশধরগুলোকে
ছেড়ে নিজের পূর্ণবয়স্ক ঝাঁকে ফিরে যায়।
**ব্যাঙের অপত্য যত্ন**
ভবিষ্যৎ বংশধরের পরিস্ফুটন যেন নির্বিঘ্ন হয় সে উদ্দেশে সর্তক-সযত্নে বাসা নির্মাণ করে ডিম পাড়া কিংবা সদ্য
পরিস্ফুটিত বংশধর বেড়ে না উঠা পর্যন্ত পিতা-মাতার যে কোনো একজন বা উভয়কেই সঙ্গে থাকাকে অপত্য যত্ন বলে।
অপত্য যত্ন অন্যতম সহজাত প্রবৃত্তি যা প্রায় সব প্রাণিগোষ্ঠীতেই কম-বেশি দেখা যায়।
উভচরেও বিচিত্র অপত্য যত্নের
পরিচয় পাওয়া যায়, বিশেষ করে গ্রীষ্মমন্ডলীয় উভচরে এমন যত্নের উদাহরণ বেশি।
উভচরের অপত্য যত্নকে প্রধান দুটি
শিরোনামের অধীনে বর্ণনা করা হয়: (ক) বাসা, আঁতুরঘর বা আশ্রয় নির্মাণের মাধ্যমে যত্ন এবং (খ) ডিম বা লার্ভা
পরিবহনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ যত্ন।
নিচে গ্লেডিয়েটর ব্যাঙ নামে পরিচিত দক্ষিণ আমেরিকার (Hypsiboas rosenbergi) গেছো ব্যাঙের অপত্য যত্নের
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো।
ক
গ
ঘ
চিত্র ১২.৬: Hypsiboas rosenbergi: (ক) একটি পুকুর ব্যাঙ; (খ) পুরুষ ব্যাঙের স্বহস্তে বাসা নির্মাণ;
(গ) কর্দমাক্ত গর্ত নীড়ে পরিণত;
(ঘ) গবাদি পশুর পায়ের চাপে কর্দমাক্ত গর্তকে নীড়ে পরিণত করা।